-এবারের মতন আড্ডাতো শেষ।
নীল পরীকে বললেন আড্ডার উপস্থাপক।ভারাক্রান্ত মনে নীলপরী একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন।
-হ্যা! আমারও সময় হয়েছে বিদায় নেবার।
(ব্যাকগ্রান্ডে চলছে ….বিদায় দাওগো বন্ধু তোমারা এবার দাও বিদায়..)
-আরে কয় কি! তোমাকে ছাড়লেতো আমরা?এখনোতো তোমার আড্ডায় কেউ না কেউ উকিঁ দিচ্ছে।তুমি চলে গেলে উত্তর দিবে কে বলো শুনি? তাই তোমার যাওয়া চলবে না।
-না বন্ধু। তোমাদের সাথে আমরা বেশীক্ষণ থাকতে পারি না এটা আমাদের আইনে নেই তাই চলে যেতেই হবে এর কোন বিকল্প নেই।আমাকে বিদায় দাও।
-দিলেতো বন্ধু আইনের বারো হাত দেখাইয়া।তবে আমাদের মানে বাংলাদেশের একটা ঐতিহ্য আছে আর তা হল মেহমানদের বিদায়টাকে চির স্বরণীও করে রাখা।তাই এবারের আড্ডায় মর্ত্যের চির সূখী মানুষকে আমন্ত্রণ করব। সেই মানুষটিই তোমাকে বিদায়ে অভ্যার্থনায় ফুলের মালা দিয়ে সন্মানীত করবে।
-বলো কি বন্ধু! মর্ত্যের চির সূখী মানুষ! এ আবার কে? যার কোন দুঃখ নেই?এখন আর না দেখে বিদায় নিতে ইচ্ছে করছে না।
-ওকে ফাইন। এখন আমাকে একটু সাহায্য করতে হবে। তোমার সোনার কাঠি রূপোর কাঠির যাদুর সাহায্যে সেই লোকটির কাছে আমাকে একটু পৌছে দেবার ব্যাবস্থা করবে?
-সেই লোকটি কে?কি তার পেশা ? কোথায় থাকে? সব বলো আমি তোমাকে নিমিষেই সেখানে পৌছে দিচ্ছি।

-পৃথিবীতে সব চেয়ে বেশী কষ্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ কাজটি হল মানুষ হাসানোর কাজ। যে মানুষটির মন সদা হাস্যজ্জ্বোল থাকে তার জীবনে দুঃখ কষ্ট বলে কিছু থাকে না।শত দুঃখ কষ্টেও যিনি হাসতে জানেন হাসাতে পারেন তিনি অমর মরনশীল হয়ে থাকে মর্ত্যের মানুষদের হৃদয়ে।সেই হাসির রাজা রসিক রাজা জ্ঞানের রাজা- নাম তার…
“গোপাল ভাড়”।

তার পরিচয় ঃ

গোপাল ভাড় অথবা গোপাল ভান্ড একই ব্যাক্তি।মধ্য যুগ অষ্টদশ শতাব্দীতে নদিয়া অঞ্চলে প্রখ্যাত রসিক গল্পকার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজ সভায় নিযুক্ত ছিলেন।রাজা তাকে তার সভাসদদের মধ্যকার নব রত্নদের একজন হিসাবে নিযুক্ত করে ছিলেন।সেই আমলেই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজপ্রাসাদের সামনে তাঁর একটি ভাষ্কর্য স্থাপন করা আছে যা এখনো অবিকৃত।

গোপাল ভাড়ঁ এমনি একজন রস সম্রাট যার গল্পগুলো পড়ে এখনো বাংলাদেশ ও কলকাতা এবং বিশ্বের বাংলা ভাষা ভাষিদের মনে চির স্বরণীয় আছেন।যার গল্প বা ঘটনাগুলো পড়ে মানুষের পেটে হাসির খিচ্ ধরে যায়।

তার পরিচয় বা তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত পাওয়া যায় ।কেউ বলেন গোপাল ভাড়ঁ নামের কেউ একজন ছিলো,কেউ বা বলেন গোপাল ভাঁড় নামে কারো কোন অস্তিত্বই কখনো ছিলো না-সব কাল্পনিক।
তবে নগেন্দ্রনাথ দাস নামক এক ব্যাক্তি দাবী করেছেন গোপাল ভাঁড় নামে তেমনি একজন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজ্য সভায় ছিলেন।এ নিয়ে তিনি তার একটি বইও লিখেছেন।তবে তিনি তার সেই বইটিতে বলেছেন,প্রথমে তাঁর পরিচয় ঘটা গোপাল ভাঁড় পদবী হিসাবে নয় তাঁর পদবী ছিলো “নাই”।তার ঠাকুদা আনন্দরাম নাই -একজন তান্ত্রিক সাধক আর গোপালের বাবা দুলাল চন্দ্র নাই পেশায় ছিলেন একজন নাপিত।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার বুদ্ধিদীপ্ততা তার রসিকতা দেখে তাকে ভাঁণ্ডারী উপাদী দিয়েছিলেন।সেই ভাণ্ডারী থেকে আজকে ভাঁড় হয়ে মানে গোপাল ভাঁড় বেচে আছেন লক্ষ কোটি বক্তদের হৃদয়ে।সেই বইটিতে উল্ল্যেখ করেন- “রাধাঁরানী” নামে তার একটি মেয়েও ছিলো।

গোপাল ভাঁড়ের পরিচয় নিয়ে তর্ক যতই থাকে থাকুক আমরা আজকে তার সন্ধান পেয়েছি তিনি দিব্যি এখনো বউ বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে সংসার করছেন ভারতের কলকাতায় কোন এক অঁজো পাড়া গায়।এই হল তার ঠিকানা।…..

নীলপরীকে ঠিকানা বুঝিয়ে দিতেই উপস্থাপক সহ নীলপরী নিমিষেই পৌছে গেল কলকাতার কোন এক অজোপাড়া গায়।পরীর সিক্স সেন্স কাজে লাগালো কোন বাড়ীটা হতে পারে গোপাল ভাঁড়ের।চোখের সামনে ভার্চুয়াল হল গোপালের বাড়িটি।বিশাল এক বিলের মধ্যে আশ পাশ আর তেমন কোন বাড়ী নেই- একমাত্র খঁড়কুটোর তৈরী সেই বাড়ীটি কেবল দেখা যাচ্ছে।নীলপরী সহ উপস্থাপক এবার গোপাল ভাঁড়ের ঘরের উঠোনে বন্ধ দরজার সামনে দাড়িয়ে।উপস্থাপক ডাকছেন গোপালকে।
– গোপাল..গোপাল…ওগোপাল ।
কোন উত্তর নেই,নেই কোন শব্দের আলামত।আরেক বার ডাকার পর ঘরের ভেতর হতে কর্কশ মেয়েলী কণ্ঠে শব্দ ভেসে এলো তাদের কানে।
-কেগো? কে এলো এই সাত সকালে?
– জি আমরা..।।
-এই আমরাটা কারাগো?
-আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
বাংলাদেশের কথা শুনে দৌড়ে এলো গোপাল ভাঁড়ের স্ত্রী।তাকে দেখে উপস্থাপক অবাক হলেও বুঝতে পারলেন ছবিতে যা দেখেছি তার কোন অংশে কম নন গোপালের স্ত্রী ঠিক যেন গোলআলুর মতন।আর কণ্ঠের প্রমানতো শুনলেনই।
-হেগো কে? কেগো এসেছো বাংলাদেশ থেকে? কেগো তোমরা? স্বামীর আত্মীয় না- আমার আত্মীয় ???
-প্রণাম বউদী…আমরা আসলে আপনাদের কেউ কারো আত্মীয় নই।আমরা এসেছি গোপাল ভাঁড়কে বাংলাদেশে এক অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে।
-ওতাই নাকিগো! ওই কইরে মেহমানদের উঠোনে বসতে চকি এনে দে।
কিশোর বয়সী এক মেয়ে দুটো ছোট চকি এনে তাদের বসতে দিল।তার কিছুক্ষণ পরই গোপাল ভাঁড় বড় সাইজের একটা ইলিশ নিয়ে বাড়ীর ভেতর এসে হাজির।বাড়ীতে লোকজন দেখে চঁমকে গেলেও অতিথি মনে করে তাদের সামনে ভুড়িওয়ালা পেট নিয়ে এলেন।উপস্থাপক এবং নীলপরী তাঁর পেটের সাইজ দেখে অবাক হলেন।অতপর তাঁর টাক মাথায় পাগড়ী বাধা কাদা মাটিওয়ালা মুখমন্ডল দেখে ভাবলেন আজকেও হয়তো কোন একটা ঘটনা ঘটিয়ে এসেছেন।
-নমস্কার বাবু।
-আমি বাবু নই, গোপাল ভাঁড়।
তারা জানেন তাঁর সাথে তাঁরা কথায় পারবেন না।তাই আর কথা না বাড়িয়ে শুধু বললেন,
-নমস্কার।
গোপাল ভাঁড়ও পাল্টা জবাব দিলেন।
-নমস্কার।
বলে গোপাল ভাঁড় তাদেরকে বসতে বলে ঘরের ভেতর ঢুকে দ্রুত ফ্রেস হয়ে বেড়িয়ে এসে তাদের সামনে একটি চেয়ারে তাদের মুখোমুখী বসলেন। পাশে দাড়ানো ছিলেন গোপালের স্ত্রী ও এক মাত্র কন্যা রাধাঁরানী।চেয়ারে বসে এক পা দুলাতে দুলাতে গোপাল বললেন।
-হ্যা তা বলোতো তোমরা কে? কোথায় হইতে এসেছো?এবং কেন এসেছো?
-জি দাদা, আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি।আমি উপস্থাপক মমি আর ওহচ্ছে পরী তবে ওকিন্তু আসল পরী।
উপস্থাপকের মুখে পরীর কথা শুনে পরীর দিকে ভাল করে তাকালেন- মা মেয়ে মানে গোপালের স্ত্রী ও কন্যা।স্ত্রী কথা না বলে আর পারলেন না।
-কি কয়গো এ আবার পরী হবে কেমন করেগো ? তারতো কোন ডানাই নেইগো!
-সবিই আছে, দেখবেন? থাক-একটু পরেই দেখতে পারবেন।
গোপাল তাদের কথা থামিয়ে দিয়ে জানতে চাইলেন।
-তাতো ঠিক আছে কিন্তু আমার কাছে এতো দূর হইতে আসার কারনটা কি জানতে পারি?
গোপাল গোপালের বউকে লক্ষ্য করে বললেন।
-কিগো হা’ করে দাঁড়িয়ে আছো কেন? যাও রান্না ঘরে যাও ইলিশ মাছটা রান্না করো গিয়ে, ইলিশ মাছ এর দেশের মানুষদের খাইয়ে দেই একটু।
-মাছটা খুব বড় সাইজের,দেখতেও রূপোলী রং এর-দামটা কত? উপস্থাপক বললেন।
গোপাল প্রশ্নটা শুনে হঠাৎ দৌড়ে বাড়ীর গেইটের কাছে গিয়ে এ দিক সেদিক উকিঁ দিয়ে তাকিয়ে আবার ফিরে এলেন।
-কী দাদা কোন সমস্যা?
-সমস্যা নয়তো কিগো! তুমি যে মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিলা তাহা যদি রাজার কেউ শুনিয়া ফেলিত তাহলে আমার সর্বোনাস হয়ে যাইতগো।
-ঘটনা কি একটু খুলে বলবেন দাদা?
-তাহা হলে শুনেন, আজ আমার মহারাজা রাজকৃষ্ণ আমাকে একটা চ্যালেঞ্জ ছুইড়া দিয়াছিলেন।মহারাজ বলে ছিলেন আমাকে মহারাজ একটি ইলিশ মাছ কিনিয়া দিবেন।আমি সেই ইলিশ মাছটি বাজার হতে বাড়ী পর্যন্ত হাতে ঝুলাইয়া ঝুলাইয়া লোকালয় দিয়া বাড়ীতে নিয়া যাবো এবং মাছ হাতে নিয়া যাওয়ার মুহুর্তে কেউ না কেউ তার দাম জিজ্ঞাসা করিবেন।আমি রাজাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলাম –আমি নিয়া যাব কেউ আমাকে দাম কত জিজ্ঞাসা করিবে না।রাজা আমার কথা শুনে অবাক হলেন।
-এটাও কি সম্ভব?
-সম্ভব, আমার পক্ষেই সম্ভব “সব অসম্ভবকে সম্ভব করাই গোপাল ভাঁড়ের কাজ”।
-ঠিক আছে তুমি যদি সফল হও তবে পুরষ্কৃত হবে আর যদি ফেইল করো তবে তোমাকে শাস্তিভোগ করতে হবে। রাজী?
-জী, মহারাজ রাজী।
মহারাজের হুকুম মতে দুইজন স্বাক্ষী হিসাবে আমাকে একটি ইলিশ মাছ কিনে আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন।আমি মাছটি হাতে নিয়ে পড়নের ধূতিটা খুলে মাথায় পাগড়ী বানলাম।তারপর শরীরে নাকে মুখে পেক কাদা মেখে মাছ হাতে আমার বাড়ী বরাবর হাটা দিলাম। রাস্তায় যার সাথেই দেখা হয় সে-ই মাছের দাম জিজ্ঞাসা করবেতো দূরের কথাগো সবাই কেবল নাক চেপে চেপে আমায় দূর দূর ছি ছি করল।আমি পরীক্ষায় পাস করে ফেললাম।

নীলপরী সহ উপস্থাপক হাসতে হাসতে পেটে খিচ ধরে ফেললেন।অবাকও হলেন তার বুদ্ধিমত্তার কথা শুনে।এ দিকে ঘরের ভেতর হতে ডাক এলো।
-কইগো…শুনছো? রান্না রেডি,…তোমরা ভেতরে এসোগো।

অল্প কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যেই তাঁরা খাওয়া দাওয়া শেষ করলেন।এরপর গোপাল সোনেলা ব্লগের নিমন্ত্রণ পেতেই খুশিতে আটখানা হয়ে গেলেন।
-বলেন কিগো!আপনারা সোনেলা ব্লগের লোক? তা আগে বলবেনতো! আহা কত স্বপ্নই না দেখতাম যদি একবার সোনেলার সোনালী মানুষদের দেখা পাইতাম।আমি এ কলকাতায় আমার অসংখ্য নাতি হতে দুই প্রিয় নাতি একজন অরুণিমা মন্ডল দাস , রোজীনার মুখ হতে সোনেলার কত সুন্দর সুন্দর গল্প শুনতাম।তারা শুধু আশ্বাস দিত নিয়ে যাবে আমাকে, বাংলাদেশে-সোনেলার লেখকদের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিবে কিন্তু দুঃখের কথা কি কইবোগো! কেউই নিয়ে গেল না।
-তারাওতো আজ আমাদের সাথে যাবেন।
-কইগো তারা কই?
-এই এলো মনে হয়।
ঠিক সেই সময় বাড়ীর গেইটে উঁকি দিল গোপাল ভাঁড়ের দুই নাতনী।
-এইতো আমরা এসে গেছি…।
-আসো আসো তোমাদের কান মলে দেই…..গোপাল বলল। তাতো ঠিক আছে তবে যাবো কি করেগো?
-কেন? নীলপরী আছে না।

গোপাল চেয়ার ছেড়ে উঠে নীলপরীর কাছে গিয়ে চোখ দুটো বড় বড় করে তার চারপাশ ঘুরে দেখল।কিছুইতো বুঝতে পারছেন না! খুব ভাবনায় পড়ে গেল গোপাল, -ডানাহীন এ আবার পরী হল কি করে।এরাতো দেখছি গোপালকেই ধাঁ ধাঁয় ফেলে দিল।আবার ভাবলেন হলে হতেও পারে-কারন এঁরাতো  সোনেলার চৌকষ ব্লগার।

নীলপরী গোপালের এমন দর্শনের আচ্ করলেন অতপর লোকালয়ের ভয়ে কলকাতায় এসেই নীলপরী তাঁর গুটিয়ে নেয়া সুন্দর দুটো ডানা আবারো বের করলেন।হা করে তাকিয়ে রইলেন গোপাল এর সাথে তাঁর স্ত্রী কন্যা রাধাঁরানীও।নীলপরী তার ডানার চারটি পালক খুলে বিছিয়ে দিলেন মাটিতে।অতপর সবাইকে এক এক করে পালকের উপর পা রাখতে বললেন। ভয় শঙ্কা কাটিয়ে সবাই প্রস্তুত পালকের উপর পা রাখতে।অতপর সবাই যখন পালকের পা রাখলেন তখন তারা উড়তে শুরু করল এবং গোপালের বউ কন্যাদের বাই বাই টা টা জানিয়ে সো সো করে উড়াল দিলেন বাংলাদেশে সোনেলা ব্লগের আড্ডায় ।

সোনেলার মাননীয় এডমিনগন আগ হতেই গোপালের বসার আসনটি ঠিকঠাক করে রেখে তাদের আগমনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।ব্লগারদের আড্ডাস্থলে চা এ পর্যন্ত ড্রামখানিক শেষ।এরই মধ্যে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদের সম্মেলিত আগমনে সবাই ফুলের পাপড়ী ছিটিয়ে সু-স্বাগতম জানালেন।গোপাল ভাঁড় তার নিদিষ্ট আসনে বসলেন।উপস্থাপক তাঁর উপস্থাপনা শুরু করলেন।

-সন্মানীত সোনেলার ব্লগারগন শুরু করছি সোনেলা ব্লগ আড্ডার দ্বিতীয় পর্ব।আজ উপস্থিত আছেন হাসির রাজা , জ্ঞানের রাজা গোপাল ভাঁড়।তবে তার আগে আরো একটু কাজ আছে তা হল-গত পর্বে নীলপরীর সাথে আড্ডা অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি টানা এবং নীলপরীকে বিদায় সম্ভাষনা জানানো তাই এবারে মঞ্চে ডাকবো গত পর্বের সভাপতি এম ইঞ্জা ভাইজান এবং এবারের পর্বের সভাপতি ম্যাডাম সোনেলা ইয়াসমিন অরফে সাবিনা ইয়াসমিন আফাকে। আপনাদের অনুরোধ করছি আপনেরা মঞ্চে এসে আপনাদের আসন গ্রহন করার জন্য।

সবিনয়ে তাঁরা যথাযথ আসন গ্রহন করিলেন।

-এবার নীলপরীকে ফুলের মালা দিয়ে বিদায় জানানোর জন্য অনুরোধ করব ১ম পর্বের সভাপতি এম ইঞ্জা ভাইজানকে।
আগেই প্রস্তুত রাখা ফুলের মালাটি পড়িয়ে দিলেন নীলপরীর গলায়।নীলপরীর দু’চোখে জলে ছলছল। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাইক্রোফোনে এসে শুধু দুটো শব্দই করলেন-
সোনেলা এক মায়া জড়ানো এক অভূতপূর্ব ভালবাসার নাম।নজর এড়াবে না কখনো।

নীলপরী যে ভাবে এলেন ঠিক সেই ভাবেই অদৃশ্য হলেন চোখের পলকে।এই বিদায় মুহুর্তটা স্বরণীয় করে রাখতে ফ্রেম বন্দি করলেন আমাদের প্রিয় ফটোগ্রাফার ও পাখি বিষেজ্ঞ শামীম ভাই।।নীলপরীর বিদায়ে পিনপন নীরতার অবসান কাটালেন গোপাল।হাসির একটি গল্প বলে সবাইকে সতেজ করলেন।

-তাহলে বন্ধুরা কেমন আছেন আপনেরা? আমি গোপাল ভাঁড়। আপনাদের সাথে মনের দুঃখ সূখ ভাগ করে আড্ডা দিতে এসেছি আজ।বলে ফেলুন কার মনে কি প্রশ্ন আছে।প্রশ্ন করতে পারবেন যে কোন বিষয়ে আমি আছি আপনাদের প্রশ্নের অপেক্ষায়।আমি যতটুকু জানি এ দেশে একটা কথার রেওয়াজ আছে তাহল চিকন বুদ্ধি। যদি কারো থেকে থাকে তাও জানাবেন।

আজ আড্ডায় জিসান-হেলাল, তৌহিদ ভাই সহ আপুরাও বেশ আগে বাগেই সেজেগুজে রেডি হয়ে আছেন।মনে হয় এবারও জমবে জমজমাট আড্ডা।

তাহলে শুরু হল এবারের আড্ডা……
—————————————–

ছবি ও তথ্য
অনলাইন

৯০২জন ৫১৫জন
67 Shares

৬২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য