মায়া রং

এস.জেড বাবু ৩ জানুয়ারী ২০২০, শুক্রবার, ০৩:০৮:১৮অপরাহ্ন কবিতা ৩০ মন্তব্য

তোমার চোখের দিকে তাকালে মনে হয়,
আরও একটা রং আছে রংধনুর অস্তিত্বে।
“মায়া রং”
যে রং, অগোছালো হৃদয়কে কাছে টানে চুম্বকীয়তায়,
নিবন্ধিত করে রাখে দৃষ্টি,
সমান্তরালে, সরল রেখায়।
মধুর আবেশে, শান্তির পরশ বুলায়,
অজানা সীমাবদ্ধতায়।

মসলিন সে রংয়ের পর্দা, নৃশংসভাবে খুন করে,
আমার প্রশ্নভরা চাহনী- ।
তবুও নেই উত্তর, নেই ইশারা।
নিঃশব্দ দেয়ালে আবারও ইচ্ছেরা তুলে প্রতিধ্বনী-
মায়া রংয়ের হাজারটা পর্দা ভেদ করতে পারে না কৌতুহল-
নির্বাসিত ইচ্ছেরা বারংবার ফিরে আসে,
দীর্ঘশ্বাসে ভেজা বালুতটে- প্রতিধ্বনী মতো।

এক জাহাজ ভরা রংধনু পাঠালাম নিরুদ্দেশ,
তবুও যদি রঙিলা আকর্ষনে তোমার দৃষ্টি খানিক পূর্বমুখী হয়।
কে গো তুমি ?
মায়া রংয়ে; কোন সে পথের আল্পনা এঁকেছ চোখের তাঁরায়?
আমি দিশা খুঁজে হয়রান দিগন্তের শুরু থেকে শেষে!!
ক্ষণে ক্ষণে হটাৎ বিজলীর ঢংয়ে আঁকা মেঠোপথ,
লাখো চৌরাস্তার ভীরে-
প্রশ্নগুলি যুগান্তরে পরিশ্রান্ত।
আজও অনুভব হয় না উত্তরের তাগিত ?
তবে বল দেখি-
কেন বান ডাকে ফাল্গুনের আকাশে ?
কোন সে তাড়নায়, চৈত্রের খড়তা উড়িয়ে দেয় বর্ষন ?
কুয়াশার চাদর ফোঁড়ে, কেন তির্যক দৃষ্টি মেলে সোনা রোদ ?

কম্পিত ঠোঁটের জোয়ারে যদি শৃঙ্খলিত থাকে প্রত্যাশার হুঙ্কার
তবে আজও কেন “মায়া রংয়ের অস্তিত্ব তোমার চোখে-
কেন অনুতাপের শিশির বিন্দু নাকের ডগায় ঝিলিক মারে ?

তোমার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা পেলে মনে হয়,
আরও একটা ঋতূ আছে বসন্তের শেষে।
নামহীন শুভ্র ঋতূ।
চার পক্ষকাল ধরে কোকিলের কুহুতানে,
পরাগায়িত বাসন্তি গোলাপ কলি যদি উড়িয়ে নেবে কালবৈশাখী-
তবে আরও একটা ঋতূ চাই সুস্থির-
প্রশান্তের বুকে ভাসমান কোন পর্বতমালার পাদদেশে,
একমুঠি খড়কুটু দাউ দাউ করে জ্বলুক।
একটা চন্দ্রিমা রাতে হউক না জোছনার মালাবদল।
কোন এক রাত্রি দ্বি-প্রহরে, খানিক ঝড়ো বর্ষনে-
আঁধার কেটে ডানা মেলে দিক একজোড়া কপোতিনী;
অজানায়, অ-দেখায়।
কেউ শুনবে না ডানা ঝাপটানির কোলাহল,
কেউ শুনবে না পালক ছিটকে পড়ার শব্দ।
যে ঋতূর মধাকর্ষনে পৃথিবী ঘুমায় নিহারিকার কোলে,
হিমালয় ফেরত কনকনে পবনের ধাক্কায়,
যদি হাওয়া লাগে ইচ্ছে তরীর পালে;
তবে চৈত্রের খড়তায় শেষে, কালবৈশাখীর সূচনার পূর্বে-
সে ঋতূর নামটা তুমিই রেখে যেও।

-০-
২রা জানুয়ারী/২০২০

৪৯৪জন ২৩১জন
39 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য