মূল লেখায় যান

হঠাৎ দেখা

এস.জেড বাবুকবিতা২৮টি মন্তব্য

লেজার রশ্মী মতো
সটান সোজা সোজি
তোমার ডানপাশের সিঁথি,
তেল চকচকে
চুলের অর্ধেকটা ঢেকে
ঘোমটায় পরিপাটি।

আমার উস্কোখুস্কো
চুলে লাগেনা হাওয়া
শেম্পু হয়নি একযুগ,
চিরুনী হয়না ছোঁয়া,
আঙ্গুলেই কোনরকম
মনভোলা কোনও রোগ।

ভারী চশমার ফ্রেমে,
তোমার চক্ষ্মু স্থির
আমার ঘামে ভেজা পোড়া মুখে
প্রশ্নভরা ভাঁজ,
মসৃন ললাট জুড়ে
সে…ই পুরুনো আমাকে দেখে !!

মাইনাস পঁচাত্তুর,
আমিও কিনেছি কাঁচ
হারিয়েছি দুই চারবার,
দুরের স্বপ্ন আজও
ক্রিষ্টাল ক্লিয়ার দেখি
কাছ থেকে !! কি দরকার ?

তোমার ভ্যানিটি ব্যাগে
300ml ফিডার
চারশো গ্রাম নিডো’র প্যাক
ভেজা টিস্যু আর
দু’তিনটে ডাইপার
ভীনদেশী দামী চকলেট।

আমার মানিব্যাগে
ঝলশানো পাসপোর্ট ছবি
তখন রেজিষ্ট্রশন তোমার স্কুলে,
ছিড়েছে কতবার,
বদলেছে মানিব্যাগ
ছবিটা হারায়নি আজও ভুলে।

তোমার ঠোঁটের বাঁকে
প্রশ্নগুলো কাঁপে
শব্দ হয়না উচ্চারণে,
জানতে চাওয়াগুলো,
অজান্তে থাকে
অযথাই অকারণে।

আমার প্রশ্নগুলো,
তোমার বরাবরে
কেমন আছে তোমার বর?
ছেলেটা বড় ?
মেয়েটার কি নাম ?
যাদের নিয়ে সুখের ঘর।

তোমার কফির কাপে
চুমুক পড়েনি দেখি
স্বাধটা ছিলো কিন্তু বেশ,
সিগারেট ঠোঁটে গুঁজে
চারপাশটা দেখি
দেয়াশলাইয়ে কাঠি শেষ।

প্রশ্ন হলো শেষে,
চিৎকার করে করে
বারণ করে না তোমার ঘরণী ?
কুলুপ এঁটেছি ঠোঁটে,
কি বলবো তারে
তেমন কেউ যে আজও আসেনি।

-0-
23june 2020

মোট পড়েছেনঃ ১০৭২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

      1. সুপর্ণা দি

        ধারাবাহিক পর্বগুলো চলবে

        চিঠি পর্বগুলো পরপর পোষ্ট করার ইচ্ছে আছে।

        বোবা ভাষা প্রতিদিন লিখছি, বাট আমি সোনেলার অন্য সব লিখকদের মতো যোগ্য কেউ নই।

        পরিবর্তন / ভুল / মিসটেক / সময়ের ব্যাবধান এইগুলো আমার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক।

        এজন্যই ভাবি- ব্লগ আমার জন্য না
        এফবি তে আমি যেমন তেমন চলতে পারি।

        শিখাইলে শিখবো
        নইলে আমি একজন এতো লোকের ভীরে মূর্খই থাকি।

    1. বাংলা বুঝি কম
      হিন্দিতে বেইল নাই
      ইংরাজীর ধারে হাঁটি না
      যতটা গজায় বীজ
      কলম খাতার প্রেমে
      ততটাও ভয়ে মুখে বলি না

      শুনি শব্দ যত
      লিখতে পারিনা তত
      শব্দের ছবি গুণি, কয়’টা !
      লিখেই নয় লাইন
      অক্ষর একশো
      বানান ভুল নিরা-নব্বইটা

      আমি মানে জানি না গো ভাই
      মানে জানি না

      সুপর্ণা দিদি মানে বলে দিবে ।

      1. আপনি যোগ্য নন কে বললো ভাইয়া? ভুল ভ্রান্তি সবারই আছে, হয়। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হলেও এর বানান এর দিকে আমরা নজর দেই কম, অনীহা কম। হয়তো এর কাঠ্যিনতার কারণে এমনটা হয়। তবুও আমরা যারা বাংলা নিয়ে লেখালেখি করি তাদের অন্তত সাবধান হতে হবে তানা হলে অন্যরা তো আরো ভুলভ্রান্তি করবে, অনীহা প্রকাশ করবে বাংলা ভাষাকে নিয়ে। আর সাধারণ বানান ভুল হলে সেটা সবাই ধরতে পারে। আপনি সোনেলার একজন নিয়মিত ,গুণী লেখক । তাই আপনার কাছে প্রত্যাশাটাও বেশী। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন

  1. আহ্। কেউ ঘর বেঁধে স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার সাজায় আর কেউ আজো একা বড্ড একা, এলোমেলো জীবনযাপনে অভ্যস্ত। খুব সুন্দর হয়েছে। অসাধারণ লাগলো। শুভ কামনা রইলো ভাই

    1. জমানো কষ্ট গুলো
      মেঘ রূপে বদলাক
      আষাঢ় শ্রাবনে মিশে ঝড়ে যাক
      তবুও তো আছি বেঁচে,
      স্মৃতিগুলো পিছে রেখে
      কান্নার ইচ্ছেটা চাপা থাক

      আর কইয়েন না আপু- থাক – থাক্

      কৃতজ্ঞতা আপু
      মুগ্ধতা

  2. আজ কত বছর পর দেখা হলো বলো তো? আজো নদী দেখো সেই আগেরই মতো!
    বদলায়নি সেই ভঙ্গী
    যেমন করে দেখতে
    আগেও এই নদী;
    আজো মাখো
    সেই সুগন্ধী!
    দিয়েছিলাম যা
    আজো পারো নি ছাড়তে তা?
    বুঝি আজ সুখেই আছো
    হাজারো জিজ্ঞাসা
    বুক পকেটে রইলো।
    তুমি আছো
    আমিও আছি
    সমান্তরালের রেললাইনে।
    বুঝেছি আজ একলা থাকার মানে।

    বাবু ভাই আমার ধৃষ্ঠতা মার্জনা হোক। মন্তব্যের ভাষায় কোনো মন্তব্য হলো না।
    তবে কবিতায় মনমাত।

    1. সকাল সন্ধ্যা শেষে
      কতকিছু বদলায়
      পরিবর্তন’টা আমার আসে না
      নদীটা তেমনি আছে
      আমিও জলের’ই কাছে
      আজকাল পাশে কেউ বসে না

      ফুড়িয়ে যাবে বলে
      যত্নে রেখেছি তুলে
      সুগন্ধি ভরা সে বোতলটা
      যতটাই দুরে থাকি
      অনুভবে গেঁথে রাখি
      ভুল করে ছুঁয়ে বুক পকেট টা

      প্রশ্নেরা ঘুড়ে ফিরে
      সুপ্ত স্মৃতির ভীরে
      ভুলতে চেয়েও ভোলা যায়না
      রেল-লাইন পাশাপাশি
      দুরে থেকে কাছাকাছি
      দুর্ঘটনা ছাড়া কভূ মিশে না

      চলতে পথে পথে
      দেখেছি দুই চারবার
      মিশে তারা কোনও জংশনে
      ইচ্ছে হলো তোমার
      উঠে বসো জানালায়
      অপেক্ষায় আছি – ইষ্টিশনে

      আপু – আপনার চোখে যদি এতো সুন্দর জবাব “ধৃষ্ঠতা” হয়
      তবে আমার বেলায় ও তা মার্জনীয় হউক।

  3. প্রথমে পড়লাম মন ভোলানো এক কবিতা,
    কমেন্ট করার ঘর খুঁজতে-খুঁজতে,
    ক্রল করে নীচে নামতে-নামতে..
    আরও, এবং আরও কবিতার পাতার ভাঁঁজ খুলেছি
    নিদারুণ কৌতূহলে ;
    পেয়েছি যা খুঁজেছি তাই
    পেয়েছি যা খুঁজিনি তাও..

    কমেন্ট বক্সে এসে শব্দ হাতড়ে বেড়াচ্ছি,
    কি লিখবো!
    কি বলবো এমন অনবদ্য কবিতায়-মহা কবিদের আসরে??

    1. কেউ একটুখানি লুকানোর জায়গা কি দিবে ?
      আছে এমন কেউ সোনেলায় !

      আপু অনেকদিন পর এ লিখায় দেখা হলো আপনার সাথে। লজ্জা পাইছি কি না মনে নাই খুশির দাপটে।

      অনেক শুভাশিষ রইলো
      কৃতজ্ঞতা

    1. চারপাশটায় যা দেখি তাইতো লিখি। হযবরল লিখাগুলিতেও প্রাণ ভরে অনুপ্রেরনা পাই তাই লিখে যাই।

      পাশে আছেন বলে কৃতজ্ঞতা
      ভালো থাকবেন ভাইজান

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।