অবশেষে হল অবসান বহুল প্রতিক্ষীত ভোট উৎসব
বলতে পারেন শব্দদূষন, বায়ুদূষন উত্তাপ ছড়ানো
বাক্যবাণের পরিবেশ শেষ হলো নিরুত্তাপ ভোট-উৎসবের মধ্যদিয়ে। মানুষ ফেলেছে স্বস্তির নিশ্বাস বিনারক্তপাতে ভোট শেষ হলো বলে।

আমার ভোটের দিন সদল বলে ঘুরে বেড়ানো একটা বাতিক আছে যা রপ্ত করেছি এবারও যায়নি বাদ।
জীবনের প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা বড়ই মজার আজো পারি নি ভুলতে ! হাসি পায় মনে পড়লে আমাদের প্রাইমারী স্কুলে সাজ সাজ পরিবেশ হ্যাঁ -না ভোটের জন্য।
স্যারের সামনে দুইটি বাক্স হ্যাঁ – না , আমাদের দায়িত্ব ছিল সিল মারা আর বাক্সে ঢুকানো। আমি ইচ্ছে করে কিছু সিল মারা ভোট না তে দিয়েছিলাম।
ভোট শেষে গননাতে ১০০% ভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলো। স্যারকে আমার না বাক্সে ভোটের কথা জিজ্ঞেস করাতে দিল এক বকা। সেটাই জীবনের প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা।

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা বড়ই নির্মম রসিকতার
চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিউট ছাত্রসংসদ নির্বাচন ১৯৮৬/৭ সালে । শিবিরের বিপরীতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ব্যানারে আমার ডিপার্টমেন্টে আমাকেই মনোনয়ন দেয়া হলো। আমার বিপরীতে শিবিরের GS প্রার্থী।
নির্বাচনের দিনেই বেকে বসে আমার দুই ভোটার আমার চামড়ার রঙ ওদের পছন্দ না তাই আমি সরে দাড়ালাম নির্বাচন থেকে। নির্বাচনে নীরব ভোট বিপ্লবে দীর্ঘদিনের শিবির দুর্গের পতন।

যাক ধান ভানতে শিবের গীত করলাম। এবার ইলেট্রনিক ভোট উত্তেজনাটা একটু বেশীই ছিল।
সকালবেলা পান্তা ইলিশ খেয়ে রওনা দিলাম উত্তরা থেকে বারিধারা কালাচাঁদপুর আমার ভোট সেন্টার একা, যথারীতি যানবাহন মুক্ত , রিক্সাই ভরসা ৪ টা রিক্সা বদলিয়ে ওদের ঈদবোনাসের দাবী মিটিয়ে ১০ টার দিকে সেন্টারে পৌঁছলাম তখন বাহিরে শত সহস্র উৎসুক মুখর জনতা।

বাইরের ভীর ঠেলে বুথে যখন গেলাম ফাঁকা বুথ ৫ জনের পিছনে আমি। পোলিং অফিসার শিখিয়ে দিচ্ছে আমরা পিছনে দাঁড়িয়ে ফলো করছি।
এবার আমার পালা কার্ড দেয়ার পড়ে নাম্বার এন্ট্রি করায় আমার।ঠিকানা ভেসে উঠলো ফিঙার প্রিন্ট দেয়ার পরে নিশ্চিত হলো আমার কার্ডটা সঠিক।
এবার ভোট বাক্স অন হলো। পছন্দের মার্কায় বাটন চিপে নিশ্চিত বাটন টিপলেই ভোট দেয়া শেষ।
সব মিলিয়ে ৩০ সেকেন্ড লাগলো।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

তারপরে আবার রিক্সায় উত্তরা। সেক্টর ৭, ৯, ১০, ১১, ১৩ বন্ধুরা মিলে পর্যবেক্ষন করলাম। বাইরে নৌকা ও কমিশনারের কর্মী বাহিনীর শোডাউন । অন্যদিকে ভোটাররা নীরবে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে যাচ্ছে। ৭ নম্বর সেক্টরে একটি লাইনে দেখলাম ২ জন মেয়ে লাইনে আছে। আমিও ছবি নেয়ার লোভ সামলাতে পারিনি। এভাবে চললো সারাদিন। ভোট শেষ হওয়ার ১/২ ঘন্টার মধ্যে এজেন্টরা বের হচ্ছে কতৃপক্ষের সাক্ষর করা রেজাল্ট শীট নিয়ে। ভোটের পরিমান ২০/২২% ও প্রতিপক্ষের ভোটের ব্যবধান ও ১০০/১৫০ মধ্যে

তবে এবার শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ভোটের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল– আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি শুরু থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করতে থাকায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ যতটো আস্থাবান ছিল, বিএনপি ছিল ততটাই হতাশ। জয়ের জন্য আওয়ামী লীগ সাধ্যমতো সব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির লক্ষ্য বিজয় অর্জন ছিল না। তারা জানতো তাদের জয়ের মতো রাজনৈতিক বাস্তবতা দেশে বিরাজ করছে না। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে বিএনপি এখন বিপর্যস্ত ।সংগঠিতভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেয়ে বিএনপি শুধু সরকারবিরোধী বক্তব্য  এবং নানারকম হুমকিধমকি দিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করেছে।

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয় – এই কথা বিএনপি এত বেশি বলেছে যে, মানুষ ধরেই নিয়েছে, বিএনপির জেতার কোনো আশা নেই। যারা নিজেরা জেতার আশা করে না, তাদের সমর্থকরা স্বভাবতই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ বোধ করেনি।
অন্যদিকে যারা জিতে গেছে ধরে নেয় তারা ও আগ্রহ হারায়।

নিরুত্তাপ ভোটউৎসব হলো শেষ বিনা রক্তপাতে, আমজনতা ফেলছে স্বস্তির নি:শ্বাস
এখন ভোটার কম উপস্হিতি সবাই নিয়ে সরব।
একেক জন একেক রকম ব্যাখা দাঁড় করাচ্ছে ব্যাখ্যা গুলি মোটামুটি নিম্নরুপ

1. সো কলড রাজনীতিবিদ ও টকবাজরা ধারনা দিয়েছে যে ভোট যেখানে দিকনা কেনো সরকারী দল জিতবে
3. EVM বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্ন নেগেটিভ প্রচার ।
4. আর একপক্ষ জিতার আগে হেরে যাওয়া আর এক পক্ষ জিতে যাওয়া ভোট দিয়ে লাভ নাই।
5. ভোটারদের কাছে না গিয়ে মিডিয়া শোতে ব্যস্ত থাকা।
6. ভোট সেন্টারে প্রচুর লোক ছিল যারা সবসময় লাইনে বেলাইনে ভোট দিত। এবার জাল ভোট দিতে পারেনি বলে।
7. সুশীলরা এদিকদিয়ে সফল তারা ছাড়া বেশী ভোটার আনা সম্ভব না একথা প্রমান করতে পেরেছে।
8. ভোটারদের যারা কেনা গোলাম মনে করে প্রতীক পাইলে ভোট পাবে মনে করে। তারা বোকার স্বর্গে বাস করে এটা আরেকবার প্রমান হলো।

তবু থেমে থাকে না জীবন
নিয়মে কেটে যায় বেলা
অভিনন্দন নির্বাচিত দের
শুভ হোক আগামীর পথচলা।

৫৫৭জন ৪২জন
17 Shares

৪১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য