জানালায় চোখ

জিসান শা ইকরাম ৬ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৪:১১অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৮ মন্তব্য

ইদানিং একটি কথা বারবার বলার রোগে পেয়েছে মনে হয়। আমার এই ভবনটির কথা ইনিয়ে বিনিয়ে কতবার যে বলেছি তা আমি নিজেই জানিনা। তেমন কিছু নেই আমার, তাই এটিকেই হয়ত অমূল্য হিসেবে জাহির করছি, অথবা সত্যিই হয়ত এটি বলার মত কিছু একটা, তাই  বলছি। ব্যাঙের কাছে ছোট পুকুরকেই তার সমুদ্র মনে হতে পারে, বা আমরা বরিশালের ভাষায় বলি ‘ আইচার মধ্যে তুফান।’
যেটাই হোক এই ভবনটি আমার জীবন যাত্রাকে পালটে দিয়েছে অনেকটাই। বিভিন্ন কারণে আমার বেশ কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। এসব বন্ধ করায় আজকাল বেশ সময় পাচ্ছি আমি। সময় পেলেই শহুরে কোলাহল জটিলতা থেকে নিজস্ব এই ভুবনে চলে যাই। ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় মনে হয় একে আমার। দুই কক্ষ বিশিষ্ট এই বিশ্রামাগারে বসে জানালায় তাকিয়ে বাইরে কি দেখি তা দেখাবো আপনাদেরও। জানালার গ্লাস বন্ধ করেই ছবিগুলো তুলেছি, তাই কিছুটা ঘোলাটে দেখাবে হয়ত। এমনই দেখতে হবে আপনাদের, কারণ আমিও তো এমনই দেখছি।


দক্ষিনে জানালা দুটো। দক্ষিন পুবের জানালা ঘেঁষে আছে কাঠাল, পেয়ারা গাছ। দূরে সীমানায় আছে মেহেগনী, গাছের সারি। দক্ষিন পশ্চিমের জানালা ঘেঁষে আছে ডালিম গাছ। দূরে আছে ফলজ গাছের একটি বাগান। আম, আমড়া, কামরাঙ্গা, নারকেল, বিভিন্ন জাতের লেবু, জামরুল ইত্যাদি গাছ।


উত্তরের একটি জানালা কক্ষ যতটা চওড়া ততটাই। জানালা ঘেঁষে বেশ কিছু গাছ। বড় একটি জামরুল গাছ। দেখা যাবে ছোট একটি বাগান, গোলাপ সহ কিছু ফুল গাছ আছে তাতে। আর দূরে দেখা যাবে বিভিন্ন গাছের সারি।


উত্তরের জানালা সংলগ্ন বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি, বড় দুটো পাহাড়ি ঝাউ গাছ, কাঠ বাদাম, কাঁঠাল এবং আম গাছের ডাল বারান্দার মধ্যেই এসে গিয়েছে। ছবেদা ফল, শিউলী ফুল, পেয়ারা গাছ।


পূবের জানালার সাথে মিশে আছে পেঁপে, আম, পেয়ারা গাছ। জানালা খুলতে কিছু কষ্টই হয় এদের পাতা, ডালের কারণে। তারপরেও এসব ডালপালা না কাঁটারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দূরে সীমানায় লাগানো বিভিন্ন গাছের সারি।


পশ্চিমের জানালায় দেখা যাবে বড় কয়েকটি রেইন্ট্রি, কড়াই গাছ। কয়েকটি আম গাছও আছে। আছে দুটো সেগুন গাছ। আর দেখা যাবে আমার ভুমির লাগোয়া শান্ত স্নিগ্ধ এক নদী। নদীর একদম তীরেই লাগিয়েছিলাম এক বট গাছ, পথিকদের জন্য, পাখিদের জন্য।


শান্ত স্নিগ্ধ নদীর ছবি।

এইসব গাছগুলো আমারই লাগানো। সবুজ ভালোবাসি আমি। সারাদিন ইচ্ছে করে সবুজের মাঝে থাকি। যতটা সম্ভব থাকার চেষ্টা করি। খুব ঘন এক বন সৃষ্টির ইচ্ছে থেকেই এসব করা আসলে।

মাঝে মাঝে কান পেতে থাকি গাছের কথা শোনার জন্য। গাছের বাকলে হাত বুলাই গভীর মমতায়৷ শক্ত বাকল কেমন নরম তুলতুলে লাগে, মনে হয় প্রখর অনুভুতি সম্পন্ন কোন মানুষের গায়ে হাত বুলাচ্ছি, হাতে গাছের শরীরের কম্পন অনুভব করি৷ গাছের পাতার গুচ্ছে হাত বুলাই, যেন গাছের চুলে গুজি নিজের মুখ৷ নিজে গাছ হলে ভালোই হত, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়া যেত মানুষকে।

৩৫৬জন ৩৫৬জন
21 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য