মূল লেখায় যান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এর সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য অবমানকর

জিসান শা ইকরামসমসাময়িক৮টি মন্তব্য

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে চলেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক দুটি বক্তব্য দেশব্যপী তোলপাড়।

কি বলেছেন আব্দুল মোমেন?

গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) চট্টগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তৃতায় বলেন ” আমি ভারতে গিয়ে যেটি বলেছি যে শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।”
তিনি আরো বলেন “আজকে অনেকের বক্তব্য এসেছে যে শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাঁকে (শেখ হাসিনা) টিকিয়ে রাখলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে।আমাদের দেশ সত্যিকারভাবে অ-সাম্প্রদায়িক দেশ হবে।সেজন্য শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করার, সেজন্য ভারতবর্ষ সরকারকে আমি সেই সেই অনুরোধ করেছি“।

একটি স্বাধীন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিভাবে এই কথা বলেন? হিন্দু সম্প্রদায়কে সন্তষ্ট করতে গিয়ে তিনি যা বলেছেন, তা অতিমাত্রায় বালক সুলভ বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম এবং আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭১ সনে ভারত আমাদের যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। তাঁদের সহযোগিতায় আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমাদের দেশের সরকার ভারতের ইচ্ছে মত গঠিত হবে। ভারত কোনো ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে কিভাবে দেবে?
আমাদের দেশের সরকার পরিবর্তন হয় জনগনের ভোটে, কারো দয়ায় নয়।
আব্দুল মোমেন এই বক্তব্য দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তিনি আমাদের দেশকে অপমান করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমান করেছেন, আর আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন।

তাঁর ”সেজন্য শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করার, সেজন্য ভারতবর্ষ সরকারকে আমি সেই সেই অনুরোধ করেছি” বক্তব্য সরকারী এবং বিরোধীদলের প্রবল সমালোচনার মুখে পরেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত অভিমত বলে মন্তব্য করেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর একজন সদস্যও বলেছেন যে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য, এর দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।

স্বাধীনতার পর থেকে বিরোধী দল আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল, ভারতের পুতুল সরকার বলে অভিহিত করেছে। আব্দুল মোমেনের এই ধরনের বক্তব্য বিরোধীদল প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত করছে যে আওয়ামী লীগ ভারতের দালাল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের যতই প্রতিবাদ করুক আওয়ামী লীগ, এর দায় কি আসলেই এড়াতে পারবে সরকারী দল? মোটেই দায় এড়াতে পারবে না।

এর পূর্বে  সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে, একটি পক্ষ থেকে এমন প্যানিক ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি।’
ওনার এমন মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাকে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি তো সতর্ক হলেনই না, আরো অপমানজনক বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন চট্টগ্রামে।

কে এই আব্দুল মোমেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো রাজনীতি করেন নি, তিনি মুলত একজন আমলা। ২০১৮ সালে প্রথমবার  সিলেট-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হন তিনি। আর প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে পেয়ে যান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণলায়। এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন আমলা হয়ে রাজনীতিতে কিভাবে বক্তব্য দিতে হবে তা তিনি জানেন না। এমন একজন রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কিভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলো, তা দেশের সচেতন মহলের কাছে একটি বড় ধরনের ধাঁধা হিসেবেই রয়ে গেছে।
.

আবদুল মোমেন এর বক্তব্য শুনুন এবং দেখুন। বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও আছে এই ভিডিওতে।

তথ্য সহায়তাঃ
১। দৈনিক যুগান্তরে আবদুল্লাহ আল মামুন এর নিবন্ধঃ
মোমেনের বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগ, ব্যবস্থা নিতে বলবেন নেতারা। 

২। সময় নিউজ এরঃ মোমেনের যত বিতর্কিত বক্তব্য

৩। বিবিসি বাংলা নিউজ এরঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়

৪। প্রথম আলো পত্রিকার আসিফ নজরুলঃ মোমেন ঠিকই বলেছেন

মোট পড়েছেনঃ ১০০২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৮টি মন্তব্য

  1. এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন আমলা হয়ে রাজনীতিতে কিভাবে বক্তব্য দিতে হবে তা তিনি জানেন না। এমন একজন রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কিভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলো, তা দেশের সচেতন মহলের কাছে একটি বড় ধরনের ধাঁধা হিসেবেই রয়ে গেছে।—-এখানেই আপনার প্রশ্নের উওত্তর লুকায়িত। ধরুন জাতিসংঘে অনেকদিন ছিলো যদি আমেরিকায় তদবির তদারিকি করতে পারে। তার কর্মজিবন শুরু।
    এ কে আব্দুল মোমেন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব এবং ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত শিল্প ও বাণিজ্য এবং খনিজ সপম্পদ ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

    আসলে কি ভালো মানুষ এদেশে রাজনিতি করা দুরহ। মিথ্যার ওস্তাদ লাগবো। তার থেকে অনেকেই এলোমেলো বলে। সত্য ঢাকা থাকেনা বেরিয়ে আসে।

    তার অনেক কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে ভাইজান।

      1. উনার মতো মানুষের বাংলাদেশে রাজিনিতির করার উপযুক্ত না। ইনিয়ে বিনিয়ে যারা বলতে না পারা একটি ব্যর্থ প্রমাণ করে। ১৯৮২ সালে এরশাদ সাহেব জোর করে বিদায় করে। তারপর তার যোগ্যতা দিয়েই আমেরিকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
        উনি যা বলেছেন সত্য আর বি এন পি আওয়ামীলীগকে হটাতে আমেরিকার হাত ধরেছে এটাও সত্য কিন্তু তারা কেউ স্বিকার করেনি।

  2. পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের উকিল নোটিশ

    পদত্যাগ দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এরশাদ হোসেন রাশেদ। সাম্প্রতিক ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

  3. উনি এখনো রাজনীতি বুঝে উঠতে পারেন নাই। একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে কোথায় কী বলতে হবে। কাকে কী বলে খুশি রাখতে হবে এখনো শেখা হয় নাই। শুভ কামনা রইলো।

  4. পদ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকারকে যেরুপ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিলো তাতে সরকার পক্ষের ব্যর্থতা প্রশ্নাতীত ভাবে দেখা দিয়েছে। মন্ত্রী/ আমলাদের বিভিন্ন সময়ের উল্টাপাল্টা বক্তব্য, স্থান-কালের গুরুত্বের প্রতি খামখেয়ালিপনা এসবই পদাতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীন মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।
    এছাড়া অসস্থিকর ব্যাপার হলো যখনই উর্ধ্বতন পদের কেউ ভুল-ভাল বক্তব্য দিয়ে দেশের পরিস্থিতি চাঞ্চল্যকর পর্যায়ে নিয়ে যায় তখন সেইসব ব্যক্তিদের প্রতি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বলা হয় “এটা তার নিজস্ব বক্তব্য, দল/ বা সরকার এই দায় বহন করবে না! ”

    এখানে উল্লেখ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেফাঁস কথাবার্তার মাসুল এর আগেও সরকারকে গুনতে হয়েছে ( তিনি বলেছিলেন ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী- স্ত্রীর মতো!) তখনও শুধুমাত্র বক্তৃতার ক্ষেত্রে সতর্ক করা ব্যতিত তার বিরুদ্ধে অন্য কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বিধায় পরবর্তীতে তিনি একটার পর একটা বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েই গেছেন।
    একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে যা যা বলবেন তা কীভাবে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হতে পারে! নিঃসন্দেহে তার বক্তব্য দেশের জন্য অবমাননাকর, সংবিধান বিরোধী এবং জনসাধারনের মৌলিক স্বাধীনতার (ভোটাধিকার) উপর হুমকিস্বরূপ।

  5. রাজনীতি করতে গেলে চাটুকার আর মিথ্যাবাদী হতে হয়। তাই যে কোন দলেরই উচিত জনগনের পাছায় বাঁশ দেবার জন্য মিথ্যাবাদীকে নেতা বানানো।
    পলিটিক্স হলো জোয়ানদের জন্য। চাকুরী করার পর এক্সপায়ার হওয়া লোকের জন্য নয়!
    আর যেটা একেবারেই সত্যি আমলা কেন রাজনীতিতে আসবে। রাজনীতি তার জন্যই যে সারাজীবন রাজনীতির মাঠে থাকেন!!

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?