আজ এমন একজন ব্লগারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখছি যাকে নিয়ে লিখতে গেলে আমার শব্দভাণ্ডারে শূন্যতা বিরাজ করে। আমি খেই হারিয়ে ফেলি। কি লিখবো, কিভাবে তার সম্পর্কে পাঠকদের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করবো এসব ভাবনা মাথায় জট পাকিয়ে যায় এবং আমি ব্যক্ত করার মত শব্দ খুঁজে পাইনা।

সোনেলা ব্লগের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। তার লেখা গল্প, কবিতায় পাঠক আধুনিকতার ছোঁয়া খুঁজে পান সবসময়। তার লেখায় সমসাময়িক বিষয়কে কবিতার পঙক্তিমালায় শব্দের শৈল্পিক কারুকাজে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলার নিগূঢ় রহস্যের ব্যাখ্যা দেয়া আমার মত নগণ্য পাঠকের কাছে এক কথায় অসম্ভব একটি কাজ।

আপনি যদি সাহিত্য ভালোবাসেন এবং তার লেখা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলেও তাকে নিয়ে এবং তার লেখায় মন্তব্য করতে গিয়ে যেসব অভিজ্ঞতার মাঝ দিয়ে আপনাকে যেতে হবে তার নমুনা হচ্ছে-

প্রথমবার লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে কিন্তু কি মন্তব্য করবেন তা ভাবার জন্য আবারো সে লেখাটি আপনাকে পড়তে হবে। এরপর মন্তব্য লিখে প্রকাশ করার আগে মন্তব্যটি ঠিক হলো কিনা যা লেখার সাথে মানানসই সেটা বোঝার জন্য তার লেখাটিকে পুনরায় আপনাকে পড়ে সবকিছু ঠিক থাকলে কেবলমাত্র তখনই মন্তব্যটি প্রকাশ করতে হবে।

অর্থাৎ কমপক্ষে পুরো তিনবার পড়ার মত ধৈর্যশীল এবং মনোযোগী পাঠক হলেই কেবলমাত্র এটি সম্ভব। আর সেকারণেই তিনি আমার চোখে একজন অনন্য অসাধারণ লেখক যিনি লেখার মাধ্যমে পাঠককে তার নিজের লেখা বারংবার পড়ানোর এক নিপুণ কারিগর।

অথচ তিনি তার প্রোফাইলে লিখে রেখেছেন- “লেখালেখি আমার কম্ম নয় – সে আমি বুঝেছি জেনেশুনে বেশ আগে এবং ভালভাবেই, তবে পাঠক হওয়ার অদম্যতা দমনে অপারগ আমি বরাবরই……”।

আমি মনে করি এটি তার বিনয়ের প্রকাশ। তিনি যে নিখাদ একজন ভদ্রলোক সুলভ লেখক এবং পাঠক তার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে তিনি কখনো তার লেখায় কিংবা প্রদেয় মন্তব্যে প্রচলিত আঞ্চলিক শব্দ ও ভাষার প্রয়োগ বা ব্যবহার করেননা। এটাই তাকে আধুনিক একজন লেখক হিসেবে এক অনন্য স্থান অর্জন করতে সাহায্য করেছে।

যার সম্পর্কে লিখছি তিনি আর কেউ নন, আমাদের সকলের প্রিয় এবং সোনেলার অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার ছাইরাছ হেলাল ভাই।

তার প্রত্যেকটি লেখা সুনিপুণ শব্দশৈলীর মাধ্যমে সোনেলার পাঠকদের মন জয় করে নিয়েছে সবসময়। নিত্যনৈমিত্তিক যাপিত জীবনের কথাগুলোকে তিনি পাঠকদের জন্য মন উজার করে লিখতে পারদর্শী। কবিতা কিংবা গল্পে তার লেখায় শব্দের ঝংকার মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে পাঠককে।

তিনি আমাকে নিয়ে কাহিল শীতের ভালোবাসাবাসি শিরোনামে একটি কবিতায় লিখেছিলেন-

“কাহিল শীতে, এই গ্রহণ-কালে,
শৈত্য-প্রবাহের সাথে হিম বৃষ্টি ঠেলে ফেলে,
হিমালয়ে সে যাবে, পণ ধরেছে!
শেরপা বিহীন চূড়োয় উঠে গিরি খাদের ভাঁজ-খাঁজ খুলে খুলে।”

যার প্রতিউত্তরে আমিও ভালোবাসাবাসির খেলায় উপেক্ষিত শীত শিরোনামে একটি কবিতা তাকে উপহার দিয়ে লিখেছিলাম-

“প্রকৃতির পরতে ছায়ামেঘে হেঁটে বেড়ানো নির্জনতায়,
একাকী হারিয়ে যায় সে শীতকে সাথে নিয়ে।
পিছে রেখে যায় আম্রকাননে আগত বসন্ত;
একঝাঁক কোকিলের কবি-বন্দনা সুর আর
তাঁর কবিতায় উন্মাতাল এক মাতোয়ারা পাঠকের মুগ্ধতা।”

যেটি তার লেখা কবিতার শব্দ অলংকারের ধারের কাছেও যায়নি। আসলে এটি লেখকের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকারের একটি ব্যর্থ প্রয়াস বৈ অন্য কিছুই নয়।

আজ তিনি সঞ্চয়ের স্বপ্ন-স্বর্গ লেখাটির মাধ্যমে সোনেলায় নিজের ছয় শততম লেখার মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

আপনাকে অভিনন্দন ছাইরাছ হেলাল ভাই।

ব্লগার ছাইরাছ হেলাল ভাই সোনেলায় নিবন্ধন করেছেনঃ ৭ বছর ৮ মাস আগে এবং পোস্ট লিখেছেনঃ ৬০০টি।

তিনিই সোনেলার একমাত্র ব্লগার যিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করে আমাদের অনুপ্রাণিত করলেন, বেশি বেশি লিখতে উৎসাহ যোগালেন। আর একারনেই বলেছিলাম হেলাল ভাইয়ের মত এমন একজন ব্লগারকে নিয়ে লিখতে গেলে কেন শব্দ খুঁজে পাওয়া যায়না।

তিনি এ পর্যন্ত মন্তব্য করেছেনঃ ১৬৫২০টি এবং মন্তব্য পেয়েছেনঃ ১৮৮৬০টি

কাজেই বুঝতেই পারছেন তিনি তার লেখা দিয়ে এবং অন্যান্য লেখকদের লেখায় নিজের সুগঠিত মন্তব্য/মতামতের মাধ্যমে কিভাবে ব্লগে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। ব্লগার ছাইরাছ হেলাল ভাই আমাদের লেখনীয় শক্তির জন্য এক অনন্য অসাধারণ অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

সবশেষে আমার প্রিয় ব্লগারকে একটি কথাই বলতে চাই- ছাইরাছ হেলাল ভাই, কখনো যেন শুনতে না হয় আপনি ভালো নেই। আমরা নিয়মিত আপনার লেখা আমরা পড়তে চাই। সবসময় আমাদের লেখায় আপনার সুচিন্তিত মন্তব্য আশাকরি। আপনার কাছ আমাদের অনেক কিছু শেখার বাকী আছে এখনো। আপনার গঠনমূলক মন্তব্য আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। নিজের আত্মবিশ্বাসকে পাথেয় করে আপনি সামনে এগিয়ে চলুন। সোনেলায় আপনার বিচরণ দীর্ঘতর হোক এটাই কাম্য।

ভালো থাকুন সবসময়।

৩৬২জন ৪৮জন
0 Shares

৫২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য