স্বপ্ন।। ১৮ (ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প)

উর্বশী ৫ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ০৬:০০:৫৫অপরাহ্ন গল্প ৫২ মন্তব্য

নতুন ভাবনার নতুন সকালে আজ আর প্রচন্ড বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সমাহার নেই। তবে হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টিস্নাত দেখা যায়। জানালার বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে ঘুরতেই  সোফার পাশে লেখার খাতাটির দিকে দৃষ্টি পড়লো—++ বড় করে  সিরিয়াল ধরে লেখা।

১) কানাডা

২) অন লাইন বিজনেস

৩) গ্রীন প্রজেক্ট

৪) সোনেলা

৫) প্রকাশনা গ্রুপ—+ প্রতিভা প্রকাশ, সপ্তডিঙা প্রকাশন, হরিৎ প্রকাশন, সময়,ভিন্নমাত্রা, হাওলাদার প্রকাশনী।

৪ নম্বরে এসে অপলক  আঁখি, উপায় নেই দেয়ার কোনো ফাঁকি।

জরুরীভাবে ইঞ্জা ভাইয়াকে ফোন দিতে হবে কিছু আলাপ করার জন্য। মোল্লার দৌড় মসজিদ অব্দি প্রচলিত কথা যদিও এটি কাজের ধারার সাথে মিলে গেলেই বলে থাকি কম বেশী সবাই।  কারণ ইঞ্জা ভাইয়া ছাড়া অন্য কোনো আপুদের নাম্বার ও  আমার জানা নেই।

সোনেলার কাজের ধারা গুলো চমৎকার ভাবে  উপস্থাপন করেন  এডমিন,মডারেটর গন। যা আমাদের জন্য বেশ ভাল । সেজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ সহ কৃতজ্ঞতা জানাই। তার — ধারাবাহিকতায় ” স্বপ্ন ” সম্মিলিতভাবে লেখার আয়োজন।

কথায় বলে মানুষ তার  স্বপ্নের সমান বড়। কথাটি প্রতীকী অর্থ হিসাবে বলা হলেও, বাস্তবতা অনেক টা  এরকমই। কেননা মানুষ যা আশা করে, তা যদি সে বিশ্বাসে রুপান্তরিত করতে পারে তখনই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়। তাই স্বপ্ন বড় করেই দেখতে হয়, বিশ্বাসের সাথে তা ধারণ করে  সেই স্বপ্ন পূরণ এর পথ তৈরী করতে হয়। স্বপ্ন মানে বাস্তবতার সিঁড়িপথ ।  স্বপ্ন মানে একটি গন্তব্য,  যেখানে  আপনি/ আপনারা সবাই যেতে চায়। বাস্তবিক স্বপ্ন ও চেষ্টা  কখনোই বিফলে যায়না। মার্কনি স্বপ্ন দেখতেন স্রষ্টার শক্তিকে জয় করে কাজে লাগাবেন। তিনি যে ভুল স্বপ্ন দেখেন নি, তার প্রমান বেতার ও টেলিভিশন আবিষ্কার। তিনি যখন দাবি করলেন তারের সাহায্য ছাড়াই বাতাসের  মধ্য দিয়ে সংবাদ প্রেরণের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, তখন তার বন্ধুরা  তাকে মনস্তাত্ত্ব্বিক  হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। তাই তার স্বপ্ন ও বিশ্বাসের ফলশ্রুতিতেই অসাধ্যকে সাধন করা সম্ভব হয়েছে।

তবে #স্বপ্ন পূরণে  সফলতা অর্জনে  সততা ও পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। এর সাথে মেধা  ও স্বপ্নের  যোগ হলে সফলতা আসবেই।

ইঞ্জা ভাইয়ার  মোবাইল বেজেই যাচ্ছে কিন্তু তিনি রিসিভ করছেন না। আবার ফোন দিলাম বেজেছে, বেজেই যাচ্ছে— অপর প্রান্ত থেকে  হ্যালো —

সালাম ভাইয়া-++—++ ওয়ালাইকুম আসসালাম

জ্বি,আপু বলেন, কি খবর? —- জ্বি ভাইয়া — ভাল  আলহামদুলিল্লাহ।

আচ্ছা অল্প  কথায় সেরে ফেলি — ওকে আপু।

ভাইয়া,আমার গ্রুপ ও  বিজনেস পারপাসে  কোলকাতা কাজ আছে । ভাবছি সোনেলার টিম সাথে আশা করা যায় ?  —— প্রস্তাব মন্দ নয়, কিন্তু সবার জন্য একটু  ঝামেলা হতে পারে। –+++++ ওকে ভাইয়া, এডমিন প্যানেলের সব ভাইয়া, আপুদের সাথে আলোচনা করে আমায় জানাবেন প্লিজ।

নিদ্রাদেবী ভালোবেসে আজ  তাড়াতাড়ি আসতে চাচ্ছে, শুধু হাই উঠছে। রহস্য বিষয়টি আমার ভীষণ ভাল লাগে। হয়তো ছোটবেলা থেকেই এত রহস্য ঘটনা শুনে  আসছি বলেই এমন অবস্থা।

পাশের ফ্লাটের ভাই, ভাবী ও তাদের বাচ্চাদের সহ কোলকাতা যাওয়ার প্লান করছে, তাও আবার আমার যাওয়ার কথা আছে বলে সেই সুযোগ টি কাজে লাগাবেন শতভাগ। বার বার আসছেন, আর এটা জানতে চান সেটা জানতে চান, তাতে আমি খুব বিরক্ত। আমি এখন সোনেলার পাতায় বিচরণ করছি। ইশ, ইঞ্জা ভাইয়ের প্রথম ইনভাইট পাঠানোর সময় যদি ইন করতাম, কত ভাল হতো। নামও মানুষকে জানা সত্ত্বেও হ্যাকার গ্রুপ মনে করলাম। সেজন্য দুঃখিত।  মহীর কাছে শুনলাম সোনেলায় লিখতে  পারলে ভাল হবে, সোনেলার মত জায়গায় ই আমার লেখা দেয়া উচিৎ । সোনেলা  শোনার পরেই মহীকে ইঞ্জা ভাইয়ের কথা বলি এবং সোনেলা সঠিক ব্লগ, ইঞ্জা ভাইয়া ছাড়াও আরও অনেক গুনীজন আছেন। এখানে লেখা দিলে অনেক কিছুই জানা ও শেখা যাবে। আর সেটার প্রতি তো আমার আলাদা টান রয়েছেই। পরে ইঞ্জা ভাইয়ের  কমেন্টে ও ম্যাসেঞ্জারে সময় চেয়ে কথা বলার সুযোগ মিলে, আর বাকি টুকু শুধুই নতুন ইতিহাস।

আবারও হাই উঠছ, ঘুম ঘুম চোখে সোনেলার  সব গুনীজন আপুরা, ভাইয়ারা এক একজন এত ভাল লিখেন যে, সময়ের অভাবে আমি পড়ে  দিশে হারা।  সিজন আনুযায়ী  সবার লেখা অতুলনীয়।
কুড়িগ্রামে সোনেলার মিলন মেলার গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। মাশা আল্লাহ কত দেশ বিদেশের ভি আই পি গন সোনেলার উঠোন আরও সোনালী ময় করে তুলেছেন।
স্বপ্নের জগতে হারিয়ে যাচ্ছি।
সোনেলার নিজেদের উঠোন কে নিয়ে এবার দেশে নয় বিদেশেও আলো ছড়াবে।  জিসান ভাইয়া, ছাইরাছ ভাইয়া, তৌহিদ ভাইয়া, সুপায়ন দাদা, মমি ভাইয়া, লিটন ভাইয়া, খুরশীদ ভাইয়া, কামাল উদ্দিন ভাইয়া, হালিম নজরুল ভাইয়া, নিতাই দাদা সবাই এক রকমের সব ড্রেস পড়েছেন। অন্যান্য ভাইয়াদের নাম স্মরণ আসছে না। সবার নাম এখনো জানাও হয়নি।
সাবিনা ও বন্যা আপু, সুরাইয়া ও আরজু আপু, রেজওয়ানা, কুবরা, রুকু আপু, রেহানা ও সুপর্না আপু সহ অন্যান্য আপুদের নাম স্মরণ আসছে না। এখানেও সবার নাম জানা হয়নি। সেজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। সব আপুরাও কালার ফুল এক ই রকম ড্রেস পড়েছেন। পুরো সোনেলার টিম যেন মহা টিমে পরিণত হয়েছে। সবাই মজা করে যাবে বলেই বাসেই রওয়ানা দেয়া হয়েছে। সারা পথ গল্প,কবিতা আবৃত্তি, গান, সোনেলাকে নিয়ে যার যার ভাবনায় সাজিয়ে বলার মধ্য দিয়ে সময় টি ভালই কেটে যাচ্ছে। আমি সবার কাছে থেকে শুধু শুনেই যাচ্ছি। বাপরে! সোনেলা কে নিয়ে সবার মুখে খই ফোটে। ঝগড়ার আয়োজন করলেও সোনেলাকে সব ছিনিয়ে নিয়ে আসবেন। সোনেলা পরিবারের সবাই দীর্ঘজীবি হোক । সোনেলার সফলতায় এগিয়ে চলুক আমাদের সবার অফুরান ভালোবাসা ও শুভ কামনা রইলো ।

হোটেল হাজার দুয়ারী তে আমরা সবাই পৌছানোর পরে রিসিপশন মন্দ নয়। রাজকীয় আদলেই সব কিছু তৈরী করা র চেষ্টা করেছেন সব সময় ই করেন তিনি।
আমাদের আগেই গুন দাদা ও নুরুল হুদা ভাই পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ ঢাকা এয়ারপোর্টে ও তাদের নিয়ে আমার কাজ ছিল। লাইভ টেলিকাস্ট হয়ে থাকে, আবার কোলকাতায় ও একইভাবে কাজ হয়ে থাকে। আমরা কিংবদন্তি সহ অনেক গুণীজনের সাথে দেখা ওখানেও পাবো। বা পাবেন।

প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠান শুরু হলে পরিচয়ের মধ্য দিয়েই কাজ সারতে বলেছেন আপা। সোনেলার ভাইয়ারা ও আপুরা সবাই একে একে মঞ্চে যখন দাড়ালো তখন দেখতে অপুর্ব লাগছিলো সবাইকে। এমন করেই সোনেলার আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সোনেলা আজ দেশের গান্ডি পেরিয়ে বিদেশে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পেল। যা সোনেলা পরিবারের জন্য অতি আনন্দের।

এই আনন্দ সবাই সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য সোনেলা পরিবারের সবাই একসাথে কলকাতার নিউ মার্কেটে যাবে। যেহেতু পরের দিন সকালেই শান্তিনিকেতনে ঘুরতে যাওয়ার প্লান আছে। যার যার টুকটাক কেনাকাটা এই সুযোগে সেরে নিচ্ছে। কেনাকাটা শেষে সবাই হাজারদুয়ারী হোটেলে ফিরে আসলাম।

আপা এইদিকে আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। বাকি অনুষ্ঠান টুকু শেষ করবেন বলে। যথারীতি পরের পর্ব শুরু হলো। আবৃতিকার মুনমুন এর সাথে সোনেলা পরিবারের কয়েকজন ভাইয়া ও আপুরা গলা মেলাচ্ছেন। মন্দ লাগছে না। গুন দাদা অ নুরুল হুদা ভাই বেশ এঞ্জয় করছেন। এইদিকে আমি আমার বিজনেস ফাইলটি রেডি করে ফেলেছি। আপা এক ফাঁকে এসে এটা দেখবেন বলেছেন। ইশারায় বলে দিলেন। আমিও ঘাড় কাত করে সম্মতি জানালাম। কিন্তু কোনো মতেই তিনি ভিড় ঠেলে আমার কাছে পৌঁছাতে পারছেন না বলে হাত দিয়ে ইশারা করলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর সোনেলার পক্ষ থেকে জিসান ভাই সোনেলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার বক্তব্য এর মাধ্যমে  সবাইকে জানালেন।

আপা মঞ্চের থেকে তড়িঘরি করে নেমে আমার কাছে আসলেন ও ফাইলটি দেখে বললেন সব ওকে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করতে পারি। তুমি মানসিক প্রস্তুতি নাও। তোমার ফোনের দিকে খেয়াল করো, ফোন আসতে পারে। আপার একমাত্র মেয়ে স্বপ্নের পৃথিবী। সে আমার সাথে দেখা করে সোনেলা পরিবারের সবার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। সেই ফোন দিবে বলে আমি মহা খুশি। তাই বারবার ফোন দেয় কিনা। চারপাশের আওয়াজে রিং শোনা যাবে না। কিছুক্ষণ পরেই ফোন বাজলো। তাড়াহুড়ো করে ফোন ধরতে গিয়ে গেল হাত থেকে পড়ে! তারপর গেল ঘুম ভেঙে। নিচে থেকে ফোনটা তুলে দেখি ইঞ্জা ভাইয়ের ফোন। সোনেলা পরিবার থেকে কনফার্ম করেছেন, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে সবাই যার যার সুবিধা মতো যাচ্ছে। ধন্যবাদ।

[ বিঃ দ্রঃ কুড়েঘর সাহিত্য পরিষদ ও আনন্দ সংবাদ পত্রিকা (আন্তর্জাতিক), সোনেলা পরিবার কে সম্মাননা দিয়েছে। ]

*** ব্লগে সমস্যার কারণে পোস্ট দিতে দেরি হওয়ায় আন্তরিক ভাবে দুঃখিত ***

‘স্বপ্ন’।।১৭ (ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প)

৩৭৩জন ২৫জন
0 Shares

৫২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ