মার্চ মাসের ক্যালেন্ডারের পাতাটি এভাবেই আছে আজো। শেষ এসে বসেছিলাম  আমার প্রিয় সবুজে ঘেরা, পাখির কলতানে মুখরিত দুই কক্ষের বাংলো বাড়ির এই অফিস কক্ষে নয় মার্চ। আট মার্চ ঢাকায় প্রিয় একজনের সাথে শেষ বিকেলে বিদায় জানিয়ে লঞ্চে উঠি সন্ধ্যায়। সারারাত লঞ্চে ভেসে ভেসে নয় মার্চ ভোরে বাসায়। বিকেলের দিকে এসেছিলাম এখানে।  দীর্ঘ তিনমাস অতিক্রান্ত এর মাঝেই। আবার কবে ঢাকায় যাওয়া হবে জানিনা। সুদিন কবে ফিরবে আবার? কবে আবার দ্বিধাহীন ভাবে চলাচল করতে পারবো ইচ্ছে ডানা মেলে ধরে!

নয় মার্চ এই অফিসে আমার শেষ আসা। আজ ঠিক তিনমাস পরে এই অফিসে গেলাম। ধুলো জমে আছে মেঝেতে। গুমোট পরিবেশের আশংকায় সব সময়ই একটি জানালার কিছুটা খুলে রাখি। খুলে রাখা জানালায় অবাধে পাখির আনাগোনায় পাখিরাই দখল করেছিল তিনমাস এই কক্ষ। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো বিভিন্ন পাখির পালক, তাদের ঠোটে বয়ে আনা খড় কুটো, ছোট পাতা। পিঁপড়েরাও পিছিয়ে ছিলো না তাদের দখল দায়িত্ব প্রমাণে। মেঝে আর ওয়ালের সংযোগ স্থলে কালো কালো মাটির গুঁড়ো। চেয়ার, টেবিল, বইয়ের আলমিরার উপর ধুলার আস্তর। দুজন স্টাফকে দিয়ে ঘন্টা দুইয়ের ঝারা মোছার পরে চেয়ারে বসার মত উপযোগী পরিবেশ তৈরী করা সম্ভব হলো। অবৈধ দখল যেন পুনরুদ্ধার।

এই তিনমাস আসা হয়নি প্রিয় এই স্থানে। এই এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া আমার প্রিয় শান্ত নদীটির  টলটলে পানির ঢেউ গোনা হয়নি নদী তীরের বটের ছায়ায় বসে। শোনা হয়নি পাখির কলতান- দেখা হয়নি দোয়েল, চড়ুই, ঘুঘু সহ কত নাম না জানা পাখির সন্ত্রস্ত চলাচল। কাঠ ঠোকরার ঠক ঠক কররররররর করররররররর শব্দ। বারান্দা এবং ছাদের ফুল গাছ গুলো হাসতে ভুলে গিয়েছে যত্নের অভাবে। আমার অনুপস্থিতিতে কেমন ম্রিয়মাণ তারা সবাই। সবার গায়ে হাত বুলালাম আজ পরম যত্নে। হেঁসে উঠুক সবাই আগের মত করে।

ইচ্ছে করেই আজ আর স্মৃতিময় মার্চ এর ক্যালেন্ডারের পাতাটি উলটে দেইনি।
থাকুক এভাবেই,

#ছবি- নিজ

৩৭১জন ২০৫জন
18 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য