আমার একটি অশ্বথ ছিলো

খাদিজাতুল কুবরা ৩ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১২:৩৮:৩৮পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৫ মন্তব্য

 

মৃত্তিকার কোলে জন্মে দোল খেয়েছি অশ্বথ শেকড় ঝুলে।
হাঁটতে শিখেছি অশ্বথের ডালে আঙুল ছুঁয়ে।
হাতেখড়ি থেকে প্রাইমারি__
এক এক করে বিদ্যাপিঠের শেষ প্রাঙ্গন দাপিয়েছি অশ্বথের ছায়ায়।
রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝার সাধ্য কি আমার ছায়া মাড়ায়!
একদিন জোয়ার ভাটার খেলায় অশ্বথের শেকড় আঁকড়ে রাখতে পারেনি আর।
ভাসতে ভাসতে ঠাঁই হলো কাঠের পাটাতনে,
যেদিকে তাকাই অথৈ,
মাথার উপর থাকা সেই বোধিসত্ত্ব স্থির স্থিতধী কোথায়?
চোখের জল ছলকে উঠলে ট্যালিপ্যাথিতে শুনতাম অশ্বথের আকুল ডাক __
আয় ফিরে আয়!
স্বার্থপর আঠালো পোকার মতো খুবলে খেয়েছি ছাল বাকল।
কিছুকাল পর নিজের মধ্যে দেখি ছায়া অবিকল!
ধীরে ধীরে অশ্বথের কশেরুকাতে জন্মায় লসিকা মজ্জা,
আমি টের ও পাইনি আমার অশ্বথের সার খেয়ে নিয়েছে ঘুন পোকা।
হঠাৎ করে আমার অশ্বথ হেলে পড়লো অনন্ত ঘুমে।
ছুটে গিয়ে স্পর্শ করলাম নিস্তব্ধ নিথর শীতল দেহ!
অথচ শীত কাটতো আমার এ পাঁজরের ওমে।
আমার চিৎকার শিৎকার, কল্প রাজ্যের সোনার কাঠি
কোন কিছুই ভাঙতে পারেনি সেই কালঘুম।
রিখটার স্কেলে দশ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পনে চূর্ণ বিচূর্ণ হলো আমার ভেতর বাহির!
জীবন তাপ উত্তাপে গলে গলে শক্ত ধাতুতে পরিণত হওয়ার কৌশল শিখিয়ে __
অশ্বথ বিলীন স্মৃতি গর্ভে।
কাঠখড় রোদে পুড়ে তাম্রবর্ণ হয়ে নিঃশব্দে খুঁজি আর বুঝি অশ্বথের প্রতিরুপ আমি।

১৬৪জন ১৯জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ