সোনাদের আসর

জিসান শা ইকরাম ১ মার্চ ২০১৭, বুধবার, ১২:৫৮:১৪পূর্বাহ্ন সোনেলা বার্তা ৫১ মন্তব্য

সোনেলার মিলন মেলা ২০১৭ নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই আলাপ আলোচনা চলছিল। একবার তারিখ পিছিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হলো এই মিলন মেলা। সোনেলার ব্লগার, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়েই এই আয়োজন ছিল। মিলন মেলা সবার প্রত্যাশা পূর্ণ করেছে কিনা, তা বিশ্লেষণ করবেন অংশগ্রহণকারীরা। আমি আমার অনুভূতিই  প্রকাশ করছি এখানে। আমার কাছে এটি আমার নতুন এবং পুরাতন শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি প্লাটফর্ম মনে হয়েছে। যাদের সাথে একসময় দীর্ঘ বছর ব্লগিং করেছি, আবার বলতে গেলে একই সাথে একটি ব্লগ সাইট ত্যাগ করেছি, দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে তেমন কয়েকজন মিলিত হয়েছি। আবার বর্তমানে যাদের সাথে ব্লগিং করছি, আমার প্রিয় সোনাদেরও একই সাথে পেয়েছি। এ এক পরম প্রাপ্তি আমার কাছে।

বইমেলার মিলন মেলার স্থানে সবার আগে আমরা তিন বুড়োই হাজির হয়েছি। বুড়োরা যে কত করিৎকর্মা তা এই উপস্থিত হওয়া থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর এসেছে আমার অতি স্নেহের “গুরুজি” আইডির রবিন। অদেখা এই পাঁচ বছরে গুরুজি একলা থেকে দোকলা হয়ে গিয়েছে। প্রায় একই সময়ে এসে গেলেন সোনেলার এক সোনা নীহারিকা জান্নাত এবং একদা পরিচিত ব্লগার ছোট মির্জা। পাঁচ বছর পরে স্নেহের এ দুজনকে পেয়ে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত তখন আমি।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে গুরুজি এবং ছোট মির্জাকে পেয়ে ফটো সেশন এর সুযোগ কে ছারে?
দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে গুরুজি এবং ছোট মির্জাকে পেয়ে ফটো সেশন এর সুযোগ কে ছারে?  
নতুন এবং পুরাতন এর মাঝে সেতু বন্ধন যেন আমরা। নীহারিকা জান্নাত, কবি নাসির সরোয়ার ( ইনিও কিন্তু নতুন সোনা ), আনিছ , ছোট মির্জা এবং গুরুজি।
নতুন এবং পুরাতন এর মাঝে সেতু বন্ধন যেন আমরা। নীহারিকা জান্নাত, কবি নাসির সরোয়ার ( ইনিও কিন্তু নতুন সোনা ), আনিছ , ছোট মির্জা এবং গুরুজি।


হ্যালো ভাইয়া কোথায় আপনারা, খুঁজেই তো পাচ্ছি না। এইত এখানে আমরা, এখন রাস্তায় দাঁড়ানো যাতে সহজে দেখতে পাওয়া যায়। কথা হচ্ছে খসড়ার সাথে। কথা গুলো কি মোবাইলে শুনলাম না সরাসরি শুনলাম ঠিক বুঝতে পারছি না, ১৫- ২০ ফুট দূর থেকে কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না!সাথেই সাথেই চলে এলো আমাদের প্রিয় ডেভলপার নাজমূল এবং নাজিয়া। দুজনের মিলিত নাম হবে নানা। একে একে এসে পড়লেন মনির হোসেন ভাই, মজিবর ভাই, তানজিল, মারজানা ফেরদৌস রুবা। তাঁদের সাথে আসলেন কয়েকজন মেহমান, নামটা মনে করতে পারছি না। সবাইকে নিয়ে বৃত্তাকার ভাবেই বসে পড়লাম ঝড়া পাতা দিয়ে তৈরী আসনে। আর এক শুভাকাংক্ষী রুমানা গনি আপু আসলেন তাঁর এক বান্ধবী এবং পিচ্চি একজনকে নিয়ে। সবার জন্য উনি চকলেট নিয়ে এলেন। চকলেটের শেপ আবার হার্ট এর। আমেরিকা প্রবাসী রুমানা আপুর এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে একটি কাব্যগ্রন্থ। এক কপি উপহার হিসেবেই পেলাম আমি। এসে পৌছালো সত্যবটি মনোবট নামক আইডির তাঈফ। তাঈফের সাথেও দেখা হলো আমার পাঁচ বছর পরে।
আমার উপরে যার আস্থা একদম অন্ধের মত, মামা কোনো ভুল করতে পারেনা, এই যার চিন্তা এবং চেতনায় স্থায়ী হয়ে গিয়েছে সে শিপু এলো অনেককে সাথে নিয়ে। তাঁর প্রতি আমার ঋণ কখনো শোধ হবেনা। সবার নাম মনে নেই, ধীরে ধীরে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।


মাটিতে বসতে অনেকের সমস্যা হচ্ছিল। সবাই মিলে গিয়ে বসলাম সিরামিক ইটের এই গোল বেঞ্চিতে। হালকা আড্ডা এবং ফটো সেশনের মাঝেই বাতাসে দুর্গন্ধ ভেসে আসছিল। দুর্গন্ধের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেলো যে এর চারদিকে ভাত ফেলে রাখা হয়েছে। ভাত পঁচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বই মেলার অভ্যন্তরে কোন খাবারের দোকান নেই। এই ভাত কোথা দিয়ে আসলো এর কোন যুক্তিযুক্ত উত্তর খুঁজে পাওয়া গেল না।

আড্ডার একটি পর্যায়ে উপস্থিত হলেন আমাদের প্রিয় মুখ অরণ্য। সদা হাসিমাখা মুখে অরণ্যের উপস্থিতি মিলন মেলায় আলাদা গতি এনে দেয়। এমনভাবে সবার সাথে উনি মিশে গেলেন যে আমাদের সাথে এই প্রথম পরিচয় তা মনেই হলো না। সুযোগ পেলেই নানা এক হয়ে যাচ্ছে, অবশ্য আমরা এসব দেখি নাই। ক্যামেরা দেখেছে।

বই মেলা চত্বরে কোন খাবারের দোকান নেই, কিছু একটা খেতে হয়। অন্তত চা হলেও হয়। কার্জন হলের ছাত্র অরণ্য ভাইর নেতৃত্বে আমরা সবাই কার্জন হলের দিকেই গেলাম। প্রথম সুযোগেই ফটো সেশন। বইমেলা থেকে কয়েকজন বই কিনতে বা অন্য কারো সাথে দেখা করতে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমরা একজনই ছিলাম।

খাবার খেলাম তাও অরণ্য ভাইর ঐতিহাসিক ঝাল ফ্রাই আর ছোলা বুট। অর্ডার করলেন উনি এভাবেই। অবাক হয়ে দেখলাম অন্যান্য ছাত্ররা সবাইই ঝাল ফ্রাই অর্ডার করছেন। খসড়া যে পরপর দু-কাপ চা খেয়েছে এটি অবশ্য বলার আবশ্যকতা নেই। খসড়ার কথা বললেই সে আমার কথা বলে দেবে। অতএব চুপ গেলাম।

ঝালফ্রাই খেয়ে আবার ফিরে আসলাম বই মেলায়। দল বেঁধেই গেলাম রিমি রুম্মানের বইটি কেনার জন্য। বই এর স্টলে গর্বের সাথেই বলে এলাম, রিমি রুম্মান যে ব্লগে লেখেন, আমরাও সেই সোনেলায় লেখি।
রাস্তার জ্যাম এবং আমাদের খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাওয়া অনিকেত নন্দীনির সাথে দেখা হলো শেষ মুহুর্তে।
আর পনের মিনিট বিলম্ব হলে দেখাই হতো না। কারন বই মেলা বন্ধ হয়ে যেত।

লেখাটি অসম্পূর্ন, এই পোষ্টে আরো কিছু কথা যুক্ত হবে আগামীকাল। ততক্ষনে একটি ব্রেক। সাথেই থাকুন………।

৪৮৯জন ৪৮৯জন
0 Shares

৫১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ