রংপুরে কফি চাষে বিপ্লব

আরজু মুক্তা ৭ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ০৭:৫৫:৩১অপরাহ্ন এদেশ ২৫ মন্তব্য

কফি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয়। পৃথিবীর প্রায় ৭০ টি দেশে এই গাছ জন্মে। কফিতে ক্যাফেইন নামক একপ্রকার উত্তেজক পদার্থ থাকে। এটা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিনের কাজ শুরুর আগে, অথবা অলস বিকেলে কফিপান শরীর ও মনকে চনমন করে। কফিতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো আমাদের দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠেকাতে সাহায্য করে। আমাদের দেশে চায়ের পাশাপাশি কফির প্রতিও দুর্বলতা বেড়েছে অনেক।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে উত্তরাঞ্চলে এখন ব্যাপকভাবে চা চাষ হচ্ছে। রংপুরের মাটি তুলনামূলক কম খরা সম্পন্ন হওয়ায় কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও কফিচাষ বেশিদিনের নয় এদেশে। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে বপশ কিছু কফি বাগান গড়ে উঠলেও উত্তরবঙ্গে এই প্রথম। ইতিমধ্যে, কিছু উদ্যোমী ও আগ্রহী কৃষকের হাত ধরে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কফি চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এমনই একজন তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামের মোখলেছুর রহমান। তিনি ২০১৭ সালে কক্সবাজারের একটি নার্সারি থেকে ৮০০ টি কফি গাছের চারা নিয়ে এসে নিজের ২৮ শতাংশ জমিতে কফি চাষ শুরু করেন। দেড় বছরের মাথায় কিছু গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং তিনি ৫ কেজি শুকনো কফি বীজ সংগ্রহ করেন।

বীজগুলো খোসা ছাড়িয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো হয়। এরপর চটের বস্তায় নিয়ে, লাঠি দিয়ে আঘাত করে বীজের উপরের শক্ত কিন্তু পাতলা আবরণটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। এরপর আটার মিলে গুড়ো করে নেয়া হয়।

মোখলেছুর জানান এ বছরের ব্যাপক উৎপাদন দেখে কফির বাণিজ্যিক চাষাবাদের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ বছর ৪৫০ টি গাছে ফল ধরেছে। সে হিসেবে ২৫/ ৩০ কেজি শুকনো বীজ পাবন বলে আশা করছেন। সংগৃহীত বীজ থেকে বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন করবেন। এলাকার আগ্রহী কৃষকসহ কফি উদ্যোক্তাদের দ্বারা দেশব্যাপী সরবরাহ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

তার বাগান নিয়মিত পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। গাছের সার প্রয়োগ, মাটির অম্লত্ব ধরে রাখার জন্য চুন প্রয়োগ,  পানি নিষ্কাশন, বিভিন্ন রোগবালাই দমনে ব্যবস্থাপত্র প্রদান,  বাগানে ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ ( যেমন : ইপিল ইপিল, একাশিয়া, কলাগাছ)  রোপণ সহ নানা পরামর্শ দেন।

তার কফিচাষের সাফল্য দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হবেন। এবং আমরা আশা রাখছি সামনের বছরে নিজেদের উৎপাদিত কফি পান করে সকালের আড়মোড়া ভেঙ্গে নব উদ্যোমে যে যার কাজে নেমে পরবো।

সেদিন আর বেশি দূরে নয় ; হয়তো আমরাও কফি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বের বাজারে নাম লিখাবো।

৮৫২জন ৪৫৮জন
126 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য