মিতা- কি দিবো জবাব!

বন্যা লিপি ৩ মে ২০২০, রবিবার, ১১:৪৮:৫১অপরাহ্ন চিঠি ৩৭ মন্তব্য
  • মিতা/ শিরিন–

জানিনা কেমন করে তোমার জবাব লিখি। আজ আর কেমন আছো জানতেও ভয় পাই। প্রতিটি ঘরেরই তো একই চিত্র, একই ইজেলের গায়ে সাঁটানো চিত্রকল্প!

আমরা চেয়েছিলাম কবিতা, কাব্যের মোহে  করতে রচনা সোনালী দিনের আশার শব্দমালা বুনতে। তোমাকে বলার পরে নিজেই ভুলে আছি। কতটা দিন পেরিয়ে গেছে….  তবু হয়নি কিছুই সৃষ্টি!

একেকটা বন্দীজীবন দেখছি…. শুনছি, কি করে কাটাচ্ছে কাঁচঘরের চারদেয়ালের প্রজাপতি জীবন। কি নিদারুন ক্ষোভে উচ্চারিত শব্দের প্রয়োগ!  ভাবোন্মাদ,দিব্যোন্মাদ,বিদ্যানোন্মাদ…..বিশ্বের সাথে তাল মেলানো কথা বলা যত সহজ;ততটাই কঠিন কঠোর আমাদের আর্থসামাজিক দৃশ্যে। তুমি আমি আমরা সবাই মানি।

জানো, মাঝে মাঝে আমাকে কেউ কেউ বলে বসে — ” আপনি তো…..র দলীয় লোক!” প্রতিবাদ করি জোড় গলায়। লেবেল দেয়া যাবে না আমাকে। আমি খুব সাধারন ভাবে বুঝি আমার অধিকার। তাহলে জিগ্যেস করতেই পারো…… কি আমার অধিকার?

বলতে পারার অধিকার
সুবিধা বঞ্চিত আমি, নাগরিক অধিকার
ন্যায্য সুবিধা ,যা আমার পাওনা জন্মাধিকার বলে।

মা তার সন্তানদের ফাঁকি দিচ্ছে উনুনের হাড়িতে পাথর চাপা দিয়ে। রাষ্ট্রের গোলায় চালে ডালের তস্কর! কোথায় আমার কাব্যেরা জোগাবে ক্ষুদার নিবৃত্তি বলতে পারো?

রোকেয়া ভাবি সেদিন ফোন দিয়ে কেঁদে ফেললো মনোঃকষ্টে , তাঁর গৃহকর্মী  নসিমন, তাঁকে ফোন করে বললো, ‘খালাগো,  আইজ তিনদিন ধইরা পোলা মাইয়া লইয়া কলসির পানি খাইয়া আছি, কয়দিন বাঁচমু কইতে পারিনা খালা!”

জানো মিতা,
আমিও টের পেলাম, আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, কিন্তু চোখে এক ফোঁটা জল নেই আমার। চোখে আমার ক্রোধের আগুন।

আমার সাহায্যকারী দুদিন ফোন দিয়েছে, আমি অসহায়ত্বও ভুলে গেছি।

প্রতিদিন বেঁচে উঠছি — প্রতিদিন দিন পার করছি, রাত পার করছি ,প্রার্থনা করছি…… প্রতিদিন চোখ রাখছি আরো একটু মহাদূর্যোগের পরিস্থিতী জানতে! ততটাই নিজেকে আরো বেশি দেখছি মহাপ্রয়াণের ঘাটে পা রাখতে।

আমাদের দেখা হবার কথা ছিলো। তোমার ছোটো ছেলে জানান আমার কাছে প্যারাস্যুট আর ঘুড়ি আবদার করেছে। আমি জানিনা কখনো বাবাটার এই ছোট্ট আবদার পূরণ করার ফুরসত মহান আল্লাহ্ আমাকে দেবেন কিনা!

যদি ক্রান্তিকাল কেটেও যায়… আমরা জানিনা আরো কোন পঙ্গপাল অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য দূর্ভিক্ষ নিয়ে। এইসব মেঘ কেটে গিয়ে আমাদের জন্য হেসে উঠবে কিনা আগামীর নতুন কোনো পৃথিবী?

সেই দিনের আশায় তবু বেঁচে থাকি আর কটা দিন!
তোমার ছেলে মুক্ত আকাশে উড়বে,ওড়াবে রঙিন ঘুড়ি।

আমার ছেলেরা আবার নিশ্চিন্তে গলির মোড়ে খুঁজবে বন্ধুদের আড্ডাবাজি। নিশ্চিন্তে সামাজিকতা বেড়ে উঠবে মানবিকতার নবজন্মে!

কাব্যেরা নেবে ঠাঁই আমাদের পৃষ্ঠার আলপনায়।
নিরন্ন মানুষ মুখে হাসি নিয়ে বলবে –” ভালো আছি”।
সেদিন আমিও বুক ভরে নিশ্বাস নেবো।
সেদিন আমিও লিখবো তোমাকে বেশ লম্বা করে ভালবাসার চিঠি।

ভালো থেকো ততদিন।
ভালো থেকো সবাইকে নিয়ে।

তোমার মিতা–
বন্যা//

৩৪২জন ১৯৪জন
14 Shares

৩৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ