বৃষ্টি নূপুর

আরজু মুক্তা ৬ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ১১:৫৭:৫৭পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৬ মন্তব্য

আজ ২২ আষাঢ়!! বৃষ্টি নূপুর পরে সেজেগুজে আসতে দেরি হয়ে গেলো। বাইরে বৃষ্টি ঝরলে মনেও এর ছাট এসে লাগে। বৃষ্টি রিমঝিমিয়ে ঝরলে মনটাতেও “রিমঝিম ঝিম ঝিম ঝিম ঘন দেয়া বরষে” গানের সাথে নাচতে ইচ্ছে করে। আর মুষলধারে ঝরলে”বৃষ্টি নূপুর পরে বর্ষা এলোরে; সারা গায়ে গোলাপ পানি ছিটিয়ে দিলো রে” গানটি অবলীলায় মনের চারিপাশে গুনগুন করে। ধীর লয়ের বৃষ্টিতে অতীত মনে পরে যায়। পাশের বাড়ির টিনের চালের উপর সহসা বৃষ্টির শব্দ, ছোটবেলার “আয় বৃষ্টি ঝেঁপে ধান দিবো মেপে” ছড়াটি স্মৃতিতে ভাসে । তরুণ তরুণীর মনে “শাওনও রাতে যদি/স্মরণে আসে মোরে/বাহিরে ঝড় বহে /নয়নে বারি ঝরে!” দোলা দিলেও মন্দ না।

বৃষ্টির সাথে যেনো মধুর এক সম্প্রীতি আমাদের। ঠিক এই সময় এফ এম রেডিওতে হেমন্তের কণ্ঠে শুরু হয় বর্ষার গান” এমনও দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘন ঘোর বরষায়।” আর অকারণে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে পৃথিবীও ঝাপসা হয়ে যায়। ঐ জানালার গ্রিল দিয়ে যে ছেলেটাকে দেখা যেতো; সেও একদিন নিয়ে চলে গিয়েছিলো আমার ফুল বাগান, সমস্ত সৌরভ, ব্যঞ্জনা,নিশ্চুপ বিকেল, হারানো শৈশব।

শৈশবে মাছ ধরাটাও ছিলো মজার। নতুন পানি, নতুন মাছ! কি চকচকে মাছের রং! জমিতে একহাঁটু কাদা আর উচ্ছল সবুজ ঘাস ঠেলে মাছ ধরা! সে কি ভোলা যায়!

বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যেবেলা যেনো এক রূপকথার মতো। শেয়াল আর পেঁচার ঘনঘন হাঁকডাক। দূরের পথচারীর হাতে টর্চলাইট এক মোহনীয় আলোর সৃষ্টি করে। নানি দাদুর ভূতের গল্প যেনো দৃশ্যমান ভূত। রাস্তার লাইটের আলো গুলো পানির সাথে এক ভৌতিক যোগাযোগ রেখে চলেছে। বাবার উঠানে এসে কাক ভেজা শরীরে হাঁকডাক আর মায়ের ডিম খিচুরি! পরম তৃপ্তিতে ঘুম দেয়ার সময় ব্যাঙদের রহস্যময় ডাকাডাকির প্রতিযোগিতা আমাদের ঠেলে দেয় অপার বিস্ময়ের মেলায়।

আকাশ আর মাটির প্রেমের উপাখ্যানে আমরাও হারিয়ে যাই বৃষ্টিমুখর এই দিনে। চির সবুজের উৎসবে।

আজকে থাকুক এটা বারণ সেটা মানা

পদে পদে হরেকরকম নিষেধ শোনা

বৃষ্টি স্নানের একটু খেলায়

যাইনা চলোরে———-!

★★ছবিটি বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে তোলা।

৭৫২জন ১০৮জন
46 Shares

৩৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য