চশমা পরা ছেলেটি

আরজু মুক্তা ১৪ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ০৪:৫৭:৩৬অপরাহ্ন ছোটগল্প ২৫ মন্তব্য

ইদানিং মায়ের রুমের সামনে আসলেই পায়ের গতি শ্লথ হয়। ঘটক পাখি ভাই এর নিত্য আনাগোনা চলছে। আমিও আড়িপাতি।

মা, তোমরা যতই যাই বলো। চশমা পরা ছেলে ছাড়া আমি বিয়ে করবো না। আর দরজা লাগায় দাও।

অফিস থেকে ফিরে দেখি, টেবিলের উপর চশমা পরা মায়াবী ছেলের এক ছবি। নীচে একটা কাগজে মায়ের হাতের লেখা চিরকুট। ” ছেলেটা খুব ভালো। মোবাইল নং দেয়া থাকলো। কথা বলে দেখো। ”

তিনবার রিং হওয়ার পর ধরলো।

কল রিসিভ করতে এতো সময় লাগে কেনো?

না, মানে!

মিনমিনে স্বভাবের ছেলে আমার পছন্দ না।

হৃদ কম্পন বেড়ে গেছে!

কি?  আমাকে ডাইনী মনে হয়? বশীকরণ করবো? আপনার ঘাড় মটকায় দিবো?

তা, না!  কখনো এভাবে মেয়ের সাথে কথা বলিনি।

ন্যাকামো!  যতো সব। অফিসে মেয়ে কলিগ নাই? এখন কী করেন?

ছাদে, চাঁদ দেখি।

আমিও দেখতেছি।

মিল পাওয়া যাচ্ছে।

মা তো বলে, আপনি ঠাণ্ডা। মুখে রা নেই।

কেনো আমি বোবা?

সেটা বলিনি। ভালোই কথা জানেন ; সেটা ভাবছি। আচ্ছা, আমার সাথে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে পারবেন?

সব পারবো।

তাহলে ছাদ থেকে লাফ দেন এখনি।

এটা কি করে সম্ভব?

কেনো?  আপনি তো বললেন, সব পারবেন!

এটা তো, ইয়ে!

বুঝছি, আপনি খুব রোমান্টিক !  আজ রাখি। শুভ রাত।

আর একটু কথা বললে হয় না?

কি?

আচ্ছা।  শুভরাত।

বাড়ি থেকে ওদের পরিবারে জানিয়ে দেয়া হলো। ছেলে মেয়ে কাল দেখা করবে।

আমি হৈমন্তী!  একটু চঞ্চল। তবে, ধৈর্যশালী। ছেলেটির ছবি দেখছি আর ফোনালাপ ভাবছি।  চশমিশ, মায়াবী চেহারা। লাজুক ভাব। জ্বালানো যাবে। মনের অজান্তে ভালো লাগা কাজ করলো।

পরদিন, নীল রং এর শাড়ি পরে তৈরি হয়ে নিলাম। সাথে ভাই, বোন, মামা,  মামি। গিয়ে দেখি, ছেলেটা ফুল হাতে বসে আছে। মজা করার জন্য পিছন থেকে গিয়ে বললাম, ” খোঁপায় ফুলটা পরিয়ে দেন। ”

শাওন তো দারুণ ভাবে চমকে গিয়ে ; আমাকে দেখে বেমালুম সব ভুলে গেলো।

এই যে মিস্টার!  চোখের সামনে হাত ইশারা করে বললাম।

ও হ্যাঁ!  কোথায় পরাবো?

হায় কপাল!  ফুল কোথায় পরে, তাও জানেন না!  এই যে,  চোখ দেখছেন না?  চোখ বরাবর।

ছেলেটা মনমরা হয়ে চুপ করে থাকলো।

আমি বললাম , ” কবিতা শুনবেন? ”

শাওন কিছু বলে না।

শুনুন তাহলে :

“যদি মেঘলাদিনের এক বিকেলে

কবি হয়ে আসি ; তোমার প্রিয় শহরে

কফি হয়ে হাঁটবে কি হৃদয়ের আলপথ ধরে?”

না!  মন ভালো হলো না !

আচ্ছা, গান শোনেন। ”  তুমি বরুণা হলে হবো আমি সুনীল। তুমি আকাশ হলে হবো শঙ্খচিল। ”

এইবার হেসে ওঠে। বলে, ” এই গানটা ওর ভীষণ পছন্দ! ”

কেমন জানি বাচ্চাদের মতো নির্মল হাসি। অদ্ভুত আর মায়াবী দৃশ্য। হারিয়ে ফেলি নিজেকে অন্য এক ভালোলাগায়। মানসপটে শুধু দুজন। আচমকা দেখি,  শাওনও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে, মা কে বলি, ” ছয় ঋতু আর বারো মাসের প্রত্যেক দিন ;  এই ছেলের সাথে কাটাবো। ”

মা সুখবরটা সবাইকে জানানোর জন্য মোবাইল বের করতে করতে ; ফিসফিসিয়ে কী বললো জানেন?

“পাগল।”

 

ছবি : নেট

 

 

৪০৩জন ৭জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য