আমি বিবাহ করেছি, ১ আষাঢ় ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদি খাঁন থানাধীন তালতলার দক্ষিণে এবং সুবচনী বাজারের পশ্চিমে নয়াবাড়ি গ্রামের এক গরিব পরিবারের মেয়ের সাথে। বিবাহ করেছি নিজের ইচ্ছেতে। প্রথমে বছর দুয়েক প্রেম প্রেম খেলা। তারপর মা এবং বড়দা’র সম্মতি ক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে। বিয়ে করেছি বর্তমানে ৩৪ বছর গত হতে চললো। কিন্তু বর্তমান করোনা দুঃসময়ের কারণে নিজের বিবাহবার্ষিকীর কথা একেবারেই ভুলে গিয়েছিলাম। নিজের মন থেকে ভুলে গেলেও মনে করিয়ে দেওয়ার জীবনসঙ্গী এখনো সাথে আছে বলেই, তিনি গত ক’দিন আগে আমাদের বিবাহবার্ষিকীর কথা মনে করিয়ে দিয়ে বললো, “পহেলা আষাঢ় কিন্তু আমাদের বিবাহবার্ষিকী।”

জীবনসঙ্গী বা সহধর্মিণীর মুখে বিবাহবার্ষিকীর কথা শুনে মনে মনে ভাবলাম যে, আমাদের হিন্দুদের বিবাহের বা বিয়ের নিয়মকানুনগুলো যদি সোনেলা ব্লগে লিখে সবার মাঝে শেয়ার করা যায়, তাহলে মনে হয়ে ভালোই হয়! সেই ভাবনা থেকেই আমার আজকের লেখার শিরোনাম দিলাম, “আমাদের বিবাহবার্ষিকীতে হিন্দু বিয়ের নিয়ম ও সাত পাক ঘোরার মাহাত্ম্য”। এই সাত পাক ঘোরে হিন্দু ভাই-বোনদের সবারই বিয়ে হয় ঠিকই, কিন্তু অনেকেই জানেন না এর কী  মাহাত্ম্য। তাই আজ আমার লেখার শিরোনামের শেষের শব্দটাই হলো ‘মাহাত্ম্য’

আমরা অনেকেই জানি যে, হিন্দু ধর্মের এক ছেলের সাথে  এক মেয়ের বিবাহ বা বিয়ে হয়ে গেলে তা ভাঙ্গার বা অস্বীকার করার মতো ক্ষমতা কারোরই নেই। আর কেউ অস্বীকার করেও না। অনেকেই বলে, হিন্দু বিয়ে সাত পাকে বাঁধা বলেই কেউ অস্বীকার করতে পারে না; আবার কেউ অতি সহজেও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না।

হিন্দুদের বিয়েতে শুধু সাত পাকে বাঁধা এটাই শুধু নিয়ম নয়, হিন্দুদের বিয়ের আগে পরে এমন আরও অনেক  কঠিন কঠিন নিয়ম বাঁধা রয়েছে। যার কারণে খুব সহজে কেউ বিবাহ বা বিয়েকে অস্বীকার করতে পারে না। সংসার জীবনে যত দুঃখ আর যত ঝামেলাই আসুক-না-কেন, কোনমতেই ঝটপট আরেকটা বিয়ে করতে পারে না। এ হলো হিন্দু ধর্মের ছেলেদের বেলায়। আর মেয়েদের বেলায় তো আরও কঠিন নিয়মকানুনে বাঁধা থাকে। তাহলে জেনে নিন আমাদের হিন্দুদের বিবাহ বা বিয়ের আগে পরের এবং বিয়ের দিন সাত পাক ঘোরার মাহাত্ম্য কী?

এমনও তো হতে পারে যে, আর ক’দিন পরই আমাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনও-না-কোনও ভাই-বোনের শুভ বিবাহের দিন ধার্য্য করা রয়েছে। তাহলে আগে থাকতেই তো এবিষয়ে জেনে নেওয়া ভালো। কারণ, একথা স্বীকার করতে পারবেন না যে, হিন্দু বিয়ের কঠিন সব মন্ত্রের মানে আমরা অনেকেই জানি। যাঁদের জানা নেই, তাঁদের জন্যই আমার বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে আজকের এই লেখা।

বিবাহ কথাটর প্রকৃত অর্থ হলো পরিণয়। আবার পরিণয় কথার অর্থ হলো বিবাহ। মানে দুটি মনের চিরবন্ধন। তাও সাত জন্মের জন্য বাঁধ। হিন্দু বিবাহে শুধু দুটি শরীরই এক নয়, এক হয় দু-দুটো পরিবার। আবার বিয়ের সময় চন্দ্র, সূর্য, অগ্নি, বাতাস, জল, ফল, ধান, দূর্বা, লতা, পাতা, ফুল, চন্দনকে সাক্ষী রেখে স্বামী স্ত্রী সাত পাক ঘুরে যেই সাতটি প্রতিজ্ঞা করেন, তা তাদের দুজনকে সাত জন্মের জন্য এক করে দেয়া। বিবাহের দিন পুরোহিতের মন্ত্র দ্বারা হাতের উপর হাত রাখা, মালাবদল, অগ্নিতে খই পোড়ানো, সিঁদুরদান-সহ নানাবিধ নিয়ম পালন করার পর একটি বিয়ের কার্যসম্পাদন সম্পন্ন হয়।

আগেই বলে রাখা ভালো যে, হিন্দু ধর্মে থাকা বিভিন্ন জাত গোত্র ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্নরকম নিয়মে ভারত-সহ বাংলাদেশি বাঙালি হিন্দুদের বিয়ের নিয়মগুলোতে অনেকরকম অমিল দেখা যেতে পারে। তবে যে যেই নিয়মেই বিয়ের কার্যসম্পাদন করুক-না-কেন, প্রতিটি বিয়েতেই সাত পাক ঘোরার নিয়ম রয়েছে। এই সাত পাক ঘোরার নিয়ম কোনও জাত গোত্র বা কোনও সম্প্রদায় বাদ দিতে পারে না। ছেলে/মেয়েকে বা বর কনে একসাথে সাত পাক ঘুরতেই হবে।

আমি বাঙালি। তাই আমার দেশের হিন্দুদের বিয়ের নিয়মগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের দেশে যেকোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে/মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে ছেলের বাড়ির নিয়ম মেনেই বিবাহ বা বিয়ের কার্যসম্পাদন শেষ হয়ে থাকে। এই নিয়মেই বেশিরভাগ হিন্দুদের বিবাহ বা বিয়ে হয়ে থাকে। তবে আমার বিবাহ বা বিয়ের কার্যসম্পাদন হয়েছে মেয়ের বাবার বিড়িতে। এর কারণ হলো, আমি তখন নারায়ণগঞ্জ শহরের নন্দিপাড়ায় মাকে নিয়ে ছোট একটা বাসা ভাড়া করে থাকতাম। ওই বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান করার তেমন কোনও জায়গা ছিল না, তাই। এবার জেনে নিন হিন্দুদের বিয়ের নিয়মগুলো।

১। পাকা দেখা বা পাটিপত্র ও আশীর্বাদ:

পাকা দেখা বা পাটিপত্র হলো, বিয়েতে ছেলে পক্ষ এবং মেয়ে পক্ষের কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা এবং আরও বেশ কয়েকজন মুরুব্বি সাক্ষী রেখে একজন পুরোহিত দ্বারা সাদা কাগজে অথবা ১০০(একশো) টাকা মূল্যের দলিলে লিপিবদ্ধ করে রাখার নামই হলো; পাটিপত্র। যাকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিয়ের কাবিননামা বলা হয়ে থাকে। এদিন পাকাকথা এবং দলিল লেখা হয়ে গেলে ছেলে পক্ষ থেকে মেয়েকে মিষ্টিমুখ করে সোনার আঙটি অথবা অন্যকোনো গয়না পরিয়ে দিয়ে মেয়েকে আশীর্বাদ করা হয়। এরপর উপস্থিত বয়ষ্ক মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে পাড়াপ্রতিবেশিকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, অমুকের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে।

ছেলে পক্ষ মেয়ের বাড়িতে কথা পাকাপাকি করে ছেলের বাড়িতে এসেও একইরকম উলুধ্বনি দিয়ে ছেলে বাড়ির পাড়াপ্রতিবেশিদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এখানেও উপস্থিত থাকা সকলে মিষ্টিমুখ করে থাকেন। তবে আমার বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ আমার ভাড়া বাসায়। মেয়ের বাবা একজন পুরোহিত সাথে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ এসে আমার বাসায় বসে বিয়ের দিন-তারিখ-সহ আরও অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করে সাদা কাগজে শর্তগুলো লিপিবদ্ধ করেন এবং আমাকে একটা সোনার আংটি দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন। তারপর ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত উপস্থিত মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন।

২। আইবুড়োভাত:

আইবুড়ো অর্থাৎ এখনও অবিবাহিত বা সবার চেয়ে বড়। তাঁর হাতে রাঁধা ভাত। এই নিয়মটা আমাদের বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে অনেক জাত গোত্র ও সম্প্রদায়ের মধ্যে মানা হয়, আবার অনেকেই নিয়মটা মানেন না বা করেন না। এই নিয়মটা হলো, উভয়পক্ষের। বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গেলে ছেলের অনেক আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব ডেকে খাওয়ানোর একটা অনুষ্ঠান। আবার মেয়ের পক্ষেও তেমনই করতে হয়। খাবারের আয়োজনে থাকে অনেক রকমের মাছের তরকারি। মাছের মাথা দিয়ে মুড়িঘণ্ট। মাছের ঝোল বা ঝাল, মাংস, চাটনি সহ নানা পদ হয় এই আইবুড়োভাত অনুষ্ঠানে। যিনি আইবুড়ো তিনি এসব তরকারি দিয়ে ভাত মেখে প্রথম গ্রাস ছেলে অথবা মেয়েকে খাইয়ে দেন। এরপর এই মাখা ভাত খেতে উপস্থিত অনেক অবিবাহিত ছেলে/মেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে অনেকেই বিশ্বাস করে এই মাখা ভাত বর অথবা কনের হাতে যাকে খাওয়ায় তার বিয়েও তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। ফলে অনেকের মধ্যেই এই ভাত খাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যায়। তবে আমার আত্মীয়স্বজনের মাঝে এমন কোনও আইবুড়ো ব্যক্তি ছিল না বিধায়, আমার মা এই নিয়মটি বাদ রাখে। বিয়ে ঠিক হওয়া মেয়ের বাবার বাড়িতে ছিল একইরকম অবস্থা।

৩। শাঁখা পলা পরা:

বিয়ের ঠিক আগের দিন। যেই দিনটাকে বলে অধিবাস। এই দিন বিকালবেলা বিয়ে ঠিক হওয়া মেয়েকে নিয়ে তার মা বা বাড়ির বড়রা নিকটস্থ কোনও মন্দিরে যায়। তারপর মন্দিরে থাকা মাটির তৈরি দেবমূর্তি ও পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে মেয়ের মা অথবা কাকীমা, জেঠিমা বা অন্য বড় কেউ মেয়েকে শাঁখা আর লাল পলা পরিয়ে দেয়। শাঁখা হলো শাঁখ থেকে তৈরি, আর পলা হয় লাল রঙের। এই সাদা লালের জুটি হল এয়োস্ত্রী বা গৃহলক্ষ্মীর চিহ্ন। এই নিয়মটা শুধু মেয়ে পক্ষেরই নিয়ম।

৪। জল সইতে যাওয়া বা জলভরা: 

বিয়ের দিন ভোরবেলা ছেলের ও মেয়ের  মা এবং আরও কয়েকজন বিবাহিত মহিলা বাড়ির আশেপাশে থাকা কোনও পুকুর অথবা নিকটস্থ কোনও নদীতে  জল সইতে যায়। জল সইতে যাওয়া বিবাহিত মহিলারা তামার পাত্রে বা পিতলের কলসিতে জল ভরে এনে রাখা হয়। বর্তমানে অনেকে এই নিয়মটা সকালের পরিবর্তে বিকালবেলা করে থাকে।

গায়ে হলুদ মাখার পর এই জল দিয়েই ছেলে ও মেয়ের যাঁর  যাঁর বাড়িতে স্নান করানো হয়। জল সইতে বা জল ভরতে যাওয়ার সময় গান গাওয়ার রেওয়াজ আছে। বর্তমানে ব্যান্ডপার্টি ভাড়া করে এনে বাজনা বাজিয়ে বাজনার তালেতালে নেচে-গেয়ে জলভরার আয়োজন করা হয়। তবে আমার বিয়ের সময় এই নিয়মটা ছিল ঠিক ভিন্নরকম। মানে, আমি বিয়ের আগের দিন অর্থাৎ অধিবাসের দিনই আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে মেয়েদের বাড়িতে চলে যাই। এর কারণ ছিল, নারায়ণগঞ্জ নন্দিপাড়া ভাড়া বাসার বাড়িওয়ালা এতো ঝামেলা করতে দেয়নি বলেই, আমি বিয়ের আগের দিন মেয়ের বাড়িতে হাজির হই। আমার পক্ষ থেকে নিয়মগুলো মেয়ের বাড়ির মুরুব্বীরা সমাধান করেছিল।

৫। গায়ে হলুদের নিয়ম: 

তাজা হলুদ শিলপাটায় বেটে তার সঙ্গে সরষের তেল দিয়ে মাখা হয়। প্রথমে ছেলের মা ও বিবাহিতা আত্মীয়রা এই হলুদ ছেলের বা বরের শরীরে মুখমণ্ডলে মেখে দেয়। জল সইতে বা জল ভরতে গিয়ে পুকুর থেকে অথবা নদী থেকে যে জল আনা হয়েছিল, সেই জল দিয়ে ছেলেকে স্নান করানো হয়। বেঁচে যাওয়া হলুদ কাঁসার বাটিতে করে ছেলের বাড়ির আত্মীয়স্বজনরা মেয়ের বাড়ি নিয়ে যেতে হয়। এই হলুদের সাথে মেয়ের গায়ে হলুদের সাদা  লালপেড়ে শাড়ি, আর সিঁদুরের ফোটা লাগানো গোটা একটা রুই মাছ এবং অন্যান্য উপহার নিয়ে যান ছেলে পক্ষের আত্মীয়রা। এই হলো হিন্দুদের বিয়ের আগে গায়েহলুদের নিয়ম।

৬। দধি মঙ্গল:

দধি মানে দুধের তৈরি দই, আর মঙ্গল মানে শুভ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দইকে খুব শুভ মনে করে। অনেকেই সেইজন্য দইয়ের ফোঁটা লাগিয়ে পরীক্ষা দিতে বা যেকোনো শুভ কাজে রওনা হয়। বিয়ের দিন খুব ভোরবেলা অর্থাৎ পূর্বাকাশে সূর্য না উঠতে ছেলে ও মেয়েকে দই, চিঁড়ে, কলা ও সন্দেশ দিয়ে মেখে খেতে দেওয়া হয়। তারপর সারাদিন অর্থাৎ বিয়ের দিন তারা উভয়ই উপোস করতে হয়। বিয়ের কার্যসম্পাদন শেষ হলে তবেই তারা খেতে পারে, এর আগে আর কোনও পানাহার করা যায় না। এই নিয়মটাও আমি মেয়ের বাড়িতেই সেরেছিলাম।

৭। বৃদ্ধি পুজো:

ছেলে ও মেয়ের বাড়িতে আলাদা করে এই পুজো করা  হয়। ছেলে ও মেয়ের বাবা বা পিতৃতুল্য কেউ যদি থাকে,  যেমন:  কাকা, জ্যাঠা, মামা, বড়দাদা এরা এই পুজো করেন। পুরোহিতের বলা সংস্কৃত মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে যার বিয়ে হচ্ছে তার সাত পুরুষের উদ্দ্যেশে এই পুজো করা হয়। এখানে স্বর্গত পূর্বপুরুষের কাছে ছেলে ও মেয়ের মানে বর ও কনের জন্য আশীর্বাদ চাওয়া হয়। এই পূজোটা বিয়ের দিন বিয়ের আগে যেকোনো সময়ই করা যায়। কিন্তু বাধ্যতামূলক করতেই হবে। আমার বিয়ের সময় বিয়ের আগে মেয়ের বাড়িতেই এই বৃদ্ধি পূজার কার্যসম্পাদন করেন আমার বড়দাদা।

৮। বরযাত্রীদের আদর আপ্যায়ন ও বরকে বরণ:

ছেলে বা বর মাকে প্রনাম করে বিয়ে করতে যায়। সাথে যাঁরা থাকেন, তাঁদের বলে বরযাত্রী। মেয়ে বা কনের বাড়িতে যাওয়ার সাথে সাথেই বরযাত্রীদের সাদর আপ্যায়ন করা হয়। মেয়ের মা অথবা মেয়ের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে থাকা বিবাহিত একজন মহিলা একটা কুলোয় হলুদ, পানের পাতা, সুপুরি ও প্রদীপ নিয়ে বরকে বরণ করে থাকে। তারপর মেয়ে পক্ষের সকল বিবাহিত অবিবাহিত মেয়েরা বাড়ির গেইটে লাল ফিতা টেনে বরযাত্রীদের আটকে রাখে। গেইটের ফিতা কাটার জন্য বর পক্ষকে কিছু অর্থদণ্ড করা হয়। তারপর বরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে ব্যান্ডপার্টির বাজনা বাজিয়ে নেচে-গেয়ে বিয়ে আসরে নিয়ে যাওয়া হয়। বরের সাথে তো বরযাত্রীরা থাকেই।

৯। বিয়েতে ছেলে বা বরের  পোশাকাদি: 

বিয়ের সময় ছেলের পোশাক বলতে সাধারণত ধুতি পাঞ্জাবী হয়ে থাকে বা পরতেও হয়। ছেলে বা বরের  কপালে সামান্য চন্দনের ফোটা লাগানো হয়। চন্দন মানে মঙ্গলের প্রতীক। মাথায় পরে টোপর বা মটুক। এই টোপর বা মটুক বানানো হয়, একপ্রকার জলজ উদ্ভিদ নরম গাছ দিয়ে। এসব গাছ বর্ষাকালে বাংলাদেশের অনেক গ্রামের ফসলের ক্ষেতে জন্মায়। দেখতে একরকম লম্বা ধনচা গাছের মতো। ওই গাছের ভেতরের অংশ দিয়েই হিন্দুদের বিয়ের মটুক বা টোপর বানানো হয়। এই মটুকই বর এবং কনের মাথায় পরা থাকে। তবে ছেলের মাথার মটুক বা টোপর এবং মেয়ের মাথার মটুক বা টোপর দুটোই দুরকম। এছাড়াও বরযাত্রী মেয়ের বাড়িতে আসে, তখন অনেক বরের গলায় বিভিন্নরকমের ফুলের মালা থাকে। বরের হাতে থাকে একটি পিতলের বস্তু। এটা দেখতে ছোট হাত আয়নার মতো। একে বলা হয় দর্পণ। বিয়ের সময় বরকে অবশ্যই অবশ্যই পরে আসা পোশাক পাল্টে মেয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া ধুতি পাঞ্জাবি বা পট্টবস্ত্র পরতে হয়।

১০। বিয়েতে মেয়ে বা কনের সাজগোছ:

আমাদের বাঙালি মেয়ে বা কনের সাজ খুব সুন্দর হয়। যেভাবে দুর্গা প্রতিমা একটু একটু করে সাজিয়ে তোলা হয়, ঠিক সেভাবেই বাঙালি মেয়ে বা কনেকে খুব যত্নসহকারে করে সাজানো হয়। বেশিরভাগ মেয়েরা বিয়েতে লাল বেনারসি পরে থাকে। কেউ কেউ লাল কাতান শাড়িও পরে থাকেন। বর্তমানে অনেক মেয়ের বা  কনের মাথায় ওড়নাও থাকে। আর সোনা গয়নার অলঙ্কার তো থাকেই। কনের কপালে চন্দন বাটা দিয়ে অনেক কারুকার্য ও ডিজাইন করা থাকে। মেয়ে বা কনের মাথায়ও মুকুট বা টোপর পরা থাকে। বিয়েতে ছেলে বা  বরের হাতে যেমন দর্পণ থাকে, তেমনি মেয়ের হাতেও থাকে একটা কাঠের বস্তু। এটাকে বলে গাছকৌটো। এই গাছকৌটার ভেতরে থাকে সিঁদুর, আর রুপোর এক টাকা। বর্তমান সময়ে রুপোর টাকা নেই, তাই এক টাকার একটা কয়েন থাকে। মেয়ের হাতে থাকা গাছকৌটা থাকার মানে  হলো, মা লক্ষ্মীর হাতে থাকা একটা বস্তু।

১১। সোনা কাপড়: 

এই সোনা কাপড় মানে হলো, সোনার গয়নার সাথে মেয়ের পরিধানের কাপড়-সহ স্নো, পাউডার, আলতা, সাবানসহ সাজগোজের যাবতীয় জিনিশপত্রকে সোনা কাপড় বলে। এটা ছেলে পক্ষ থেকে মেয়ে বা কনেকে দিতে হয়। এই অনুষ্ঠানটি বিয়ের ঠিক আগমুহূর্তে বিয়ের আসরেই হয়ে থাকে। কেউ কেউ ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ের আগেও সোনা কাপড় মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

১২। মালাবদল ও শুভ দৃষ্টি:

বিয়ের সময় ছেলের পক্ষ থেকে মেয়েকে যেমন সোনা কাপড় দেওয়া হয়, তেমনই মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলে বা বরকে সোনা-সহ কাপড় দিতে হয়। মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলেকে ধুতি পাঞ্জাবী ও সোনার শ্রী আংটি দেওয়া হয়। বিয়ের আসর থেকে একটু আড়ালে গিয়ে বর মেয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া ধুতি পাঞ্জাবী পরে আসে। মেয়ে পক্ষ থেকে  যিনি কন্যা সম্প্রদান করবেন, তিনি আগে একটা পুজো করেন পুরোহিতের সাহায্যে। ছেলে বা কাপড় পরে এলে কনেকে পিঁড়িতে বসিয়ে নিয়ে আসা হয়, বরের সামনে। তখন মেয়ে বা কনের মুখ পান পাতা দিয়ে ঢাকা থাকে। মেয়ের পক্ষের লোকেরা মেয়েকে পিঁড়ির উপরে বসিয়ে  বরের চারপাশে সাতবার মেয়েকে ঘোরানো হয়। তারপর কনেকে পিঁড়ি থেকে নামানো হয়। এরপর মেয়ে বা কনে মুখ থেকে পান পাতা সরিয়ে বরের দিকে তাকায়। একে শুভদৃষ্টি বলে। এরপর হয় মালাবদল। মানে একে অপরের গলায় মালা পরিয়ে দেয়। এসময় অনেকক্ষণ পর্যন্ত মালাবদলের পালা চলতে থাকে। সাথে বাজতে থাকে ব্যান্ডপার্টির বাজনা। বাজনার তালেতালে সবাই নাচতে থাকে সাথে ছেলে মেয়েকে মালা পরিয়ে দেয়, মেয়েও ছেলেকে মালা পরিয়ে দেয়। একেই বলে মালাবদল। এসময় উপস্থিত বিবাহিত অবিবাহিত মেয়েও মহিলারা উলুধ্বনির সাথে শাঁখ বাজিয়ে পাড়াপ্রতিবেশিদের জানিয়ে দেয়।

১৩। কন্যা সম্প্রদান:

যেখানে বিয়ের আসর করা হয়েছে, সেখানে ডেকোরেশনের কর্মী দ্বারা অনেকে সুন্দর করে একটা মঞ্চ তৈরি করা হয়। এই বিয়ের মঞ্চটাকে বলা হয় বিয়ের কুঞ্জ। বর ও কনে মুখামুখি পিঁড়িতে বসা থাকে। যিনি কন্যা দান করবেন, তিনি ছেলের হাতের উপর হাত রেখে কন্যা সম্প্রদান করবেন। যিনি সম্প্রদান করছেন, পুরোহিত একটি পবিত্র সুতো দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে দেন।

১৪। হোম:

এরপর বর ও কনে পাশাপাশি বসে এবং পুরোহিত আগুন জ্বেলে হোমযজ্ঞ (আগুনের কুন্ডলী) করেন এবং মন্ত্র পাঠ করেন।

১৫। সপ্তপদী:

পুরোহিত কনের শাড়ি ও বরের পট্টবস্ত্রের সাথে বেঁধে দেন এবং বর-কনে ওই যজ্ঞের চারপাশে সাত পাক একসঙ্গে ঘোরে। তার সাথে সাথে পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ ও বিয়ের প্রতিজ্ঞা করেন।

১৬। কুসুমডিঙা বা খই পোড়ানো: 

এরপর মেয়ে বা কনে কুলোয় করে আগুনে খই দেয় আর ছেলে বা বর কনের হাত দুটো পিছন থেকে ধরে থাকে।

১৭। সাত পাকের সাত প্রতিজ্ঞা: 

১৭-১। প্রথম প্রতিজ্ঞা:

স্বামী ও স্ত্রী চান বাড়িতে কখনও খাদ্য বা ধন সম্পত্তির অভাব যেন না হয়। স্বামী স্ত্রীকে খুশি রাখার এবং স্ত্রী দায়িত্বপালনের প্রতিজ্ঞা করেন।

১৭-২। দ্বিতীয় প্রতিজ্ঞা:

স্বামী স্ত্রী দুজনে দুজনকে সমর্থন করার এবং শরীরে মনে একাত্ম হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

১৭-৩। তৃতীয় প্রতিজ্ঞা:

স্বামী ও স্ত্রী ধন সম্পত্তি সামলে রাখার তাকে বৃদ্ধি করার প্রতিজ্ঞা করেন। তারা প্রতিজ্ঞা করেন সন্তানের সঠিক দেখাশোনা করবেন।

১৭-৪। চতুর্থ প্রতিজ্ঞা:

সদ্য বিবাহিত দম্পতি প্রতিজ্ঞা করেন তারা পরস্পরের পরিবারকে সম্মান জানাবেন। তাদের দেখাশনার দায়িত্ব নেবেন এবং তাদের মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেবেন।

১৭-৫। পঞ্চম প্রতিজ্ঞা:

তারা ঈশ্বরের কাছে সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান সন্তানের প্রার্থনা করেন। তারা প্রতিজ্ঞা করেন সন্তানের সুশিক্ষার ব্যাবস্থা তারা করবেন।

১৭-৬। ষষ্ঠ প্রতিজ্ঞা:

ষষ্ঠ প্রতিজ্ঞায় সুস্বাস্থ্য ও রোগবিহীন জীবন কামনা করেন দুজনে।

১৭-৭। সপ্তম প্রতিজ্ঞা:

সপ্তম ও শেষ প্রতিজ্ঞা হল এই সম্পর্ক যেন স্থায়ী ও মজবুত হয় তার জন্য দুজনেই সচেষ্ট থাকবেন।

১৮। সিঁদুরদান:

বর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। সিঁদুর পরানো হয়ে গেলেই কেউ একজন কনের মাথায় একটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। একে বলে লজ্জাবস্ত্র। সিঁদুর পরানর ক্ষেত্রে একেক বাড়িতে একেক রকম নিয়ম করা হয়। কেউ রূপোর টাকা, কেউ আংটি আর কেউ দর্পণ দিয়ে সিঁদুর পরায়। যেহেতু রুপোর টাকা এখন আর নেই, সেহেতু দর্পণ দিয়েই এই নিয়মটা বেশি করে থাকেন।

বিয়ের কার্যসম্পাদন শেষ হলে বর ও কনেকে একটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে থাকে ছেলে বা বরের বন্ধুবান্ধব এবং মেয়ে বা কনের বান্ধবীরা। এখানে বর ও কনের জন্য কিছু পরীক্ষামূলক খেলার আয়োজন থাকে। যেমন: পাশা খেলা, চাউল ছড়ানো ও উঠানো খেলা। জলকেলি  খেলা। পাশা খেলায় যে জিতবে সেই সংসার পরিচালনায় দক্ষ ও চালাক হবে। একটা ঘটে কিছু চাউল থাকে। সেই চাউলগুলো বর বিছানার উপর ছিটিয়ে দিবে। কনে সেই চাউলগুলো আস্তে আস্তে কাচিয়ে কাচিয়ে ঘটে ভরবে। এমনভাবে ভরতে হবে, যাতে কোনও শব্দ না হয়। শব্দ হলেই বুঝে নিতে হবে যে, এই মেয়ের সব কাজেই শব্দ হবে। মানে অলক্ষ্মীর ভাব। এভাবে তিন তিনবার চাউল ছিটানো হবে, তিনবার উঠানো হবে। ছেলেও তিনবার, মেয়েও তিনবার। এরপর জলকেলি খেলা।

এই খেলায় একটা পিতলের অথবা মাটির সানকির প্রয়োজন হয়। এই সানকিতে জল থাকে। জল হাত দিয়ে নেড়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর মেয়ের মাথার মটুক থেকে সামান্য একটু বস্তু, আর ছেলের মাথার মটুক থেকে সামান্য একটু বস্তু নিয়ে সেই ঘোরানো জলে আগে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। জল ঘুরতে থাকে, সাথে ছেলে /মেয়ের মাথার মটুকের ছেঁড়া অংশও ঘুরতে থাকে। ঘুরতে ঘুরতে দেখা যাবে, মেয়েরটা আগে, নাকি ছেলেরটা আগে দৌড়াচ্ছে। যদি মেয়েরটার পেছনে ছেলেরটা থাকে, তাহলে সবাই বলে, “মেয়ে খুবই অভিমানী!” আর যদি ছেলেরটার পেছনে মেয়েরটা থাকে, তাহলে সবাই বলে, “ছেলে তো খুবই দেমাগি!” এভাবে একসময় দুটোই একসাথে মিলে গিয়ে জড়াজড়ি হয়ে যায়। তখন উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে আনন্দে হৈচৈ শুরু করে দেয়। এরপর শুরু হয় বর কনের খাওয়াদাওয়ার পালা। খাওয়াদাওয়ার মাঝেও ছেলের বন্ধুবান্ধব ও মেয়ের সখি ও বান্ধবীরা সাথে থাকে।

১৯। বাসর ঘর:

বিয়ে শেষ হলে বর ও কনেকে ঘুমানোর জন্য দুইজনকে আলাদা এক ঘরে দেওয়া হয়। এসময় বর ও কনের ভাই বোন ও বন্ধুরা সবাই মিলে সারা রাত বিয়ের আসরে বসে আড্ডা দেয়। গান বাজনা হয়। একে বলে বাসর ঘর। তারপর হয় বাসি বিয়ে।

২০। বাসি বিয়ে:

অনেক বাঙালি বাড়িতে নিয়ম আছে। তবে বাসরঘর থেকে আসার কারণে আর বিয়ের রাত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই, এই বিয়েটাকে বাসি বিয়ে বলে থাকে। অনেক জায়গায় বাসি বিয়ের পরই সিঁদুরদান করে থাকে। এই বাসি বিয়েতে একজায়গার চারকোণায় চারটে কলাগাছ রোপণ করে রাখা হয়। এখানেও বর কনে একসাথে কনের কাপড়ের আঁচলের সাথে বরের ধুতি অথবা গায়ের চাদরের কোণা গিঁট বেঁধে কলাগাছের চারদিকে সাত পাক ঘরতে হয়। কলাগাছের চারদিকে সাত পাক ঘোরার পর এখানেও একটা মজার পরীক্ষামূলক খেলা থাকে। এটা হলো আংটি খেলা। কলাগাছের মাঝখানে একটা ছোট গর্ত করা হয়। সেই গর্তটা জল দিয়ে ভরে রাখা হবে। তারপর বর তাঁর হাতের আংটি ঐ গর্তে লুকিয়ে রাখবে, কনে সেই আংটি জল ভর্তি গর্ত থেকে খুঁজে বের করতে হবে। এভাবে উভয়ই তিনবার করে। যে তিন বারের মধ্যে একবার খুঁজে বের করতে পারলো না, সেই খেলায় হেরে গেলো। যে জিতল, সেই বুদ্ধিমানের পরিচয় দিলো।

২১। কনের শ্বশুরঘর যাত্রা:

বিয়ের কার্যসম্পাদন সম্পন্ন হলো। পাড়াপড়শি সবাই এসে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন। বর ও বরযাত্রীরা কনেকে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে বরের বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় বিদায়বেলায় মেয়ে বাড়িতে কান্নাকাটি শুরু হয়।

২২। বধূ বরণ ও কালরাত্রি:

বরের বাড়ি পৌঁছলে বরের মা কনেকে বরণ করে ঘরে তোলেন। দুধ আর আলতায় পা ডুবিয়ে ঘরে ঢুকতে হয়। নতুন বউকে ওথলানো দুধ দেখাতে হয়। যাতে সারাজীবন দুধভাত খেয়ে যেতে পারে।  চাল ভর্তি পাত্র দেখাতে হয়। যাতে সারাজীবন সংসার চালের অভাব না হয়।  এবং একটা পাত্রে থাকা জীবিত মাছ ধরতে বলা হয়। যাতে সারাজীবন এই সংসারে মাছভাত পরিপূর্ণ থাকে। সেদিন স্বামী ও স্ত্রী আলাদা আলাদা শয়ন করেন। একে বলে কালরাত্রি।

২৩। বউ ভাত ও ফুলশয্যা:

বিয়ের একদিন পরে হতে পারে বউভাত অনুষ্ঠান। এটা করা হয় যাঁর যাঁর সাধ্যমতো। এদিন বউয়ের হাতে ভাতের থালা ও কাপড় তুলে দেয় বর। বলে আজ থেকে তমার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব আমিই নিলাম। এরপর নতুন বউ শ্বশুরবাড়ির সব গুরুজনদের খাওয়ার পাতে ঘি-ভাত দিতে হয়। এই অনুষ্ঠানে অনেকে অনেক ধরণের আয়োজন করে থাকে। কেউ হাজার হাজার লোকের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। এদিন রাতে হয় ফুলশয্যা।

২৪। অষ্টমঙ্গলা বা আট নায়রি:

বিয়ের আট দিনের মাথায় বর ও কনে একসাথে মেয়ের বাড়ি যায়। নারায়ণ পুজো করে বিয়ের দিনে পুরোহিতের বেঁধে দেওয়া হাতের সুতো খুলে দেওয়া হয় এবং মেয়ের মা ওই সাত পাকের জোরের গেঁট খুলে দেয়।

সবশেষে ঘরসংসার:  

এরপর থেকে চলতে থাকে সাংসারিক জীবন। কারো-কারোর বেলায় বছর দুয়েক পরই সংসারে আসে নতুন অতিথি। একসময় তাঁরা বুড়ো হয়ে যায়। নতুন আগতরা বড় হয়ে সেই সংসারের হাল ধরে। এভাবেই চলতে থাকে জীবনের পর জীবন। আমাদের জীবনও এভাবেই চলছে। সমাপ্তি।

৬৮৮জন ৫৬৫জন
11 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য