অদৃশ্য

আরজু মুক্তা ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ১০:২৮:৫৮অপরাহ্ন গল্প ২৬ মন্তব্য

সুটেড এণ্ড বুটেড ছেলে আমার খুব পছন্দ। বলা যায় স্টাইলিস! যে এক নজরে মনোযোগ কাড়বে। তার গলার টাইটি হবে শার্টের রঙের থেকে উজ্জ্বল। জুতোটা সাইনি। এক হাত থাকবে হালকা করে প্যান্টের পকেটে দেয়া। তাকে দেখেই আমার মনে নতুন ভাষা জন্ম নেবে। এটা বিশেষায়িত ভাষা। প্রেম প্রচলিত শব্দের মানে বদলে দেয়, চেনা শব্দের মধ্যে অনেক অচেনা ইশারা ঢুকিয়ে দেয়। আজ এই ছেলেটিকে দেখলাম। তার কথা বলতে কোন জড়তা কাজ করছেনা। কিভাবে জানি ও আমার মনোযোগের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠলো।

রেস্টুরেন্ট এর দরজা খুলে যেতেই,  আমার মনোযোগ কাড়লো দুই কপোত কপোতী !

ও হ্যাঁ, উপরের অংশটা আমার নতুন গল্পের। আমি লিখছিলাম একটা রেস্টুরেন্টে বসে। বৃষ্টির দিনে ভাবলাম রেস্টুরেন্ট ফাঁকা থাকে। ওখানে চা পান করতে করতে নতুন গল্পটা শেষ করা যাবে। কপোত কপোতীরা বেছে নিয়েছিল আমার পাশের টেবিলটা। ওরা কফির অর্ডার দিয়ে কথা বলতে শুরু করলো। মনে হচ্ছে ওরা কি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিবে।

কফি চলে এলো। ওদের ভ্রুক্ষেপও নেই। হাতের মুঠোয় কফি মগ বন্দি করে চললো চোখে চোখে কথা, কখনো কথার ফুলঝুড়ি। মেয়েটির অগোছালো চুলগুলো বৃষ্টির হালকা বাতাসে উড়ে ছুঁয়ে থাকলো কপাল আর চোখ। ছেলেটি সরিয়ে দিচ্ছে আর মুচকি হাসছে। ওরা কখনো সাহিত্য ,কখনো কবিতা থেকে দু এক লাইন বলছে । মেয়েটি গুনগুন করে গান গাইলে ছেলেটি পরের লাইন বলছে। মেয়েটির চোখ–ভ্রমর কালো–কাজল দেয়া! অত্যাধুনিক টপস আর জিন্সে তাকে অপ্সরী লাগছিল। তারা কথা বলায় এতো বেশি মগ্ন ছিলো যে, আশেপাশের কোনকিছুই তাদের স্পর্শ করছেনা। বর্ষার প্রকৃতির সজলতা, চাঞ্চল্যতা, মেঘের ছুটোছুটি, বৃষ্টির রকম ফের, নাহ্! কোনকিছুই নয়।

আমার তিন নং  চা চলছে। ওদের কফি মনে হয় মাঝপথে। ভাবলাম, এদের সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করতে আমার লিখার বারোটা বাজছে। একটু জানালা দিয়ে আকাশ দেখার ছলে অন্যমনস্ক হই।

ওয়েটার এসে বলছে, ম্যাডাম কিছু লাগবে?
সম্বিত ফিরে দেখি কপোত কপোতী উধাও। মনে হল আমি তাদের কাছে অদৃশ্য থেকে গেলাম।

৩২৬জন ১২১জন
48 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ