মূল লেখায় যান

বন্দী ঘরে (আড্ডা পোস্ট)

ইঞ্জাআড্ডা৮০টি মন্তব্য

ব্লগার বন্ধুদের কাছে জানতে চাই, কেমন কাটছে আপনাদের, এমন লম্বা ছুটি কিভাবে কাটাচ্ছেন, কমেন্ট বক্সে যার যার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার অনুরোধ করছি।

আমি কিভাবে কাটাচ্ছি শুনবেন?
ছুটি ঘোষণা শুনার পরই আমি পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, মাস্ক এবং ব্লিচিং পাউডার কিনে ফেলেছি, গিন্নি গেলেন বাজারে বড় ছেলেকে নিয়ে, আমি পই পই করে বলে দিয়েছি দ্রুত নষ্ট হয় এমন কিছু কেনা যাবেনা।
চারজনের সংসারে অবশ্য তেমন কিছুই লাগে না, তাই দশ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, কয়েক কেজি আলু, বড় সাইজের কুমড়ো, তেল, চিনি, দুধ সহ জরুরী কিছু বাজার সদাই করা হলো যেন বন্ধের মাঝে যেন এটলিস্ট না খেয়ে মরি।
ইতিমধ্যে সবার উপর রুল জারি করেছি, সবাই ঘরে আসলেই যেন টিস্যু দিয়ে কলিং বেল চাপ দেয়, ঘরের দরজা খুলেই প্রথমে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয় হাত জীবাণু মুক্ত করার জন্য, এরপর আগতের পুরা শরীর সহ জুতার উপরে নিচে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তৈরি কীবাণু নষ্ট করার জন্য পানি স্প্রে করে এরপর ঘরে প্রবেশ করা হয়।

এছাড়া আমার পুরা ঘর সেই ব্লিচিং পাউডারের পানি দিয়ে পরিস্কার করা হয়, সাথে আসবাব পত্র, দরজা বা যেখানেই হাত বা শরীর লাগতে পারে তা পরিস্কার করা হয় স্প্রে করে।
এরপর শুরু হয়, হোম কোয়ারেন্টাইন, গত ছাব্বিস তারিখ থেকে আগামী যতদিন লাগে আমরা কেউ ঘরের বাইরে যেতে চাইনা যদিনা কোন কারণে বাধ্য হই।
আমি চাইনা আমরা কেউ করোনায় আক্রান্ত হই, সাথে সাথে আমাদের কারো কারণে অন্যরা আক্রান্ত হয়।

কিভাবে সময়টা কাটাচ্ছি?
সেলফোনে লুডু খেলছি চারজনে মিলে, আমি মাঝে মাঝে লিখছি, ছেলে মেয়ে তাদের মাকে হেল্প করছে, টিভিতে মুভি দেখছি, নিউজ দেখছি, সিরিয়াল দেখছি।

কি কি খাচ্ছি?
প্রতিদিন লেবু পানি, পেয়ারা, ওটস দুধ দিয়ে, গাজর, টমেটো দিয়ে সালাদ খাচ্ছি, সাথে সাধারণ খাবার তো আছেই।

মোদ্ধা কথা বাইরে উঁকি দিয়েও দেখছিনা।

এখন বলুন আপনাদের কি অবস্থা?

Stay at home, be safe.

ছবিঃ গুগল।

মোট পড়েছেনঃ ১৫৪৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৮০টি মন্তব্য

      1. তাতো জানাবোই, আমি বাসার ফ্রিজ ঠিক করেছি। ওটা ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছিলো না। মেকানিকের দোকান বন্ধ। তাই গত দুইদিন লাগিয়ে ঐ কাজে হাত দিয়েছি। আর,,,,,, আমি সফল হইছি 😊😊

  1. চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ, মাংস মোটামুটি নষ্ট হয় না এমন সব কিনে রাখছি। বাইরে গিয়েছি বাসার নিচেই কাছাকাছি মোটামুটি সব পাওয়া যায় সেখানে। বৃদ্ধ বাবা-মা আর আমি। নিজের কাজ নিজেই করি, বাজার রান্না এগুলোও সময় সুযোগ মতো করা হয় আগে থেকেই ‌ । ফটোশপের প্রাকটিস চলছে, ব্লগিং ও চলছে পুরোদমে। মাঝে মাঝে গান শোনা, বই পড়াও হচ্ছে ইদানিং। ফেসবুকিং তো কমন। লেখালেখি ও করছি নিয়মিত। মাঝে মাঝে দুএকজনের সাথে চ্যাটিং ও করছি। এইতো চলছে আমার, আমাদের তিনজনের কোয়ারেন্টাইন । সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন শুভকামনা রইলো

    1. বাহ বেশ বেশ, এভাবেই চলুক আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইন, বেঁচে থাকতে হবে আমাদের নতুন পৃথীবির পরিচ্ছন্ন বাতাসে শ্বাস নেওয়ার জন্য।

      আপু রান্না কে করে আপনার ঘরে, কি কি রান্না হয়?

    1. সাবধান ভাইজান, এখন বাইরে বেরুলেই বিপদ, কিছুক্ষণ আগে নিউজে দেখলাম বরিশালে দুইজন মারা গেছে করোনা সিনটম নিয়ে, আপনি তো আরও রিস্কে।

  2. সংসারে পাঁচজন ছিলাম করোনার সময়ে আরো একজন এসে হাজির। এখন ছয়জন, ৬ নম্বর জনই বাকী পাঁচজনকে নাচায়। ঐ নাচতে নাচতে আমাদের দিন রাত্রী চলে যাচ্ছে, তবে প্রতিদিন আমাকে এক বেলা অফিসে হাজিরা দিতেই

  3. বারো ঘন্টার বেশী ঘুমাই,
    কিছুক্ষণ বাসার কাজে সহযোগিতা করি,
    বাকি সময় ব্লগের বিভিন্ন কাজ করি।
    ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেই, লাইক কমেন্ট করি। এভাবেই দিন চলে যায় ভাইজান 🙂

      1. ব্যবসার এখন পিক টাইম, তবে লেবাররা থাকতে চাচ্ছে না এখন আর,
        সবাই এই অবস্থায় পরিবারের সাথে থাকতে চাইছে।
        ৮০% লেবার সাতক্ষিরার, যাবার উপায় নেই, তাই যাচ্ছে না।

  4. আমাদের নিয়মতান্ত্রিক জীবন চলছে। বাইরে যেতে হচ্ছ্র দু’একদিন পরপর জরুরি প্রয়োজনে।

    সংসারের টুকটাক কাজ করছি, মোবাইল, টিভিতো আছেই। তবে গেম খেলার সময় কই?

    খাচ্ছি দাচ্ছি আর ঘুমোচ্ছি ☺☺

    1. তেমন কিছুই নয়, ভাবীকে বলুন পরিস্কার বিশুদ্ধ সিল্কের কাপড় নিয়ে সাদা হয়ে মুখ বের হওয়াটিতে হাল্কা ডলা দিতে, একদিনেই আরাম।

  5. আপাতত 12 দিন হয়ে গেলো বাসাতেই আছি। গেটের বাহিরে যাইনি।
    পড়া-শুনা, গান শুনা, রান্নাবান্না , লুডু খেলা ..মোবাইলে সবার সঙ্গে কথা বলে কেটে যাচ্ছে দিন…

  6. আমার কাজ তো দাদা অনেক।
    সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে লোকজন নিয়ে মাল্টা বাগানের জন্য ৩৭৫ টি গর্ত করে রাখলাম। তারপর বাড়ির প্রতিটি কমলা গাছে স্প্রে করলাম। এছাড়া আরও দুজন লোককে নিয়ে আতর গাছের ( আগর গাছ) ডাল গুলো মাঝেমধ্যে ছাটাই এবং পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য তাঁদের দেখিয়ে দিয়ে আসলাম।
    .
    দুপুর ২ টার দিকে স্নান করে একটু আরাম আয়েশ করে রেহানা দিদির বই ওখান থেকে আলো আসে পড়তে বসলাম তারপর অপরাহ্ণ বেলা ফুল গাছে জল দিলাম।
    আর এসবের ফাঁকে ফাঁকে মনের আনন্দে গান গাই।
    ..
    এসব নিয়ে বেশ কাটছে দাদা।

  7. তেমন কিছুই করছি না। ঘুম থেকে উঠে নাস্তা পানি করে একটু খবর পাড়ায় চোখ রাখি যা অনেক আগের অভ্যাস তারপর সারাদিন মোটামোটি কম্পিউটার নিয়েই কেটে যায়। এর মাঝে অনলাইনে অফিসের টুকটাক কাজ করা লাগে। এই আর কি যাচ্ছে কেটে কোন রকম মন্দের ভালো আর কি।

  8. গৃহকর্মীকে ছুটি দিয়ে দিয়েছি বেশ কয়েকদিন আগেই, অবশ্যই বেতনসহ এবং বলে দিয়েছি যেন বাড়ির বাইরে না যায়। মাঝে মাঝে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছি তার। যেহেতু সে নেই সংসারের সমস্ত কাজ নিজে করছি। অফিস চলাকালীন কন্যাদের যেসব আবদার পূরণ করতে পারি না, সেগুলো পূরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আর এসব কারণেই ব্লগ এবং ফেসবুকে আসা হচ্ছে কম। লেখালেখি যেটুকু করছি, রাত বারোটা থেকে দুটো পর্যন্ত। এই দুঃসময়ের একটা ভালো দিক হল, পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সান্নিধ্যলাভ।

      1. অফিস করছি আধবেলা, পরে বাসা। ব্যাংকিং পেশায় আছি বলে নিস্তার নাই। টুকটাক বাড়ির কাজও হচ্ছে। তবে পরিবারের অন্যরা পুরোদমে হোম কোয়ারেন্টাইন

  9. হযবরল কর্মে কাটছে বাসা বন্দি জীবন-

    এলাকাটা পরিপূর্ণ কমার্শিয়াল হলেও বাবা বাড়ির পিছনের অংশে উঠান রেখেছিলেন. বের হতে পারলে মনে হয় দুনিয়া দেখছি নতুন করে। প্রচন্ড রোদ- ছাদে যেতে পারিনা- তবে সন্ধ্যেটা ওখানে কাটে।

    রান্না করার ইচ্ছে হয়, কেউ চান্স দেয় না- বিশেষ করে মা-
    তিনি বেঁচে থাকতে রান্না করে খেতে হবে না বুঝতে পারি। বাচ্চাদের সাথে ঝগড়া / কার্টুন / প্লে ষ্টেশন এ সময় কাটছে।

    আর অবসর পেলে আকাশে তাকিয়ে নিজের দুরত্ব খুঁজি-
    ততটা দুরেই হবে একদিন বসত বাড়ি।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?