২০১২ সালের কোন একদিনে আমার প্রথম ফেইসবুক একাউন্ট, সেই সময়ের কোন একদিনে পরিচয় ঘটে জিসান ভাইজানের সাথে, যদিও তখন লেখালেখি করতামনা, এরপরেও উনার অনুরোধে সোনেলা নামক এক ব্লগে আমি লাইক করি, বাস এই পর্যন্তই, এর পরের কয়েক বছর সোনেলার কোন লেখা আমার চোখে পড়লে মন দিয়ে পড়তাম, এর মাঝে সোনেলার কয়েকজনের সাথে আমি এড হই ফেইসবুকে, এক সময় উনাদের সাথে মানষিক এক সম্পর্ক হয়, ভাই – বোন, ভাই – ব্রাদার এই আর কি, এদিকে জিসান ভাইজানের সাথে তো দহরমমহরম সম্পর্ক, তখন থেকেই আমি উনাকে ভাইজান সম্বোধন করতাম, উনিও কখনো ভাই, কখনো ভাইসাব বা কখনো ভাইজান করেই ডাকতেন, এই ভাবেই চলে গেল বেশ কয়েক বছর।
দিন দিন ব্লগের লেখককূলের ভক্ত হয়ে উঠছিলাম, কিন্তু ব্লগের লেখা পড়লেও কমেন্ট করতে পারতামনা একাউন্ট না থাকার কারণে, এই দুঃখ ছিলো।
একদিন আমাদের ব্লগের কোন এক আপু (নাম বলবোনা কারণ নামটিই পরে বিতর্কিত হয়ে যায়) ফেইসবুকে ধমকি ভরা স্টাটাস দেন, ” যারা সোনেলায় নেই তাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই আমার”।

মনে মনে কষ্ট পেলাম, এ কি কথা প্রিয় বোনটির মুখে, তাহলে কি এই ভাই বোনকে আর খুঁজে পাবেনা?
কয়েকদিন পর তড়িঘড়ি করে একাউন্ট খুলে ফেললাম সেই আপুর সহযোগিতায়।
যাক বড় বাঁচা বেঁচে গেছি।
এরপরে সোনেলায় কয়েকটা কমেন্ট দিয়ে স্রেফ ভুলে গেলাম সোনেলাকে, হয়ত আপনাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন ভুলে গেলাম?
আসলে লেখালেখি করতাম নাতো, সাথে ব্লগ দেখলেই ভয় পেতাম, সেইসময় তো কত ব্লগারকেই না কুপিয়ে খুন করা হলো, এই ভয়েই ব্লগের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ছিলাম।
২০১৬ সালের দিকে ছোট এক গল্প মাথায় এলো, কিন্তু দেবো কই?
দেখি সোনেলাতেই দিয়ে, যেই কথা সেই কাজ, গেলাম সোনেলাতে, ওমা আইডিতে প্রবেশ করতেই পারছিনা, পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি, ধরলাম জিসান ভাইজানকে।
উনি নিজেই ঠিক করে দিলেন সব কিছু, আমি দিলাম আমার প্রথম ছোট গল্প, যতদূর মনে পড়ে আমার প্রথম গল্প ছিলো “তুমি”।
কয়েক ঘন্টা পরে দেখি অসংখ্য কমেন্ট, স্বাগত জানিয়ে সবাই আমার লেখার তারিফ করছে, আমিও প্রতি উত্তরে ভাসাতে লাগলাম।

এরপর তো বুঝতেই পারছেন কানা হাতি দেখেছে অবস্থা, লিখে ফেললাম চন্দ্র নামে আরেক সাইন্স ফিকশন, ধীরে ধীরে অনেকের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে লাগলাম, কেউ ডাকে ভাইজু, কেউ ভাইয়া, কেউ নাতী আবার কেউ হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া।
এই হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া আমাকে খুব প্রিয় এক আপু ডাকতেন, এর পিছনেও এক ইতিহাস আছে, আসলে উনি ডাকতেন হ্যান্ডসাম ভাইয়া বলে, আমি একদিন মজা করে বললাম ” কি বললেন, হ্যান্ডপাম্প”?
আর যায় কই, সেদিন থেকে হয়ে গেলাম উনার হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া, বুঝেন অবস্থা।
এইভাবেই সবার উৎসাহ উদ্ধীপনায় এগিয়ে চলছিলো আমার লেখা, এইখানে আবার আরেক সমস্যা দেখা দিলো আমাকে নিয়ে, আমার বাংলাতে প্রচুর ভুল ছিলো, সবাই আমাকে ভুল ধরিয়ে শুদ্ধ করে দিতো আর আমিও তা পজিটিভ ভাবে নিয়ে সম্পাদনা করতাম।
আমি আবার গল্প, কবিতা, চিকিৎসা, সমসাময়িক, ভ্রমণ সহ ইত্যাদি বিষয়ে লিখতাম কিন্তু বেশি লেখা হতো গল্প, আমার সফল কয়েকটি গল্প “ভালোবাসি তোমায়” “নদী” ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পায়।

এইভাবেই চলছিলো আমাদের সোনেলার সংসার।  হটাৎ এই বছরের প্রথম দিকে সোনেলার আকাশে এক কালো মেঘের ছায়া দেখা যায়। ঝড় বললো ” সোনেলার ধ্বংস চাই “। ঝড় পিছে নিলো আমায়, ভাবলাম ঝড়ের সাথে গেলে আমার প্রিয় সোনেলার কি হবে? আমার প্রিয়ভাজন তৌহিদ ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে রুখে দাঁড়ালাম ঝড়ের বিরুদ্ধে, বলে দিলাম “সোনেলার ক্ষতি করতে দেবোনা তোমায়”। ঝড় আরও ফুঁসে উঠে আমার প্রিয় কিছু ব্লগারকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো, কিন্তু টলাতে পারেনি আমাকে।
আমি, তৌহিদ ভাই সহ অনেকেই কোমর বেঁধে নামলাম ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে, পরে খেয়াল করলাম ক্ষতি আমাদের তেমন কিছুই হয়নি, উল্টো প্রচুর নিত্যনতুন ব্লগারের পদাচরণায় মুখরিত হয়ে উঠলো প্রিয় সোনেলার উঠোন।

প্রিয় সোনেলা, তোমার কাছে যা চেয়েছি তার বেশি কিছুই পেয়েছি, তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো, করেছো আমায় লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সময়ের আলোচক।
তুমি ছাড়া আমি কিছুই ছিলামনা, তুমিই আমাকে নিয়ে গেছো বিশ্ব সাহিত্যের কাছাকাছি।
তোমার কাছে আমার ওয়াদা ছিলো যা “কখনো সোনেলাকে ছেড়ে যাবোনা”, যদি যেতেই হয় তাহলে হবে আমার ব্লগিং জীবনের ইতি।
সুতরাং প্রিয় সোনেলা, তোমার জন্মমাসে আমার একটিই চাওয়া, আমাদের জন্য তোমার উঠোন সবসময় খোলা রেখো, ভুলে যেওনা আমাদের।

শুভ জন্মমাস সোনেলা ব্লগ। ❤❤

৩১৫জন ৭জন
50 Shares

৬১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন