মূল লেখায় যান

সোনেলার আমি – আমার সোনেলা

ইঞ্জাসোনেলা বার্তা৬১টি মন্তব্য

২০১২ সালের কোন একদিনে আমার প্রথম ফেইসবুক একাউন্ট, সেই সময়ের কোন একদিনে পরিচয় ঘটে জিসান ভাইজানের সাথে, যদিও তখন লেখালেখি করতামনা, এরপরেও উনার অনুরোধে সোনেলা নামক এক ব্লগে আমি লাইক করি, বাস এই পর্যন্তই, এর পরের কয়েক বছর সোনেলার কোন লেখা আমার চোখে পড়লে মন দিয়ে পড়তাম, এর মাঝে সোনেলার কয়েকজনের সাথে আমি এড হই ফেইসবুকে, এক সময় উনাদের সাথে মানষিক এক সম্পর্ক হয়, ভাই – বোন, ভাই – ব্রাদার এই আর কি, এদিকে জিসান ভাইজানের সাথে তো দহরমমহরম সম্পর্ক, তখন থেকেই আমি উনাকে ভাইজান সম্বোধন করতাম, উনিও কখনো ভাই, কখনো ভাইসাব বা কখনো ভাইজান করেই ডাকতেন, এই ভাবেই চলে গেল বেশ কয়েক বছর।
দিন দিন ব্লগের লেখককূলের ভক্ত হয়ে উঠছিলাম, কিন্তু ব্লগের লেখা পড়লেও কমেন্ট করতে পারতামনা একাউন্ট না থাকার কারণে, এই দুঃখ ছিলো।
এরপরে সোনেলায় নিবন্ধন করলাম, সোনেলায় কয়েকটা কমেন্ট দিয়ে স্রেফ ভুলে গেলাম সোনেলাকে, হয়ত আপনাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন ভুলে গেলাম?
আসলে লেখালেখি করতাম নাতো, সাথে ব্লগ দেখলেই ভয় পেতাম, সেইসময় তো কত ব্লগারকেই না কুপিয়ে খুন করা হলো, এই ভয়েই ব্লগের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ছিলাম।
২০১৬ সালের দিকে ছোট এক গল্প মাথায় এলো, কিন্তু দেবো কই?
দেখি সোনেলাতেই দিয়ে, যেই কথা সেই কাজ, গেলাম সোনেলাতে, ওমা আইডিতে প্রবেশ করতেই পারছিনা, পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি, ধরলাম জিসান ভাইজানকে।
উনি নিজেই ঠিক করে দিলেন সব কিছু, আমি দিলাম আমার প্রথম ছোট গল্প, যতদূর মনে পড়ে আমার প্রথম গল্প ছিলো “তুমি”।
কয়েক ঘন্টা পরে দেখি অসংখ্য কমেন্ট, স্বাগত জানিয়ে সবাই আমার লেখার তারিফ করছে, আমিও প্রতি উত্তরে ভাসাতে লাগলাম।

এরপর তো বুঝতেই পারছেন কানা হাতি দেখেছে অবস্থা, লিখে ফেললাম চন্দ্র নামে আরেক সাইন্স ফিকশন, ধীরে ধীরে অনেকের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে লাগলাম, কেউ ডাকে ভাইজু, কেউ ভাইয়া, কেউ নাতী আবার কেউ হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া।
এই হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া আমাকে খুব প্রিয় এক আপু ডাকতেন, এর পিছনেও এক ইতিহাস আছে, আসলে উনি ডাকতেন হ্যান্ডসাম ভাইয়া বলে, আমি একদিন মজা করে বললাম ” কি বললেন, হ্যান্ডপাম্প”?
আর যায় কই, সেদিন থেকে হয়ে গেলাম উনার হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া, বুঝেন অবস্থা।
এইভাবেই সবার উৎসাহ উদ্ধীপনায় এগিয়ে চলছিলো আমার লেখা, এইখানে আবার আরেক সমস্যা দেখা দিলো আমাকে নিয়ে, আমার বাংলাতে প্রচুর ভুল ছিলো, সবাই আমাকে ভুল ধরিয়ে শুদ্ধ করে দিতো আর আমিও তা পজিটিভ ভাবে নিয়ে সম্পাদনা করতাম।
আমি আবার গল্প, কবিতা, চিকিৎসা, সমসাময়িক, ভ্রমণ সহ ইত্যাদি বিষয়ে লিখতাম কিন্তু বেশি লেখা হতো গল্প, আমার সফল কয়েকটি গল্প “ভালোবাসি তোমায়” “নদী” ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পায়।

এইভাবেই চলছিলো আমাদের সোনেলার সংসার।  হটাৎ এই বছরের প্রথম দিকে সোনেলার আকাশে এক কালো মেঘের ছায়া দেখা যায়। ঝড় বললো ” সোনেলার ধ্বংস চাই “। ঝড় পিছে নিলো আমায়, ভাবলাম ঝড়ের সাথে গেলে আমার প্রিয় সোনেলার কি হবে? আমার প্রিয়ভাজন তৌহিদ ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে রুখে দাঁড়ালাম ঝড়ের বিরুদ্ধে, বলে দিলাম “সোনেলার ক্ষতি করতে দেবোনা তোমায়”। ঝড় আরও ফুঁসে উঠে আমার প্রিয় কিছু ব্লগারকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো, কিন্তু টলাতে পারেনি আমাকে।
আমি, তৌহিদ ভাই সহ অনেকেই কোমর বেঁধে নামলাম ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে, পরে খেয়াল করলাম ক্ষতি আমাদের তেমন কিছুই হয়নি, উল্টো প্রচুর নিত্যনতুন ব্লগারের পদাচরণায় মুখরিত হয়ে উঠলো প্রিয় সোনেলার উঠোন।

প্রিয় সোনেলা, তোমার কাছে যা চেয়েছি তার বেশি কিছুই পেয়েছি, তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো, করেছো আমায় লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সময়ের আলোচক।
তুমি ছাড়া আমি কিছুই ছিলামনা, তুমিই আমাকে নিয়ে গেছো বিশ্ব সাহিত্যের কাছাকাছি।
তোমার কাছে আমার ওয়াদা ছিলো যা “কখনো সোনেলাকে ছেড়ে যাবোনা”, যদি যেতেই হয় তাহলে হবে আমার ব্লগিং জীবনের ইতি।
সুতরাং প্রিয় সোনেলা, তোমার জন্মমাসে আমার একটিই চাওয়া, আমাদের জন্য তোমার উঠোন সবসময় খোলা রেখো, ভুলে যেওনা আমাদের।

শুভ জন্মমাস সোনেলা ব্লগ। ❤❤

মোট পড়েছেনঃ ১৬৯৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৬১টি মন্তব্য

  1. আমি শাহবাগ আন্দলনে উত্তাল কালথাবা পড়ল দেশে তা থেকে রখায় শাহবাগ বড় ভুমিকা রাখল। ঝরে গেল অনেক প্রান। তখন ব্লগ কি জান্তাম্না। অথচ ব্লগিং করতাম bdnews24.com bloging এ। রাত্রে খবরে জানলাম অমক ব্লগের ব্লগার খুন তখন অনেক রাত্রে ফোন দিলাম আইরিন আপুকে উনি বললেন।
    যাইহোক শাহবাগ ঝড়ে ঐ ব্লগ বন্ধ। যদিও ওপেন ছিল মুক্তিজুদ্ধের পক্ষে। পরে চালু হয়েছে।

    অনলাইনে খুজতে খুজতে অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে পোছালাম এই সোনেলা তীরে। তরি ভিলালাম। এখন চলছে কার কথায় এক্সহেড়ে যাইনি। এখানে প্রবেশ করে পেয়ে গেলাম আমার অত্যান্ত আদরের ও ভাললাগা একজন সে হল নীলকন্ঠ জয়কে। তবে এখানে আমি জয়কে না জানিয়ে আমার প্রিয় শব্দ তন্দ্রা নামে একাউন্ট খুলি। কি জ্বালা তন্দ্রা হলেই কি ফেমেল হতে হই জানতাম না। তাই জয় বল্ল আসল নামে আসেন। আসলাম। কারন নিজের ভাললাগা থেকেই রয়েছি। পেয়েছি জিসান ভাইজানের মত মহৎ মানুসের ভালবাসা। তার সাথে সাক্ষাত পেতেসময় লেগেছিল।
    তবে আমি কারো প্রিয় হতে পারিনি কারোন আল্লাহ আমায় খুরধর লেখক হয়ার মত গুন দেইনি। তবে আমি পাঠক, পাঠক হয়েই আছি। আমার মত।

    প্রিয় সোনেলা আমার মত ক্ষুদ্র পাঠকে ভুলে যেও না। ভুলে যেওনা।

    1. কে বলেছে আপনি প্রিয় নন, আমি জানি আপনি কত প্রিয় আমার কাছে, জিসান ভাইজান, হেলাল ভাইজান, মমি ভাই সহ অনেকেই আপনাকে প্রচন্ড ভালোবাসেন, এই ভালোবাসাটা অন্তর থেকেই হয়েছে ভাই।

      অনুরোধ করবো আপনার এই লেখাটি আরও বৃহত পরিসরে দেওয়ার জন্য এই সোনেলার জন্ম মাসে, অপেক্ষায় রইলাম দেখার যে আপনি কথা রেখেছেন।

      ধন্যবাদ প্রিয়জন।

      1. হ্যা ভাল বাসা আছেই। আত্বা থেকেই কিন্তু আমি ল্বখা লিখতে পারিনা এই যা। হ্যা চেস্টা করব আপনাকে স্রদ্ধা করেই। আমি এখন মোবাইলে লিখছি বানান ক্ষমা করবেন।

  2. অনেক কিছু জানলাম ভাই আপনার লেখায়।তেমনই জানলাম মমি ভাইর লেখায়। সোনেলা এগিয়ে চলুুক সোনালী আলোর খেয়ায়।আছি থাকবো এই উঠোনের গর্বিত সদস্য হয়ে।
    শুভেচ্ছা শুভ কামনা।

  3. এই হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া আমাকে খুব প্রিয় এক আপু ডাকতেন, এর পিছনেও এক ইতিহাস আছে, আসলে উনি ডাকতেন হ্যান্ডসাম ভাইয়া বলে, আমি একদিন মজা করে বললাম ” কি বললেন, হ্যান্ডপাম্প”?
    আর যায় কই, সেদিন থেকে হয়ে গেলাম উনার হ্যান্ডপাম্প ভাইয়া, বুঝেন অবস্থা।

    😁😁😁 মজা পাইলাম । ভাইয়া

    হটাৎ এই বছরের প্রথম দিকে সোনেলার আকাশে এক কালো মেঘের ছায়া দেখা যায়। ঝড় বললো ” সোনেলার ধ্বংস চাই “। ঝড় পিছে নিলো আমায়, ভাবলাম ঝড়ের সাথে গেলে আমার প্রিয় সোনেলার কি হবে? আমার প্রিয়ভাজন তৌহিদ ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে রুখে দাঁড়ালাম ঝড়ের বিরুদ্ধে, বলে দিলাম “সোনেলার ক্ষতি করতে দেবোনা তোমায়”।

    ঠিক এইভাবেই সবসময় সোনেলাকে রক্ষা করে যাবেন,,, শুভ কামনা রইলো,, ভাইয়া ।
    দোয়া করবেন, যেন আমিও সোনেলাকে ভালোবাসার একটু সুযোগ পাই।। ❤❤❤

  4. সোনেলার সময়ের সাহসী সন্তান আপনি ভাইজান।আপনি তৌহিদ ভাইটি আর এক বড় বোন সহ সাথে ছিলেন বলেই সোনেলা আজও গর্বের সহিত দাড়িয়ে আছে এবং থাকবে। ব্লগ কর্তৃপক্ষ আর কারিগরি দিকটি নাই বা বললাম কারন ব্লগ যত সুন্দরই হোক ব্লগে মান সম্পর্ণ ব্লগার না থাকলে ব্লগ, ব্লগের জায়গায়ই থেকে যায়।তাই আমরা যেন আগামী পথগুলো নতুন ব্লগার ভাইজানদের সাথে নিয়ে এমনি ভাবে নির্ভেজাল চলতে পারি সে দিকটায় বেশী খেয়াল রাখা জরুরী।
    চমৎকার স্মৃতি চারণমুলক লেখা। অনেক কিছুই জানা ছিলো না।

    1. ভাই আপনার অবদানও অস্বীকার্য, একি সময়ে আপনার দৃঢ় পদক্ষেপ আমাদের সাহস জুগিয়ে, আপনিও আমাদের মতো শক্ত দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেই সময়, আমার মতোই আপনারও প্রিয়ভাজন কিছু ব্লগার আপনাকে অবহেলা করেছে, এরপরেও আপনি অটল ছিলেন, ধন্যবাদ ভাই, অসংখ্য, সহস্র ধন্যবাদ। 😍

  5. দাদা, কি আর বলি- আপনার হাত ধরে সোনেলায় এসেই প্রিয় কিছু মানুষের দেখা পেয়েছিলাম। মন থেকে ভালোবেসেছি সোনেলাকে। তার কারনেই কোন ঝর ঝঞ্জাই আমাদের টলাতে পারেনি। বড় বড় লেখকদের ঝাড়ি খেয়ে খেয়ে শিখছি লেখালিখি। সব অবদান এই সোনেলার। আর জিসান ভাই, সাবিনা আপু ব্লগ নিবেদিত প্রাণ। মমিভাই আমাদের পাশে ছিলেন প্রাণপন। আমি কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি যারা আমার ডাকে সাড়া দিয়ে ব্লগে এসেছেন, আসছেন।

    ধন্যবাদ ভাইজান। লেখা পড়ে মন ভরে গেলো। আপ্লুত হলাম।

    এভাবেই পাশে থাকবেন সোনেলার। 💜

  6. আপনাদের কত স্মৃতি!! আমার খুব আফসোস হচ্ছে, কেন যে আগে এলাম না!! তাহলে আমিও এমন আবেগময় লেখা দিয়ে অন্যদের চোখ ভেঁজাতে পারতাম 🙁

    কি আর করা। সোনেলার ইতিহাস, ব্লগারদের ইতিহাস জানতে পারছি, তাই-ইবা কম কি!! খুব ভালো লাগছে। সোনেলার জন্মমাসে ব্লগ নিয়ে এমন লেখাগুলোতে উৎসবের আমেজ পাচ্ছি ভাইজান।

    সোনেলা বেঁচে থাকবে, জাগ্রত থাকবে স্বমহিমায়। শুভ কামনা আপনাকে। অভিনন্দন আমাদের সোনেলাকে। 🌹🌹🌹🌹

    1. আপু আপনার আফসোসের কিছুই নেই, আমরা সবাই কেউ আগে বা পরে এসেছি, কিন্তু এতে লাভ সবারই একি, আপনার মতো ট্যালেন্টটেড এক ব্লগার আমরা পেয়ে আনন্দিত হয়েছি, সমৃদ্ধ হয়েছি, এও কম কিসে, আপনি আসার পর সোনেলার উন্নতি আমরা এখন আরও বেশি পাচ্ছি, আপু অনুরোধ করবো আপনার সোনেলায় আসা এবং এখন পর্যন্ত আপনার যা অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করুন, এতে আমরা আনন্দিত হবো। 😊
      ধন্যবাদ আপু, খুব আনন্দিত হয়েছি আপনার সুন্দর মন্তব্য পেয়ে, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। 💕

  7. অনেক স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিলেন ইঞ্জা ভাই।
    আপনার বিবেক, বুদ্ধি, যুক্তি, বিবেচনা, মনের জোর ছিলো বলেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পেরেছেন।
    সোনেলা ধ্বংসের প্রথম সংবাদটি আপনার কাছেই পেয়েছিলাম। তাদের চক্রান্ত ব্যার্থ করে দিয়ে সোনেলাকে আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন আপনারা সবাই সম্মিলিত ভাবে। যতজন সোনেলা থেকে চলে গিয়েছে তার কয়েকগুন বেশী ব্লগার সোনেলায় এসেছেন, যারা অনেক অনেক গুন কোয়ালিটি সম্পন্ন ব্লগার, লেখক।

    সোনেলা আপনার মত মানুষের পদচারনায় আরো সমৃদ্ধ হোক এই কামনা করি।
    সোনেলার পক্ষ হতে আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

    1. আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইজান, আপনি একবার বলেছিলেন যেন সোনেলাকে ছেড়ে না যায়, তাহলে বলুন কিভাবে ছেড়ে যায়, এছাড়া দুষ্ট লোক হাড়ে হাড়ে চিনি এখন।
      আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন, অমেক দূর যেতে হবে আমাদের এই সোনেলাকে নিয়ে।
      ধন্যবাদ অনিঃশেষ। 😊

  8. সোনেলাকে নিয়ে আপনার একান্ত অনুভুতি পড়লাম ভাই। অত্যন্ত ভালোবাসেন সোনেলাকে তা লেখার মাঝে ফুটে উঠেছে। আমার ভাগ্য ভালো যে সোনেলার জন্মমাসেই সোনেলায় আমার জন্মমাস।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?