মহারাজের সান্নিধ্যে একদিন

ত্রিস্তান ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, মঙ্গলবার, ০৩:৫১:৫৯অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৮ মন্তব্য

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, আগে থেকেই বলা হয়েছিলো দুপুর একটা নাগাদ পুরানা পল্টনের হোটেল মেট্রোপলিটন এর দ্বিতীয় তলায় একটা রেস্টুরেন্টে সোনেলা ব্লগ পরিবারের বাৎসরিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে। গত পৌষ মাসে সোনেলা পরিবার পৌষ সংক্রান্তি উৎসব নামে ব্লগারদের নিয়ে একটি সাহিত্য বিষয়ক কম্পিটিশন আয়োজন করে। সেখানে আমার একটা কবিতা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে যার জন্য ব্লগ কতৃপক্ষ আমাকেসহ অন্যান্য বিজয়ীদেরকে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করবেন।

একজন লেখকের কাছে এই মুহূর্তটা আসলেই খুব আনন্দের যখন তাঁকে তাঁর লেখার জন্য সম্মানিত করা হয়। কিন্তু আমি যেন অন্য কোথাও আটকে ছিলাম। এই সম্মাননা অনুষ্ঠান, এই মিলনমেলা সবকিছু ছাপিয়ে আমার মন যেন অন্য কোথাও ছুটে যাচ্ছিল। এই মিলনমেলায় আমি এমন কিছু খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম যার সংস্পর্শে আমি হয়তো এর চেয়েও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় সম্মানিত হতে পারবো।

আমি এক টুকরো কষ্টিপাথর খুঁজছিলাম। যাঁর ছোঁয়ায় আমি প্রকাশ করতে পারবো আমার অবিকশিত প্রতিভা। যাঁর আলতো সংস্পর্শে আমার সুপ্ত সম্ভাবনা জাগ্রত হবে।
আর তিনি হয়তো এতো দিন আমার অনেক কাছেই লুকিয়ে ছিলেন। অথবা আমি নিজেই তাঁর কাছাকাছি থেকেও চিনতে পারিনি। আজ তিনিও আসছেন এই মিলনমেলায়।

আমি আমার সকল কর্মব্যাস্ততার ছুটি দিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম সেদিন, দুপুর দুইটা নাগাদ পৌঁছে গেলাম কাঙ্খিত গন্তব্যে। অবশ্য আমি যথাসময়ে পৌঁছাতে পারিনি। কিছুটা লেট ছিলাম। তারপরেও সবাই খুব আন্তরিকতার সাথেই গ্রহণ করেছিলো। আমি কৃতজ্ঞ সোনেলা পরিবারের সকল সু-সম্মানিত সদস্যের আন্তরিকতার জন্য।

যাই হোক ওখানে পৌঁছে আমি হাতে গোনা তিন চারজন ব্যতীত আর কাউকে চিনতে পারলাম না। সোনেলা ব্লগের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা জিসান শা ইকরাম ভাইয়া, সুপায়ন বড়ুয়া দাদাভাই, বন্ধু সুরাইয়া পারভীন, নৃ মাসুদ রানা ভাই, এই কজন কে দেখা মাত্রই চিনে ফেললাম। আর যাঁকে কাছে থেকে দেখার জন্য সব কাজ ফেলে ছুটে গিয়েছিলাম তাঁকেই চিনতে একটু সময় লাগলো।

মহারাজ, জিসান ভাইয়ার বাম পাশে ফর্সা লম্বা রাশভারী গম্ভীর চেহারার যে মানুষটা ক্যাপ মাথায় দিয়ে বসে আছেন উনাকে দেখিয়ে সুরাইয়া আমাকে বললো উনিই তোর প্রিয় মহারাজ। আমি একপলক দেখবো বলে তাকিয়ে ছিলাম, কিন্তু চোখ আর সরছিলো না। কি এক অদৃশ্য জাদুর টানে আমি বিমোহিত হয়ে যাচ্ছিলাম। সে আমি বলে প্রকাশ করতে পারবো না।

একটা সময় আমার পরিচয় পর্বে নিজের কথা শেষ করে মহারাজের সাথে কিছু কথা শেয়ার করলাম। মহারাজের কাছ থেকে কিছু বের করে আনতে চাইলাম। ভেবেছিলাম একটু সময় পেলে আরো অনেক কথা বলবো, অনেক উপদেশ শুনবো। আমার মহারাজের শব্দ সম্ভার সত্যিই এতোটা বিশাল যে সেটা অক্সফোর্ডের চেয়েও কোন অংশে কম নয়।

মহারাজা পুরো প্রোগ্রামে আমাকে তিনি “আমার কবি” বলেই ডেকেছেন। একবারও আমাদের কবি বলেন নি। এবং আমি একটা বিষয় খুব খেয়াল করলাম উপস্থিত এতো জন সদস্যের মধ্যে মহারাজ আমাকে স্পেশাল ট্রিট করলেন। আমি সত্যিই আপ্লুত। আমি যারপর নাই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।

ক্রেস্ট বিতরণ শেষে খাওয়া-দাওয়া পর্বে এসেও তিনি আমার স্পেশাল কেয়ার নিলেন। আমার স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ উদ্দ্যেগ প্রকাশ করলেন। তারপর অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে আমি সুযোগ পেলাম মহারাজের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তোলার। স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকলো একটা দিন। একটা বিশেষ সময়, যদি কখনো দ্বিতীয়বারের মতো কোথাও কোন পুরষ্কার জিতে নিই, তবে সেটা আমার মহারাজের নামেই অগ্রিম উৎসর্গ করে রাখলাম।

এই অনুষ্ঠানে যাদেরকে খুব বেশি মিস করেছি, তারা হলেন তৌহিদ ভাইয়া, আর সাবিনা ইয়াসমিন আপু। আর যে প্রিয়জন না থাকলে আমি এই পরিবার তথা এই মহারাজের সান্নিধ্যে কখনোই আসতে পারতাম না সে হলো প্রিয় বন্ধু সুরাইয়া পারভীন। তাই আমি আমার এই সম্মাননার পুরো কৃতিত্বটাই সুরাইয়া পারভীনকে দিলাম।

৩৩২জন ১২০জন
64 Shares

৩৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য