ফেসবুক কামলা – Work’s at Facebook

তৌহিদ ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ০৬:৪৪:০৯অপরাহ্ন রম্য ৩১ মন্তব্য

আপনারা যারা ফেসবুক কর্মী মানে কামলা খাটেন, তারাতো প্রতিমাসে জুকার অফিস থেকে বেতন পান নিশ্চই। কিন্তু আমরা যারা নিজেরা বছরের পর বছর ধরে টাকা ইনভেস্ট করে মেগাবাইট কিনে ফেসবুক চালাচ্ছি এতদিন হয়ে গেলো, বিনিময়ে ফেসবুক আমাদেরকে এমন কি দিয়েছে ভার্চুয়াল কিছু বন্ধু ছাড়া? আমাদের লেখা, ছবি, বিভিন্ন পোষ্ট অন্যরাও দেখছেন ফেসবুকে। আসলে আপনাদের ফেসবুকতো ফ্রীতে ব্যবসা করছে আমাদের সাথে। যত খরচা খাটুনি সব আমাদের আর বিলিয়ন ডলার ইনকাম হচ্ছে ফেসবুকের।

অন্যদিকে আপনাদের সহযোগীতা নিয়ে যারা ফেসবুকে নিজেদের ব্যবসা খুলে বসেছেন আর দুই পয়সা রোজগার করছেন তাদের কথা বাদ দিলাম কিন্তু আমাদের মতন সাধারণ ইউজাররা আসলেই কি লাভবান হচ্ছেন ফেসবুক চালিয়ে? কারও হলে বা কোন পদ্ধতি থাকলে বলুন, আমরাও সেই পন্থা অবলম্বন করতে চাই।

আমাদের লিখতে সময় ব্যয় হয়, মস্তিষ্কের পুষ্টির জন্য খাবার কিনে খেতে হয় সেখানে খরচের একটা বিষয় আছে। অনেক্ষন স্ক্রীনে তাকিয়ে থেকে থেকে চশমা লেগেছে চোখে, এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? ফেসবুকে সবচেয়ে বেশী লাইক কমেন্ট আসে ছবিতে। তাহলে বোঝাই যায় ছবি থেকে ফেসবুকের উপার্জনটাও কিন্তু সেইরকম মোটাসোটা।

একটি ছবি তুলতে গেলে টাকা খরচ করে ভালো মোবাইল, ভালো ক্যামেরা কিনতে হয়। পোজ দেবার জন্য টাকা খরচ করে জামাকাপড় কিনতে হয়, কিনতে যাবার জন্য গাড়িভাড়া খরচ আছে। আবার যেখানে ছবি তুলতে যাবো সেখানে যাবার খরচ, মাঝপথে ক্ষুধা লাগলে নাস্তাপানির খরচ আরও কত কি!

যারা ফেসবুকে Work করেন তাদের বলছি- আপনারা হয়তো এখন সাময়িক কিছু সুবিধা পাচ্ছেন কিন্তু মনে রাখবেন এমন একটা সময় হয়তো আসবে যখন জুকার অফিস আমাদের ভাতা দেবে সিনিয়রিটি মেইনটেইন করে!! যেমন ৫০০ শত টাকা করে প্রতি মাসে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করলে ৮.১০% হারে ৫ বছর পরে পাওয়া যায় ৩৬,৭৯৫ টাকা। ঠিক তেমন আরকি!! যে যত টাকার এমবি ফেসবুক বাবদ খরচ করবে তাকে তত টাকার হিসেবে ভাতা দেবে। বুড়া বয়সে কাম নাই কাজ নাই জুকারের দেয়া ভাতার টাকায় এমবি কিনবো আর ফেসবুক চালাবো।

কি হিংসে হচ্ছে এসব শুনে? হবেইতো। সময় থাকতে থাকতে নিজের প্রোফাইলের Work’s at Facebook পাল্টিয়ে কাজের লাইন চেঞ্জ করেন ভাইলোক। পৃথিবীর সকল সফল আন্দোলন কিন্তু সাধারণ মানুষের হাত ধরেই হয়েছে। যারা সুবিধাভোগী তারা নিষ্পেষিত হয়েছে বারবার। আপনারা যারা ফেসবুকে work করে কিঞ্চিত পরিমান সুবিধা নিচ্ছেন তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন অচিরেই। আইডি ডিজেবল হয়ে যায় নাকি সেটাই মুখ্য বিষয়।

এতক্ষন কষ্টকরে ধৈর্য্য সহকারে মনোযোগ দিয়ে এই লেখাটি পড়ার পর যারা এতটুকু আশান্বিত হলেন তারা চলুন আমার সাথে। সেই আশায় বসে থেকে থেকে লেবেনচুষ খাই। এই লেবেনচুষ কেনা বাবদ টাকার খরচের হিসেবটাও টুকে রাখবেন কিন্তু। বলা যায়না হয়তো জুকারের দয়া পরবশ হলে সেটারও ভাতা পেতে পারি আমরা। কষ্টের ফল অলওয়েজ মিঠা। ☺☺

২৮০জন ১জন
55 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য