রুশোর কাছে চিঠি ১

আরজু মুক্তা ৮ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ১২:৫৪:৪৩পূর্বাহ্ন চিঠি ২৮ মন্তব্য

চট্টগ্রাম

৮/১০/১৯

 

প্রিয় রুশো,

প্রতিদিন ভাবি এই চিঠিই হবে শেষ চিঠি কিন্তু শেষ আর হয়না। কবে, তুমি চলে গেলে, শীতের কম্পন আর হৃদয়ের কম্পন তখন এক হয়েছিলো। তুমি বুঝেছো কিনা জানিনা! ঐ দূর থেকে চোখ বুঝেছিলো মনের আঙ্গিনায় কি লিখা ছিলো? আমার সেই অঝরে কান্নাগুলো বৃষ্টিকে হার মানিয়েছিলো। তাই সময় করে বসি, মনের কথাগুলো লিখবো; সেই সময় এখন হয়েছে ” বৃদ্ধ যাযাবর! ” ছুটি দেয়না।

তোমার মনে আছে কি? একবার কলেজ ক্যাম্পাসে “শেষের কবিতা” থেকে কিছু লাইন শুনিয়েছিলাম। তুমি বলেছিলে, ” আজ তোমার মুখের ফুলঝুড়ি ফুটুক। কাব্য রাখো। যখন একসঙ্গে থাকবো প্রতিরাতে একটা একটা পৃষ্ঠা করে পড়ে শোনাবে।” লাবণ্য সেদিন এই কথা শুনে লজ্জা পেয়েছিলো। আমার আর ‘শেষের কবিতা পড়া হয়নি।

ঐ যে বাড়ির পিছনের রেললাইন।  প্রায়ই ওখানে ছুটে যাই। ওরা ঝনঝন শব্দ করে আমায় বিদ্রূপ করে। আমরা ও পথে যাইনা যে! রেললাইনের একদিকে আমি, আর বাম হাতটা ধরে তুমি ওপারে। কতো সময় চলে যেতো নীরবতায়।

পূজার সময় তুমি আর আমি দুজনে যেতাম দেবি দর্শনে। হাতে থাকতো মোয়া আর নাড়ু। আমি মিষ্টি পছন্দ করতাম, তুমি ঝাল। অথচ একসাথে থাকলে, তুমি মিষ্টিই কিনতে। এক গোছা রঙিন রেশমি চুড়ি কিনে দিয়েছিলে। সযতনে রেখেছি আজও—- তুমি আসলেই পরবো।

কবে আসছো? আমার দক্ষিণের জানালার পাশে ঐ যে দূরের তারা দেখা যায়। প্রতিদিন ওকে তোমার প্রতিচ্ছবি ভেবে কথা বলি। ডাক পিওনকে বলে রেখেছি, তোমার চিঠি যেনো ঠিকঠাক আমিই পাই। রাখতে না চাইলেও, খামে ভরে দিতে হচ্ছে চিঠিটা। তোমার উত্তরের অপেক্ষায়।

তোমারই

পাপড়ি

৪৩৫জন ২জন
96 Shares

২৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য