কোন একটা পত্রিকায় ব্লগ সম্পর্কে পড়েছিলাম, সে এক যুগেরও বেশী সময় আগে। তখন ফেজবুক নিয়া একটু নাড়াচাড়া করি ভাবলাম ব্লগটা কি জিনিস সেটা একটু দেখি। পত্রিকার লিঙ্ক নিয়ে ওখানে ঢুকে একাউন্ট খুলে নিয়েছিলাম। আমার জীবনের প্রথম সেই ব্লগের নাম ছিল “প্যাঁচালী ব্লগ”। ঐ সময়টায় কবিতা লিখতে খুব চেষ্টা করতাম। তাছাড়া প্রতিদিনের পত্রিকা পড়ে ওখান থেকে বিশেষ কোন খবর থাকলে সেই খবরের সাথে নিজের মতামত জুড়ে একটা পোষ্ট দিয়ে ফেলতাম। যিনি সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্লগ লিখেছেন তার নামটা যিনি কম সংখ্যক পোষ্ট দাতার উপরের দিকে থাকতো। তাই নিজের নাম উপরের দিকে রাখার জন্য সর্বদা পোষ্ট দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতাম। তবে প্রথম পৃষ্ঠায় একাধিক পোষ্ট দেওয়া নিষেধ থাকায় অবশ্যই সংযত থাকতে হতো। মনে পড়ে ময়মনসিংহের বিপুল ভাই আর আমার মাঝে এক দুই নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলতো। আসলে জীবনের প্রথম ব্লগে এসে পুরোপুরি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম।

কিছু ব্লগার ওখানে ছিলো যারা প্যাঁচালী ব্লগে এসে সামহোয়্যারইন ব্লগ বা সামু ব্লগের নাম বলতো, কিন্তু প্যাচালীর পরিবেশটা আমাকে এতোটাই মুগ্ধ করে রেখেছিলো যে অন্য কোনও ব্লগে যাওয়ার কথা মাথায়ই আসতো না। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই বিনা নোটিশে প্যাঁচালী ব্লগ বন্ধ হয়ে গেলো। ব্লগের নেশায় আসক্ত আমি পাগল হয়ে সামুতে আইডি খুললাম কিন্তু ওটার ওয়াচ লেবেল অতিক্রম করতে না পেরে পরে অন্য নামে একটা আইডি খুলে দুই দিনেই ওখানে নিরাপদ ব্লগারের খেতাব পেয়ে গেলাম। কিন্তু সামুতে তেমন একটা প্রাণের ছোয়া পেলাম না। সবাই বাঘা বাঘা ব্লগার আমিই যেন নস্যি। পরবর্তিতে প্রথম আলো পত্রিকা ব্লগে খুলে সামু থেকে আমাদেরকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এলো। প্রথম আলোতে প্রাণ খুলে ব্লগিং করলাম কয়েক বছর। তারপর ওনারাও ঘোষণা দিলো আমাদের লেখা সব সরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং একটা আলটিমাটাম দিয়ে দিলো কখন ব্লগ বন্ধ হবে। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাহেবের সাথে পরোক্ষ দেন দরবার করেও কোন লাভ হয়নি।

পরে আমরা কয়েকজন মিলে একটা ব্লগ খুলেছিলাম ঘুড়ি নামে। অর্থনৈতিক কারণে ঘুড়িও বেশী সময় আকাশে উড়তে পারেনি, ৬/৭ মাসের মধ্যেই ঘুড়ি মাটিতে নেমে আসে। পরে শব্দনীড়, জলছবি বাতায়ন ইত্যাদি নামের ব্লগেও কিছুদিন কসরত করে সামুতে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এক সময় সামু ব্লগ সরকার বন্ধ করে দেয় পর্ণ সাইট ঘোষণা দিয়ে (পরে অবশ্য এই মিথ্যে ঘোষণা উঠিয়ে নেওয়া হয়)। তারপর আমি আবারও আমার ব্লগার সত্ত্বা বজায় রাখতে ব্লগের সন্ধান করতে থাকি। এক সময় পেয়ে যাই সোনেলার সন্ধান। অবশ্য মনির হোসেন মমি ভাই আরো অনেক আগেই আমাকে এই ব্লগের ঠিকানা দিয়েছিলেন, কিন্তু অজানা কোন কারণে এখানে আর আসা হয়নি।

সোনেলার জন্মমাসে আসলে ব্লগার হিসাবে আমার জন্মের কাহিনীটাই বলে ফেললাম। ক্ষুধা পেলে আমরা যেমন খাবার খাই বা পিপাসায় তৃপ্তি নিয়ে পানি পান করি ব্লগিং জীবনটাও আমি মনে করি তেমনি। যে ব্লগে প্রাণের ছোয়া নেই সেখানে ব্লগিং করে মনের ক্ষুৎ পিপাসা নিবারণ হয়না। আমার জীবনে প্যাঁচালী ব্লগের পরে প্রথম আলো আর বর্তমানে সোনেলা ব্লগে প্রাণ আছে। এখানে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জন্য অন্যরকম টান অনুভব করি। কেউ কাউকে না দেখেও যেন আত্মার আত্মীয়। অতীতে এমন প্রাণের ব্লগগুলো হারিয়ে গেছে বলে ব্লগকে বেশী ভালোবাসতে ভয় হয়, ভালোবাসা হারাবার ভয়।

হাজার বছর বেঁচে থাকুক প্রাণের সোনেলা এই কামনায় শুভ জন্মদিন।

২৩৫জন ৪০জন
0 Shares

৩৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য