অন্তঃবোধ-২

জিসান শা ইকরাম ১১ মে ২০১৯, শনিবার, ১১:০৫:৫৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৫ মন্তব্য

স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে না পারাঃ 
বিভিন্ন কারণে আমরা কোন কিছুকে সহজ ভাবে নিতে ভুলে গিয়েছি। কারণ হতে পারে সামাজিক অস্থিরতা, অবিশ্বাস, অন্যায়, অব্যবস্থাপনাকে মেনে নেয়া, বিচারহীনতা, স্বার্থপরতা সহ আরো অনেক কিছু।
যেমন বছর দুই আগে আমাদের সোনেলা ব্লগ সাইট হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রথমে মুল সাইট, এতে ব্যার্থ হয়ে মডারেটরদের আইডি হ্যাক করার চেষ্টা। এবং একজন মডারেটরের আইডির পাসওয়ার্ড হ্যাক করে সাইটে লগইন পর্যন্ত করেছিল হ্যাকার। একজন মডারেটরের আইডি হ্যাক করার ফলাফল অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। হ্যাকার তখন প্রকাশিত সমস্ত লেখা মুছে দিতে পারে, এমনকি সাইটই ধ্বংস করে দিতে পারে। আমাদের ভাগ্য ভালো যে, ক্ষতি করার পূর্বেই আমরা জেনে যাই এবং সাইট প্রটেকশনের ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হই।
বেশ কয়েকজন জেনুইন ব্লগারকে বিষয়টি আমি জানাই। একই ম্যাসেজ এদের সবাইকে প্রেরণ করি। একজনের উত্তর আমাকে হতভম্ভ করে দেয়। উনি উত্তরে বললেন ‘ আপনি আমাকে এসব জানাচ্ছেন কেন? আপনার কি ধারনা আমি এসব করছি? ‘
উনি সহজ ভাবে আমার ম্যাসেজ টি গ্রহন করতে পারেন নি। কোনো কারণে হয়ত তিনি তখন মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন, তাই হয়ত আমার মেসেজটি স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেননি। এমন আমি আপনি সবাই হতে পারি। কোন কিছুকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে না পারা, এমন হতেই পারে।

ছোট ছোট মিথ্যে বলাঃ
আমরা অনেকেই আছি ছোট ছোট মিথ্যে কথা বলতে বলতে এখন সত্য যে কি তা বলতেই ভুলে গিয়েছি। প্রয়োজন নেই তারপরেও মিথ্যে বলি। আমাদের ধারণায় আসে, এত ছোট মিথ্যে কথায় আর কি হবে?
আমাদের জেলা শহরের পৌরসভার এক সময়ের মেয়র ছিলেন আমার ক্লাস ফ্রেন্ড ও বন্ধু। ফোন করলাম তাঁকে, দোস্ত কই তুই? উত্তর দিলো ‘ আমি ঢাকা যাচ্ছি, তিনদিন পরে আ সবো।’ পৌরসভার নীচ তলায় দাঁড়িয়ে ফোন করেছি, আমি জানি সে অফিসেই আছে। উপরে উঠে তার কক্ষের দরজা খুলে দেখি সে জাম্বুরা খাচ্ছে চেয়ারে বসে। আমাকে দেখে বলে, নে দোস্ত জাম্বুরা খা। সামান্য অনুতাপ নেই তার গলায়। এমন কিন্তু আমরা অনেকেই করি। আর অনুতাপ হীন  হয়ে সমাজে চলাফেরা করি। এর ফলে যে সত্যি বলার প্রবণতা দিন দিন কমে যায় তা আমরা নিজেরা বুঝতে পারিনা।

মানুষকে ঠকানোঃ
৮৪ টাকায় গ্রামীণের এক গিগা সাত দিন মেয়াদের ডাটা কিনতে যেতাম ফ্লেক্সি লোডের দোকানে। প্রতিবার একশত টাকা দেই তাকে। সে আমাকে ফেরত দেয়ার কথা ১৬ টাকা। ক্যাশ বাক্স থেকে ১০ টাকার এবং ৫ টাকার একটি নোট বা কয়েন ফেরত দেয় আমাকে। লক্ষ্য করে দেখেছি, তার ক্যাশ বাক্সে অনেক দুই টাকার নোট আছে, তা হাত দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে ৫ টাকা খুঁজতে থাকে সে। তিনটি দুই টাকার নোট দেয় না সে কখনোই। দু একবার তাকে বলেছি ১৬ টাকা ফেরত দিবেন না? দুই টাকার অনেক নোট থাকার পরেও তার উত্তর ‘ ভাংতি টাকা নেই।’
ঘটনাটি খুব ছোট, কিন্তু এর ব্যাপকতা বেশ বড়। তার মধ্যে মানুষকে কম দেয়ার একটি প্রবণতা তৈরী হয়েছে, সে যে মানুষকে ঠকাচ্ছে এতে তার কোন অনুশোচনা নেই, তার কাছে এটি স্বাভাবিক আচরন। আর আমরা এটি মেনেও নিয়েছি।

এই যে টাকায় মানুষকে ঠকানো এতে রাষ্ট্রেরও দায় আছে। রাষ্ট্রীয় ভাবেই এর পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। উন্নত দেশে তো আছেই, আমাদের নিকটবর্তী সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডেও টাকায় এমন ঠকানোর কথা কেহ চিন্তাও করতে পারেনা। ওখানে খুচরো পয়সা পর্যন্ত বুঝিয়ে দেয়া হয় ক্রেতাকে। যে কোনো দোকান থেকে আপনি কিছু কিনবেন, মালামালের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থই আপনার কাছ থেকে নেবে তার। আমাদের দেশের বাটার স্যু স্যান্ডেলের মূল্য ৪৯৯.৯৯ টাকা হলে ঠিক ৪৯৯.৯৯ টাকা ই রাখবে বিদেশে, আপনাকে এক পয়সা ফেরত দিবে। যা আমাদের দেশে স্বপ্নের মত মনে হবে।

এই যে এসব ছোট খাট বিষয় আমরা মেনে নিয়েছি এতে অবশ্যই বড় বিষয়কে মেনে নেয়ার প্রাথমিক অবস্থা বলা চলে। ধীরে ধীরে আমরা এসবে অভ্যস্থ হয়ে বড় অন্যায়ের দিকে ধাবিত হই।

৩২০জন ৯৭জন
14 Shares

৩৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য