মূল লেখায় যান

বান্ধবীর প্রেমকাসুন্দি

নীরা সাদীয়ারম্য২৮টি মন্তব্য

অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তির আগে আমরা বেশ খানিকটা সময় পেয়েছিলাম। তখন বিসিএস কোচিং এ ভর্তি হই। মাথায় তখন পড়ার চিন্তা, চোখে বিসিএসের স্বপ্ন। কোচিং এ আমার সাথে ভর্তি হলো আরেক বান্ধবী। তখন সে নতুন নতুন ফেসবুক খুলল। ফেসবুক মানে তখন তার কাছে অচেনা এক সমুদ্র। কোথাও ঝিনুক, কোথাও পচা শামুক, কোনদিকে সে যাবে বুঝে উঠতে পারে না। এমন সময় গুন গুন করে ভ্রমরের পাখায় চড়ে এলো মিষ্টি প্রেম। ফেসবুকে কাকে না কাকে পেয়ে তার মাথায় চেপে বসলো ভূত।এই বুড়া বয়সেও কেউ প্রেমে পড়ে, তা দেখে আমি রীতিমতো অবাক! এবার আমার হলো মহাজ্বালা। রোজ নতুন নতুন বিষয় সে আমাকে জানায়, আমার মাথার তার সব ছিঁড়ে, নাটবল্টু উল্টে পাল্টে ঐগুলোর চিপাচাপা থেকে খুঁজে বের করতে হয় বুদ্ধি! তারপর ওনাকে দিতে হয় পরামর্শ। নিজে মাঠে না নামলেও মাথা খাটিয়ে ওনার জন্য আমাকে খেলতে হতো সাইকোলজিকাল গেম। এই যেমন একদিন বলে,

“দোস্ত, ছেলেটা আমাকে বলছে, আমি খুব ভালো মেয়ে। এর মানে কি রে? তার মানে আমাকে সে পছন্দ করে।”

আমি বুঝলাম না এর সাথে পছন্দ করার ঠিক কি সম্পর্ক? কিন্তু সে কিছুতেই মানবে না, এই ছেলে যে তাকে একটা খুব সাধারণ কথা বলেছে। এর মাঝে অন্য কিচ্ছু নেই। আরেকদিন বলে,

“দোস্ত, ছেলেটা বলছে সে যাকে পছন্দ করতো তাকে সরাসরি বলতে পারত না। এখন মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে। তার মানে আমাকেও পছন্দ করে।কিন্তু সরাসরি বলতে পারে না!”

আমি দুটো ঘটনার মাঝে কোন মিল খুঁজে পাই না। সে ছেলেটাকে কোনদিন দেখেনি, চেনে না, জানে না। শুধুই ফেসবুকে পরিচয়। তাই নিয়ে এত মাতামাতি। যতই বোঝাই ফেসবুকের এসব বিষয়কে পাত্তা দিস না। তবুও সে মানে না। যাই হোক, কদিন কথা বলার পরই লাগে ঝগড়া। ঝগড়া লাগলেও সেই আবার আমার কাছে বুদ্ধি চায়। ঝগড়ার সময় বলা কথাগুলো ঠিক ছিলো কিনা তাও জানতে চায়। আমি তারানা হালিমের মত পরামর্শ দেই।

একটা সময় সে জানতে পারে ফেসবুকে ব্লক নামে একটা অপশন আছে। এবার আমাকে সে পাগল করে ফেলে,

:দোস্ত, ব্লক কিভাবে দেয়? ব্লক দিলে কি একজন অন্যজনকে দেখতে পাবে?

দিলাম শিখিয়ে।
:সাদী, আমি একে ব্লক দিসি, সেও আমাকে দিসে।

কেমনে কী?

:সাদী, আমি চাই যাকে ব্লক দিসি তার আইডিটায় গিয়ে তার পুরানা ম্যাসেজগুলো দেখতে। কিভাবে যাব?

দিলাম স্ক্রিনশট।

:দোস্ত, আমি যাকে ব্লক দিসি, তাকে আনব্লক করতে চাই।

দিলাম শিখিয়ে।

:দোস্ত ফোনে এমবি না থাকলে স্ক্রিনশট হবে?

আল্লাহ, আমি মাফ চাই!

মোট পড়েছেনঃ ১০৪৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

  1. ওহহো! তুমি তাহলে ফেসবুকের নানা রকম বিদ্যাও শেখাও!! তোমাকেই আমার দরকার। কত কিছু জানা না থাকার কারণে আমি এখনো ঠিকমতো ফেসবুক চালাতে পারছি না 🙁
    কি বলো, শেখাবে নাকি?

    রম্য পড়ে একটু না,,, বেশিই হেসে ফেলেছি 😀😀

    1. রম্য পড়ে হেসেছেন জেনে আনন্দিত হলাম।
      আর হ্যাঁ, কেন শেখাব না বলুন? অনেকেই আমার কাছে জানতে চায়, নাম কিভাবে পরিবর্তন করবে, প্রাইভেসি কোনটা কিভাবে দিলে কে কে দেখতে পাবে, আরও কত কি!

  2. হা হা হা হা হা প্রথমে হেসে নিলাম।
    আপনার লেখা পড়ে আমার বন্ধুদের কথা মনে পড়ে গেল।
    আমিও ওদের ফেসবুক কি.? এর কাজ কি.? ব্যবহার কি শিখিয়েছে।
    একসময় ফেসবুকে প্রেমের সাক্ষী হলাম, একজনের বিয়ের সাক্ষীও হলাম।
    সবাইকে সাহায্য করছি, খুব উপভোগ করতাম সময় গুলো।
    না জানলে সবাই জানতে চায়, আর এ শেখানোর মাঝেও অনেক আনন্দ পাওয়া যায়।

    ফেসবুকে অনেকের প্রেম,বিয়ে হলো আর ৭ বছরে আমার অর্জন খুব ভালো কিছু বন্ধু।

    শুভ কামনা রইল আপু।
    সাবধানে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

  3. ফোনে মেগাবাইট নামের ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও স্ক্রিনশট দেওয়া যায়। তবে কোনও অনলাইন সাইটে হয়তো ভিজিট করা যায় না। তবে যাহোক, বুঝতে পেরেছি, আপনার বন্ধুটি সরলমনা ছিল। তাই আপনাকে সময় অসময়ে খুব জ্বালাতন করতো। গল্পটা খুবই ভালো লেগেছে। আশা করি এই সময়ে সপরিবারে ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।