বিমূর্ত যখন দুঃখের সুখ

ছাইরাছ হেলাল ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ১০:১৯:২৬পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

 

দুঃখ!
লুকিয়ে পড়ো এক্ষুণি, সুচারু/সযত্নে লুকিয়ে রাখি,
গুটিয়ে রাখা আস্তিনের হা হা হাসির ভাঁজে ভাঁজে!
দুঃখ!
লুকিয়ে থাকার ভান করো, বত্রিশ দাঁতের
খটখটে হাসির আড়ালে।
দুঃখ!
ছিচ-কাঁদুনে বা হৃদয়ের এফোঁড় ওফোঁড়ে
অট্টহাসির আড়াল নিয়ে, লুকোনোর বাহানা করো
শাড়ির নিপুণ/নিঝুম ভাঁজে, নিশ্চিত আত্মহত্যার সহজতম পথে।
দুঃখ!
কল কল ছল ছল করে ওঠো, ঝাঁপিয়ে দাপিয়ে পড়,
প্রতারণার ১৬/৩২/৬৪/১২৮ সৌকুমার্যের তাবৎ ছলা-কলা নিয়ে।
দুঃখ!
তাম্বূল রস ঠোঁটে-পরে যাও-না ও-পাড়ায়, কুটনির বেশে,
অব্যর্থের নিপুণ কলায় কানপড়া দিয়ে লেলিহান আগুন
জ্বালিতে দাও, মহানন্দে;
এই ফাঁকে হাঁসফাঁস বুকে একটু নিঃশ্বাস নেই।
দুঃখ!
বিক্ষুব্ধ-সমুদ্দুরের উত্তাল তরঙ্গকে বলি খামোশ!
শুনতে যেন বয়েই গেছে বিলাপের আস্ফালন।
দুঃখ!
চকচকে করাত, ছুরি, বাটালি, হাতুড়ি নিয়ে উন্মত্ত ডাক্তার
দাঁড়িয়ে, চৈতন্যে রেখেই পাঁজর কেটে/ভেঙ্গে উপড়ে নেবে
তাজা হৃৎপিণ্ড, নো চিৎকার চেঁচামেচি, উহু আহা-ও না।

গন্দম খেকো আদম! এখন কেঁদেকেটে কী আর লাভ!
যেতে হবে নশ্বর পৃথিবীতেই, বেহেশত ছেঁড়ে!

জ্যোৎস্না-স্নাত সরাইখানার দ্বারে দাঁড়িয়ে
ছটফট করছি-না পরমান্নের লোভে, মনঃপূত অক্লেশ আয়োজনে দুঃখের
ফিসফাসের ফাঁকা আওয়াজটুকু রাহুগ্রস্তের ছিন্ন ভিন্নতা নিয়ে
অসংশয়ে বেশ শুনতে পাচ্ছি।

গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের অলংকার! চোখ ধাঁধায়, আলো দেয় না।
থাকুক-না দুঃখের-সুখ চির-অম্লান, মখমল শয্যায়।

২৩৫জন ১০জন
51 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য