চার-ছয় লাইন….

বন্যা লিপি ৭ জুন ২০২১, সোমবার, ০৩:২৯:৪৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৫ মন্তব্য

অক্ষর গুলো ধরে ধরে ছোট্ট ছোট্ট শব্দের পর শব্দ সাজাই ইচ্ছেমাফিক। ভাবি….. প্যাস্টেল রঙে আঁকা ইজেলে সেঁটে থাকা সাদা ফুলস্কেপ ক্যানভাসে চোখে বালু বিঁধে যাবার মত শাব্দিক ছবিখানি বুঝতে না পারলেও,দর্শক/ পাঠকের মননশৈলী’র বহিঃপ্রকাশ রেখে যাবেন মন্তব্যের ভাষায়। নিজস্ব মনন খুঁজে বের করে এনে টপকে দেবেন মতামতীয় ভাষায় মন্তব্য।

খোলাখুলি ভাষায় যদি বলি, এখানে আমরা সবাইই মোটামুটি লেখার সাথেই জড়িত। সবাই মানে সবাই। সবাই একেকটা লেখার জন্ম দেন মস্তিষ্কের গর্ভে। সেখান থেকে টাইপিং ছেড়ে দেন সোনেলার পৃষ্ঠায়। একটু ভাবুন তো! একটা লেখা প্রসব করতে আপনার কতটা মনন যন্ত্রণা ভোগ করে তারপর একটা সন্তান সম লেখার মুখ দেখছেন আপনি? আপনি একজন সফল মা/ পিতা। যাই বলি না কেন কম হবে।

আমি / আপনি লেখা প্রকাশিত করার পর প্রত্যাশা করি লেখার গ্রহনযোগ্যতা বা পাঠকের মতামত জানতে। অনেকেই বলি শেখার বিষয় নিয়ে। কী শিখছি আসলে? একেকটা লেখার গঠন শৈলী? লেখার শাব্দিক বিন্যাস? লেখার মূল বক্তব্য?  একেকটা লেখায় কিভাবে বিস্তারিত হলো লাইনের পর লাইনের সমন্বয়? একেকটা গল্প কিভাবে শব্দ বিন্যাস হলো? কিভাবে একটা গল্প, রিভিউ, বিবিধ,অন্যান্য,ইতিহাস,ঐতিহ্য, একান্ত অনুভূতির খেরো করচা লেখা হচ্ছে? কোনো দরকার নেই এইসব নিয়ে বলার বা লেখার। কিন্ত কেন যেন মনে হলো, একটু বলি আবারো! যেমন আমি আমার পোষ্ট নিয়েই বলি: প্রচুর বানান ভুল থাকে, অন্যেরও থাকে! কোনোটা টাইপ মিস্টেক তো কোনোটা সঠিক বানানটা না জানার কারনও হতে পারে। একটা ফিচার বা প্রবন্ধ টাইপ লেখায় বিস্তর বানান ভুল,  আপনি আমি মার্ক করে করে বলে দিতে পারব না যে আপনার লেখাটায় এই এই বানান ভুল আছে, সঠিক বানান এগুলো হবে, আপনি এডিট করে নিন। এটা যখন সম্ভব হয়না বলা,তখন বাড়তি কাজ বেড়ে যায় ব্লগ সঞ্চালক বৃন্দের ওপর। আবার কিছু ঠ্যাটা টাইপ লেখক আছেন, যাদের লেখায় ভুল ধরলে তাহারা মহা অপমানিত বোধ করে তল্লাট ছেড়ে চলে যান ঘাউড়ামি দেখিয়ে। নিজের দিকে তাকাই। একটু ভাবি, আমি আসলে লেখাকে মনের খোরাক আর আত্মতৃপ্তির আশ্রয়স্থল করে নিয়েছি। আমার লেখা জনা কয়েক পাঠক পছন্দ করছে, আমার ইচ্ছেটা দিন দিন স্বপ্ন হয়ে উঠছে। আমার একটা পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, আমার ভুলগুলো পাঠকের চোখে কাঁটার মত বিঁধছে। আমার সেদিকে হুঁশ নেই,আমি অহংকারী হয়ে উঠছি দিন দিন।যেন আমার ভুল হতেই পারে না। আমার ভুল কেন কেউ ধরবে!

লেখার বিষয়বস্ত অনুযায়ী লাইনের পর লাইন কিভাবে এলো, কোন লাইনের পর পরের লাইনটা কেন কিভাবে এলো, কোন শব্দের পর পরের শব্দটা কেন বসলো! কেউ আজ পর্যন্ত আমরা জানতে চাই কোনো লেখকের লেখা পড়ে? না– এগুলো কেউ কখনো জানতে চায় না। পাঠক নিজ থেকে বুঝে নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। লেখক সুকৌশলে লেখার ভাঁজে ভাঁজে রেখে যান যাবতীয় দুর্দান্ত সব জীবনাপোখ্যান। পাঠক পাঠ করে অনুধাবন করেন লেখকের মনন শৈলী।

আমি ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে নিয়মিক শব্দের বিপরীত লিখি, ওখানেও লুকিয়ে রাখি কোনো অর্থবোধক অর্থ। ওটা আমার তৃপ্তি। ওটা আমার কৌশলগত কৌশল। পাঠক ঝাঁপিয়ে পড়েন আমার লেখায় মূল ভাবার্থ নিয়ে স্কুল ছাত্র/ছাত্রীর মত ঠোটস্থ মুখস্থ পড়া উগড়ে দিতে। আমি কি বোঝাতে চেয়েছি সেটা যেন আমাকে বলে দেয়া। আমি টিচার নই। টিচার হবার যোগ্যতা লাগে। আমার নাই। আমি যা বুঝি, শুধু তাই বলে যেতে পারি। বলতেও না পারলে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যেতে পারি। চলে যেতে পারি হতাসা নিয়ে, কেননা লেখার উৎসাহ হেরে গেলে লেখা হাওয়া হয়ে যায়। এর আগেও এই বন্যা লিপি’ই বোধহয় এসব মন্তব্য, লেখা নিয়ে সবচে বেশি বলে আসছে। আজ আবারও সেই একই বিষয় নিয়ে বলার দুঃসাহস দেখাবার সাহস করলাম।

এখন বলি অকপট সত্য নিয়ে। এ রাজ্যে একজন মহারাজ আছেন দোর্দন্ড প্রতাপে। তার যোগ্যতার ধারে কাছে সোনেলা রাজত্ত্বে মন্ত্রী তো দূরে থাক, সম্রাজ্ঞী বলেও আমি কাউকে ঠাওর করতে পারিনাই। সোনেলা রাজ্যে নিতান্তই একজন দীনহীন গরীব দুস্থ প্রজা পরিচয়ে পরিচিত এই আমি আছি প্রায় দু বছর দশ মাস আরো কিছু বেশিদিন ধরে। বিগত ছয় বছরের নথিপত্রের খবর আমি জানি না। মহারাজের অকপট সত্যের কয়েকটা লাইন আমার বোধশক্তিতে প্রবল ঝাঁকুনি দেয়ার ফলশ্রুতিতে দুঃসাহসিক কয়েকটা লাইনের জন্ম হলো তাৎক্ষণিক।  লাইনকটা পরিমার্জিত- বর্ধিত করে আলাদা একটা বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেছি মহারাজের উৎসাহে। দুটো লেখা পাশাপাশি পড়লেই সহজেই অনুমেয় দুটো লেখার প্রাসঙ্গিক ভাবার্থ প্রায় একই। কিছু শব্দও ব্যাবহৃত হয়েছে হুবহু ভাবার্থ বোঝাবার নিমিত্তে।  অথচ……… আমি ভেবেছিলাম এ নিয়ে মন্তব্যে পাঠক সেভাবেই আসবেন।

‘রাজত্য’ বলে ব্যাঙ্গাত্ত্বক তত্ব অনুধাবন করা গেলোনা বিধায় সঞ্চালকবৃন্দের কাজ বেড়ে গেলো ভুল বানান সঠিক করে দেবার কার্যে। ঘুনপোকা আর শুয়োপোকার নেমে যাওয়া/ বুকপিন্ড দখল করে মিছিল করা….. প্রত্যেকটি লাইনে রেখে যাওয়া অর্থে পাশ কেটে যাওয়া মন্তব্য বলব না এখানে। বলব- যার যার মননশীল মননের বহিপ্রকাশ। জীবন যে যেমন করে যাপন করছেন।  গড় হিসেবে জীবনের গল্পের ছায়া প্রায় প্রতি মামুষের একই ফ্রেমে বন্দী। চিত্রায়নে ভিন্নতা থাকবেই।প্রতিটি লেখায় যদি ব্যাক্তি লেখকের ব্যাক্তি জীবন উপস্থাপিত হচ্ছে বলে পাঠক ধরে নিয়ে মন্তব্যে আসেন তো সে বড় দুঃখজনক। আগেও বলেছি,আবারো বলছি” দুঃখজনক”। এমনসব মন্তব্য আসে…. যে মনে হয়, নাহ্, আর লিখব না’ আমার তো স্বচ্ছন্দ বিচরনের এই একটাই রাজত্ত্ব! এখানকার পাঠকবৃন্দের কাছে তাই দাবিদাওয়াও বড় জোড়ালো কারন- ” আমরা আমরাই তো!” ট্যাগলাইনটাও আমারই দেয়া। সেই জোড় দাবির জোড়েই আমি বার বার বড্ড দুঃসাহস দেখাবার সাহসটা দেখাই।

সবশেষে বলে যাই……. আমাদের পাঠকমনের জয় হোক। সকলের প্রতি সকলে আমরা। কারো কোনো লেখা বুঝতে হলে আসুন মন্তব্যের ঘরে লেখা নিয়ে আলোচনা চলুক স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে। এতে আমার/আপনার সবার লেখার ধারাটাই দেখবেন বদলে যেতে বাধ্য হবে। হবে লেখার মানোন্নয়ন।  আমি বিশ্বাস করি” আমাকে পড়তে জানতে হবে”।

শুভস্য🌺

ধন্যবাদ সকলকে।

বিঃদ্রঃ — দয়া করে কেউ লেখায় মনোকষ্ট নেবেন না🙏🙏🙏🌹🌹

 

১৮১জন ১জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য