গুচ্ছানুভূতি // ৪

বন্যা লিপি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ০৩:১৪:৩৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৯ মন্তব্য

১.

আলবাট্রস পাখির পালকে ধুলো’র রেনু ছিলো এলডোরাডো শহরের ;

গুপ্তধনের খোঁজে কেউ পাড়ি জমানো, চলতি পথের ক্লান্তি ভুলে দু’দণ্ড জিরোতে এসে থেকে গিয়েছিলো খনির গুহায়, আফ্রোদিতি সোনার বরনী রঙ ধুয়ে নেমেছিলো জলের ভেতর জলের খোঁজে! ব্লাড অর্কিডের সন্ধানে পেরিয়ে গেছে  এ্যামাজনের মধ্যবর্তী রহস্যের পাথুরে ক্লিফে। ক্যানিয়নের খাড়া দেয়ালে দেয়ালে রোদের ছায়া বেয়ে বেয়ে উঠে গেছে আনা-কড়ির মূল্যে জীবনের দাম।

ফুটে আছে দুর্ধর্ষ প্রহরী সাপের আবাসভূমে- দুর্মূল্যের রক্তাক্ত অর্কিডের ভ্রূণ! নগরের কোলাহল ছেড়ে  ইফ্রিদের সন্তান  জন্ম নেবার অপেক্ষায়, পরম জংগলের নিভৃতে প্রেম নিয়েছে সমাধি।

অবিবেকের হাতের তালুতে শেকলের চাবির গায়ে মরচে ধরে গেছে বলে, পরীর পায়ে আজন্মের তালা ঝুলে রয়ে গেছে।  এ জন্মে আর পরী বিষমুক্ত হলো না……

২.

সন্ধ্যে থেকে ভোরের দূরত্ব কমানো গেলে আমিও হবো ভোরের পাখি।

ভারবাহী দুপুরটাকে দোষ দেব না আর। গ্লানিভরা জলের মত সরল ছিলো যে পরন্ত রোদ্দুরের ছায়!
প্রচণ্ড রকম বিস্ময় নিয়ে আয়তক্ষেত্রের চৌকনো বাক্সবন্দী রেখে দেবো নিবন্ধিত দস্তখতে।

শুধু বিস্তৃর্ণ মরুভূমির বুকে রেখে যাবো কাঁটার চিহ্ন!
প্রতিনিয়ত ঝরাবে স্মৃতীকাঁটার বর্ষা!

মনে করে ভালো থাকা আর না থাকার মাঝখানো ঝুলিয়ে যাব সাধ্যাতীত ছেঁড়া ঘুড়ির সুঁতো।

৩.

সরলের মত অংকের ঘর কেটে কুটে নামিয়ে নিয়েছিলাম বেজোড় সমাধানের সংখ্যা।

ছাদ ফুঁড়ে চোখ উঠে গেলো আকাশের খোলা বুকে; ছুঁড়ে দিয়েছি শঙ্কার,  দ্বিধায় ভরা নির্ভূল পেন্সিলের স্কেচ। আঁকতে চেয়ে নদীর সিঁড়ি,

মেঘের জলে ভিজেছে নীল  হাওয়া কাগজের পৃষ্ঠা।

অক্ষ পথের মোহে আটকে গেলো গুচ্ছ গুচ্ছ মাথার কেশ! নেমে যাবার পথ খুঁজছি মহাশুন্যের চারিধার জ্যামিতিক কম্পাসের কাটায়।

দুর্বোধ্য নিরবতায় সরেজমিন ফালা ফালা করে চিড়ে দেখেছি একেকটা শব্দের তির ছুঁড়ে। কৃষ্ণ গহ্বরের ওপারে রয়ে গেছে ঠাঁয় স্থির মুর্তির পাথুরে চোখের প্রহরী। আমি অপেক্ষায় সমাধি নেব ।
অপ্রতিশোধ্য ঋণে বেঁধে দিয়ে যাব ঋণাত্বক ঘণত্বের ধরাপাতের হিসেব।

প্রহরীর কান ফেটে রক্তাক্ত হয়ে উঠুক কোনো একসময়……শুধিতে ঋনের বোঝা।

২৮০জন ৪৭জন
0 Shares

২৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য