মূল লেখায় যান

রহস্য সিরিজ(অদ্ভুতুড়ে মৃত্যু_শেষাংশ)

সুরাইয়া পারভীনগল্প২১টি মন্তব্য

এই লোকটা বলে কি! আমি বাড়ি থেকে বের হয়েছি ১:৪৫ মি.। রাস্তায় এতো সময় পার হলো এখনও বলে ১:৪৫মি.
-আপনার কী মাথা খারাপ হয়েছে। আমি বাসা থেকে বের হয়েছি ১:৪৫ মি.। সে অনেক ক্ষণ আগে আর আপনি বলছেন কেবল…
-আপা আমি ঠিকই বলছি। আপনি একবার ঘড়ি দেখে নেন‌।

আমি নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থমকে গেলাম। এ কি! ১:৪৫ মি.।  ভালো করে লক্ষ্য করলাম ঘড়ির কাটা থেমে গেছে কি না । কিন্তু না ঘড়ি তো দিব্যি চলছে। কি হচ্ছে এসব! অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড। একটু ঘাবড়ে গেলেও কিছু টা স্বস্তি পেলাম এই ভবে যে এখনও সময় আছে। ট্রেনটা মিস হবে না।
-ঠিক আছে আপনি চালান। যেভাবে আপনার সুবিধে হয়।
-জ্বী আপা।

রিক্সা চালক সময়ের বেশ কিছুটা আগেই চলে এলো গন্তব্যে। আমি ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে যেতেই রিক্সাচালক বলে উঠলেন
-আপা আপনি ভয় পেয়েছেন তাই না!

চমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম…
-ভয় পাবো কেনো?
-আমাকে ভূত ভেবে। হা হা হা হা
আশ্চর্য আমি একে ভূত ভেবেছিলাম সেটা জানলো কি করে? অদ্ভুত তো! আর হাসিটা কেমন যেনো, গা ছমছম করা।

-আপা আপনার কিন্তু হেব্বি সাহস। নয়তো এতো রাতে কবরস্থানের পাশ দিয়ে আসতে পারতেন না।
এবার আরো বেশি আশ্চর্য্য হলাম। আমার সাথে রিক্সাওয়ালার যেখানে দেখা হয়েছে তাতে তার জানার কথা নয় আমি কবরস্থান ডিঙিয়ে এসেছি। এবার খানিকটা ভয় পেয়ে গেলাম। লোকটা কী করে জানলো ভাবতেই সে আবার বলে উঠলো

-আপা সাবধানে যাবেন। ভালো থাকবেন
আমি স্টেশনের দিকে যাবো এমন সময় একটা বিকট আওয়াজ হলো। পিছনে ফিরে দেখি রিক্সা পড়ে রয়েছে। আমি দ্রুত কাছে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত দেহটা পড়ে রয়েছে। লোকটার অবস্থা দেখে মনে হলো দ্রুতগামী কোনো লড়ী বা বাস প্রচণ্ড একটা ধাক্কা দিয়েছে। হঠাৎ থমকে গেলাম। কী করে হলো এমন অবস্থা? আশেপাশে দেখে নিলাম। এই রাস্তায় একসাথে দুটো রিক্সা যাওয়া আসা করতে পারে না সেখানে লড়ী বা বাস আসবে কী করে? মাত্র তো মিনিট দুয়েক হলো এরই মধ্যে কেউ নিশ্চয়ই মেরে যায়নি। আমার মাথা ঘুরতে শুরু করলো। কী হচ্ছে এসব!

আমি ভয়ে কুঁকড়ে গেলাম। আমার মনে হলো আমাকে কেউ দেখার আগেই এখান থেকে চলে যেতে হবে। নয়তো কে কখন বলে বসে আমিই খুনী। আমি দ্রুত প্রস্থান করলাম। অনেকটা দৌড়ে এলাম প্লাটফর্মে।
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে দেখি কোথায় রিক্সা, কোথায় চালক, আর কোথায় সে অদ্ভুতুড়ে মৃত্যুর রহস্য?
অনুভব করলাম এখনও ভয়ে থরথর করে কাঁপছি। বুঝলাম দুঃস্বপ্ন দেখেছি।

মোট পড়েছেনঃ ৮১৯জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২১টি মন্তব্য

    1. অনেক ছোট থেকে ইচ্ছে ছিলো রহস্য উপন্যাস লিখবো🙈🙈

      ছোট থেকে ‘মাসুদ রানা সিরিজ’ দস্যু বনহুর পড়তাম কি না

      কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  1. যাক বাবা আপনে দু:স্বপ্ন দেখছিলেন তা শেষ পর্যন্ত না আসলে বুঝতে পারতাম না।
    রহস্যময় গল্পটার জন্য আপনাকে ১০০ নম্বর দিলাম
    যদি বিচারক মানেন।
    শুভ কামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?