মূল লেখায় যান

নদীর এপাড় কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস …

জিসান শা ইকরামএকান্ত অনুভূতি৪৪টি মন্তব্য

যখন আমি চিকনা ছিলাম,কত যে হাহুতাস করছি মোটা হবার জন্য। কমলা,আপেল,আংগুর,মধু, ডাব সহ ভেষজ চালাইছি দিনের পর দিন। কাচা ডিম,পাকা ডিম চলেছে হরদম। দুধের মধ্যে কাচা ডিম দিয়া শ্বাস বন্ধ করে গেলা [ কেমন একটা ভোটকা গন্ধ একারণে শ্বাস বন্ধ ] , ভোর ভেলা কাচা ছোলা বুট আদার কুচি সহযোগে খাওয়া, কাচা বাদাম কোনকিছুই বাদ দেই নাই।
অবশেষে বাসার পাশের ফার্মেসির কম্পাউন্ডার রাজেন দার পরামর্শে শুরু করলাম মোটা হবার সর্বশেষ চিকিৎসা। রোজ সন্ধ্যার সময় দুই চামচ ব্রান্ডি আর একটা মুরগীর রানের কাবাব। ব্রান্ডি যে কি জিনিস তাই তখন বুঝতাম না।তবে শরীর গরম হইয়া যাইত। গরম যখন হইতাছে, মেডিসিনে কাম কর্তাছে 🙂 এতই গরম যে মাঘ মাসের শীতে স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে বাসার মধ্যে থাকা। কর্ম সম্পাদনের আশায় ডোজ বাড়াইয়া ৩ চামচ খাওয়া শুরু করলাম। প্রায় ৩ মাস এই চিকিৎসা চালাইছি। রাজনদা দিত ব্রান্ডি আর কালুর চপের দোকানে গিয়া মুরগীর রান।বোতল দেয়ার সময় বোতলের লেভেল ছিঁড়ে দিতেন কেন এর রহস্য বুঝতে আমার লেগেছে ৫ বছর । টাকা পয়সা কিছু কম যায় নাই। লাভের লাভ কিছুই হয় নাই। চিকনাই রইয়া গেলাম।
বিয়ের পরে কেমনে কেমনে জানি শরীরের ওজন বৃদ্ধি হইল। আর ধীরে ধীরে মোটা হইয়া গেলাম।

আর এখন?
আবার চিকন হবার চেষ্টায় রত। মোটা হবার জ্বালায় জীবন অস্থির হইয়া পরছি। কেমনে চিকন হমু? খাওয়া দাওয়া সব কমাইয়া দিছি। তিন বেলায় যা খাই তা মোটা হবার চেষ্টা কালে একবেলায় খাইছি। কামের কাম কিছুই হইতাছে না। আহারে আগে কত সুন্দর চিকনা আছিলাম, যখন খুশী লাফ দিয়া চলাফেরা করছি। চিকন চিকন ফাঁক ফোকর দিয়া চিকনা শরীরটা ফুড়ুত করে চালান করে দিছি।
আমার সেই রাজনদা আর নেই, কে চিকিৎসা করাইবে? একজনে কইল, বিয়ার পরে যেহেতু মোটা হইছেন, তাই আবার সিঙ্গেল হইয়া যান, চিকন হইয়া যাইবেন।
আর একজন কইল ‘এক বিয়ায় মোটা হইছেন, আর একখান বিয়া করেন, দুই বিয়ায় চিকনা হইয়া যাইবেন।’ [ এই পরামর্শটা ভালোই 🙂 ]

পরামর্শ ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিয়ে অবশেষে ( পাইছি উহারে পাইছির ইমো )
কলকাতার মুভি ডাউনলোড কর্তাছি’  রোগা হওয়ার সহজ উপায়।’ দেইখ্যা লই, যদি লাইগ্যা যায় 🙂

এ যেন ‘ নদীর এপাড় কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস … ঐ পাড়েতে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস ……’
আমরা আসলে আমাদের বর্তমান অবস্থায় সন্তষ্ট থাকতে পারিনা।ভাবি অন্য কিছুতেই শান্তি- ছুটে চলি সেই কল্পিত শান্তি অর্জনে।প্রাপ্তির পরে ভাবি আগেরটাই তো ভালো ছিল।

আমরা যেন আমাদের বর্তমানকে নিয়ে ভালো থাকি।

শুভ কামনা সবার জন্য  -{@

মোট পড়েছেনঃ ৮৮৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

৪৪টি মন্তব্য

  1. মামা রোগা হবার সহজ উপায় মুভিখানা কি বসে বসে দেখবেন, না বলছিলাম কি বসে থেকে তিন ঘন্টার মুভি দেখলে কিন্তু কিঞ্চিত রোগার জায়গায় মোটা হয়ে যাইতে পারেন কিনা।

    তবে আমি একটা কাজ করছিলাম। একবার একটা এক্সিডেন্টের ঘটনায় ১ বছর হাসপাতালের ব্যাড এবং বাসার বেডে থাকার পর আমার ৬২ কেজির শরীর বেশি না মাত্র ৮৫ কেজিতে পৌছাইছিল, এর পর সুস্থ হয়ে লম্বা হাঁটাহাঁটি, এবং প্রচুর লেবুর রস, আর হালকা ব্যায়াম করে কমিয়েছিলাম। আপনিও ট্রাই করে দেখতে পারেন,।

    শুভকামনা থাকলো।

  2. ভূমি ভাই একতা সহজ উপায় দেনঃ সুগান বন্ধ।

    আমি এক মাসে ১১ কেজি কমিয়েছিলাম সুগারের সাথে ভাত বন্ধ করে দিয়ে। শুধুমাত্র ঘাসের চাইতে বিস্বাদ ( ছোটবেলায় গরু যোগ ছাগল জাতীয় প্রাণী ঘাসে কি মজা পায় বুঝতে ঘাস ভক্ষণ কর্মসূচী নেওয়ার অভিজ্ঞতা নেওয়া আছে বৈকি -_- ) কড়কড়ে টোস্ট বিস্কিট আর অয়ানিতে ঘন্টা দেড়েক শুধু নুডুলস সেদ্ধ করে খেয়ে কাটিয়েছি এক মাস।

    ফলাফলঃ চিকনি চামেলা (চামেলির পুং ভার্সন) হইতে না পারিলেও হোঁৎকা মোটকা গতরখানি বিলোপ পাইয়াছিল বটে!

    পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ এক মাস পরে মাথা ঘুরান্টিস, দূর্বল লাগন্তিস, পেট ব্যাথান্টিস সহ যাবতীয় টুসঠাস হজমের শক্তি বিলোপ -_-

    পরামর্শঃ আহার বিহারের লোভ কিঞ্চিৎ ত্যাগে গতরের কলকব্জার প্রতি মোহ ত্যাগ করিতে পারিলে উপরোক্ত প্রণালীর সহিত আপনার স্বাস্থ্যের উপর প্রয়োগ করিতে পারেন বৈকি!

    সতর্কতাঃ পুরোদমে কলকব্জা বিগড়াইলে আমাকে চিনিতে ভ্রম হইবে বৈকি 😀

  3. লেখা পড়েই বুঝা যাচ্ছে এক সময় মোটা হওয়ার জন্য আপনি কত্তো কষ্ট করছেন 😀
    আচ্ছা মোটা হওয়ার সহজ উপায় নিয়ে কি কোন মুভি নাই ;? তাহলে আমি ঐ মুভি ডাউনলোড করতাম :

  4. একটা সময় যখন একটু বেশিই জীর্ণ শীর্ণ ছিলাম তখন নানা জনের পরামর্শে আমিও কিছু চেষ্টা শুরু করেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন বাদেই যখন বুঝলাম সহজেই মোটা হওয়া যাবে, কিন্তু চাইলেই হুট করে আর এই অবস্থায় ফিরে আসতে পারবো না তখনই ঐসব পরামর্শ বাদ দিয়ে নিজের মত থাকবার চেষ্টা করেছি।

    লেখাটা মজার ছিল ভাইয়া।

  5. নানা জানো আমরা কেন মোটা হই? অতিরিক্ত স্নেহে। ছোট থাকতে এতো স্নেহের জোয়ার ছোটে যে বড়ো হলে স্নেহ না পাওয়ায় স্নেহ পদার্থ খাওয়ার উপর প্রেসার পড়ে। নানী যেমন তোমার জন্যে খাঁটি ঘিঁ বানায়। যাক এইটা হইলো ভুঁড়ি হওয়ার আসল কারণ।

    এখন কমানোর জন্য একটা কাজ করো। হাসির না। খাওয়া-দাওয়া সব করো। কিন্তু স্কুলে যে শাস্তি দেয়া হতো ওঠা-বসার? ওইটা করো। কানে ধরে অবশ্যই। কানে ধরার কারণ হলো তোমার মন। তোমার মনরে দিয়ে বলাইও “ওহে জিসান কানে ধরে উঠো আর বসো। অনেক ভুঁড়ি বাড়াইছো, এইটা হইলো তোমার শাস্তি।” এরপর নানীরে বলো একটা লাঠি নিয়ে সামনে দাঁড়াতে হিসাব করবে ১০০ পর্যন্ত। আর একটা ভুল হলে :p
    তখন নানীরে স্ত্রী না শিক্ষিকা হিসেবে মানবা কিন্তু। 😀

  6. আমরা যেন বর্তমানকে নিয়ে ভালো থাকি? কত বর্তমান গেলে এমন ভালো থাকা হবে?
    মুরগীর রান খেলেতো মুরগীর মতোই স্বাস্থ্য হবে। আফসুস সেই সময়ই আপনারে ক্যান বিবাহ দিয়ে দেয় নাই। তাইলে এত্তো পয়সা খরচ হইতো না।
    দুই বিয়া করলে চিকনা হয়ে যাবেন? :D) কত্তো খরচ পরবে বুঝতে পারছেন তো?

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?