মায়া

ইঞ্জা ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:৫৯:৪৭অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪১ মন্তব্য

ছোটবেলায় তেমন দূরন্ত ছিলাম তা বলা যাবেনা কিন্তু কমও ছিলামনা।

স্কুলে প্রবেশের পর প্রতিদিন টিফিন ছুটিতে আম্মার দেওয়া চার আনা (সিকি), আধুলি (পঞ্চাশ পয়সা) নিয়ে উর্দ্ধশ্বাসে দৌড় লাগাতাম স্কুল ক্যান্টিনের উদ্দেশ্যে, সেখান থেকে কনি আঙ্গুলের সমান আলুর চপ, ছোট সিঙ্গারা, সমুচা, আলুর সেন্ডউইচ কিনে খেতাম, স্কুল ছুটির পর আবার দৌড়, স্কুল গেইটের সামনে বিক্রি হতো মজাদার জলপাই, তেতুল, বড়ইর আচার, হতো রঙ্গিন বরফের আইস্ক্রিম, বরফ কুচির গোলা আইস্ক্রিম, এইসব কেনার মধ্যেই সব ধরণের আনন্দ পেতাম।

তখন তো পাঁচ, দশ, চার আনা, আধুলির দিন, কখনোই এক টাকার দরকার হয়নি, আমি সেই সব পয়সা দিয়েই আমার আনন্দ খুঁজে নিতাম।
আমার আব্বার কিন্তু এইসব পছন্দ ছিলোনা, স্কুলে যাওয়ার সময় ঘর থেকেই টিফিন দেওয়া হতো, আম্মার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিলো যেন কোন পয়সা দেওয়া নাহয়, এরপরেও মায়ের মন বলে কথা, লুকিয়ে দিতেন যখন যা পারেন।

দুপুর একটায় স্কুল ছুটির পর বাসায় ফিরতাম, বিকাল চারটায় স্থানিয় পিচ্চিদের ডাক দিতাম টারজান স্টাইলে ওওওওও ওওও করে, এই ডাক শুনেই সব ছেলেপেলেরা যে যেখানেই থাকুক দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমার বাসায় হাজির হতো, আমরা ফুটবল, বোম ফাইট (টেনিস বল দিয়ে যাকে খুশি তাকে মারা), সাত চাড়া (৭টি ফ্লাট ছোট পাথরকে একটার উপর একটা দিয়ে টেনিস বল মেরে ইতস্তত ভেঙ্গে দেওয়া যা এক পক্ষ বল দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করে আউট করবে আর অন্য পক্ষ বল গায়ে লাগতে না দিয়ে ৭ ইটের টুকরোকে আবার একের উপর আরেক বসিয়ে খেলায় জিতবে), এইসব বিভিন্ন ধরণের খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম।

একদিন আমার সাঙ্গপাঙ্গরা এক বাচ্চা কুকুর শাবক নিয়ে এলো আমার কাছে, লাল সাদা শাবকটা আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেলো, আমি রাখবোই একে, অন্যদিকে আম্মা ওটারে দেখেই অগ্নিশর্মা।
ছিঃ ছিঃ ছিঃ এই মুহূর্তেই এইটা বিদায় কর, আমি আক মুহূর্ত এইটাকে দেখতে চাইনা।
আমরা ভাই বোন সব এক হয়ে গেলাম, এইটাকে আমরা পুষবো, এইটা ঘরের মধ্যে আসবেনা, এই উঠোনেই পড়ে থাকবে।
অনেক বলে কয়ে রাখার চেষ্টা করলাম সবাই, আম্মা শেষে বললেন, ঠিক আছে বাইরে রাখ, তোদের আব্বা আসলে এর ব্যবস্থা করবো।
আমরা ভাই বোনেরা কুকুর শাবকটাকে ঘর থেকে চুরি করে করে বিস্কুট খাওয়াতে লাগলাম, ও চুকচুক করে খেতে লাগলো।

সন্ধ্যার পর আব্বা আসলে আমরা সবাই ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলাম, আব্বা বাইরে কুকুর শাবকটা দেখেই অবাক, বাইরে থেকেই ডাক দিলেন ” ইঞ্জিনিয়ার” বলে।
আমি তো ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে গেলাম, “জ্বি আব্বা”।
এইটা কে এনেছে?
ভয়ে ভয়ে সব বললাম।
কিছু খেতে দিয়েছিস?
বিস্কুট দিয়েছি।
এসবে ওর পেট ভরবে, বেবির মা (আমার বড় বোনকে বেবি ডাকেন সবাই), ওরে দুধ গুলে দাও একটা বাটিতে করে, বলেই ঘরের ভিতর চলে গেলেন।
আমরা ভাই বোনরা সবাই খুশিতে আত্মহারা।

…….. চলবে।

৪৩৯জন ১২জন
19 Shares

৪১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য