প্রতিশ্রুতি

সুরাইয়া পারভিন ৩০ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ১০:৪৭:৩০পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২১ মন্তব্য

#প্রতিশ্রুতি

“তুমি আমার না থাকলেও আমি তোমারই থাকবো”
কেউ একদিন এই কথাটা বলেছিলো তার তথাকথিত প্রেমিকাকে
মেয়েটি সেদিন কথাটির মানে বুঝতে পারেনি,শুধু শুধু ভেবে মরছিলো
অপর প্রান্ত থেকে ছেলেটি মেয়েটিকে বলছিলো বুঝলে না তো?
কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে তো,অচেনা লাগছে না কথা গুলো?

সেদিন মেয়েটি সত্যিই কথা গুলোর মানে বোঝেনি,হয়তো বোঝার চেষ্টাই করেনি।মেয়েটি তো অন্ধ ছিলো ছেলেটির ভালোবাসায়,কেয়ারিং আর কন্ঠের মায়ায় পাগল প্রায়,

মেয়েটি প্রেম কি জেনেছিল ছেলেটির আগমনে,,ভালোবেসে ছিলো তাই তার সব কথায় বাধ্যতা স্বীকার করতো।মেয়েটি কখনোই কারো বাধ্য ছিলো না,কতটা ক্ষমতা থাকলে একজন অবাধ্য মেয়েকে বশে আনা যায়?

“তুমি আমার না থাকলেও আমি তোমারই থাকবো”কথাটি মেয়েটির ভালোলেগে ছিলো।মেয়েটি ছেলেটিকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে শুরু করে,ভালোবাসতে শুরু করে।আর যা হোক ছেলেটি মেয়েটিকে কোনো দিন ছেড়ে যাবে না এই বিশ্বাস থেকে মেয়েটি তাকে পাগলের মতোই ভালোবাসতে থাকে।যতদিন যায় মেয়েটির ভালোবাসা গাঢ় হয়।

ছেলেটির ছোট ছোট আবদার ছিলো মেয়েটির কাছে,,মেয়েটি এতে গুরুত্ব দিতো না। কারণ মেয়েটি বিশ্বাস করতো ছেলেটি তাকে ছেড়ে যাবে না কোনো দিন
কিন্তু মেয়েটির ভাবনায় ভুল ছিলো,মেয়েটি ছেলেটিকে ভুল চিনে ছিলো।
ছেলেটিও তো মানুষ ছিলো তাই খুব স্বাভাবিক তারও কিছু চাহিদা ছিলো

ছেলেটি নিজের দেওয়া কথা ভুলে যেতে শুরু করলো,অবশেষে ছেলেটি
অন্যের হয়ে গেলো।ভুল প্রমানিত হলো ছেলেটির কথার

তুমি আমার না থাকলেও আমি তোমারই থাকবো
অথচ ছেলেটি অন্যের হয়ে গেলো আর মেয়েটি ছেলেটিরই রয়ে গেলো।

মেয়েটি হতবাক!এই কি কথা তবে রাখা
তবে কি ভালোবাসার থেকে চাওয়া পাওয়াই বড় হয়ে উঠলো ছেলেটির কাছে?
সবটাই কি মুখোশে ঢাকা অভিনয় ছিলো  মাত্র,ছেলেটি মেয়েটির জন্য কেঁদেও ছিলো। কান্নাটা কি মেয়েটিকে দেখানোর জন্যই ছিলো?

অবশেষে মুখ আর মুখোশ আলাদা হলো,ছেলেটি সত্যিটা স্বীকার করলো নির্বোধ মেয়েটি সবটা শুনে কি করবে ভেবে পেলো না?
এভাবেই চাওয়া পাওয়ার কাছে হেরে যায় ভালোবাসা,বিলীন হয়ে যায় সম্পর্কের বন্ধন।

১১৬জন ১২জন
9 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য