নির্বাচিতা একজন

আজিম ৫ এপ্রিল ২০১৪, শনিবার, ১২:১৬:১৬অপরাহ্ন গল্প, সাহিত্য ২০ মন্তব্য

 

আমার প্রিয় উপজেলাবাসী ভাইবোনেরা ; আপনারা আমার সালাম নিবেন । আমি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচন করতে যাচ্ছি । আপনারা ভাববেন , কেন এবং আমার স্বার্থ-ই বা কি ! এ-সমস্ত বলার জন্য-ই এই জনসভা । আপনাদের এই বাজার-স্টেশন চত্ত্বরে আমি এটা বলে যেতে চাই ।

আমাকে আপনাদের নতুন মনে হতে পারে , তবে আমি এই উপজেলার একজন মানূষ , এখানে আমার জন্ম । এখানে জন্ম নেয়া হিসাবে এই উপজেলার জন্য কিছু করা আমি আমার দায়িত্ব মনে করি । কেন কিছু করা দায়িত্ব মনে করি , কারন এই উপজেলা ভালো চলেনা এবং অধিকাংশ সময় ভালো চলেনি । এখানে অন্য অধিকাংশ উপজেলার মত সুশাসন চলেনি । এখানে শক্তির মহড়া চলেছে , এখানে সুবিধাবাদী গোষ্টীর শাসন ও গরীব মানূষের উপর শোষন চলেছে । তাঁদের নামে গমের বরাদ্দ এসেছে , মেরে খেয়েছে ক্ষমতাশালীরা ; দরিদ্ররা কিছু পায়নি । দরিদ্র-এলাকা বঞ্চিত হয়ে প্রভাবশালীদের এলাকা সুফল ভোগ করেছে । এলাকার প্রয়োজন হিসাবে এখানে চাল/গম অথবা টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি । বরং যে রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় থাকে , সেই দলের প্রভাবশালীদের কথামত সে-এলাকায় এসব বরাদ্দ হয়েছে । ফলে সুষম উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় , তা এখানে কখনই হয়নি ।

সবসময় দেখা গেছে  যে , এসব কাজে অফিসের কর্মকর্তাদেরকে ঘুষ দিয়ে খারাপ কাজ করা হয় , অনেক সময় কাজই হয়না । কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করতে নিষেধ করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে প্রকল্প-সভাপতিকে । আবার দেখা যায় , প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব নাই , অথচ প্রকল্পে অর্থ বা গম/চাল বরাদ্দ হয়ে তা উত্তোলন-ও হয়ে গেছে । এরকম উদাহরন একটা / দুটা নয় , ভূরিভূরি । এখানে সাধারন দরিদ্র মানূষগন বঞ্চিত হন , অথচ তাঁদের জন্যই বরাদ্দগুলো আসে ।

প্রিয় ভাই-বোনেরা , এখানে টেন্ডারবাজীর কথা আমরা সেই ১০/১২ বছর থেকে শুনে আসছি । টেন্ডারবাজীর কারনে সাধারন কন্ট্রাক্টরগনের অধিকাংশই কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন । টেন্ডারবাজীর কারনে নিয়ম-নীতির বরখেলাফ হয় এবং এতে কন্ট্রাক্টরগনের মধ্যে ক্ষুদ্র একটি গোষ্টী লাভবান হন , বঞ্চিত থাকেন অধিকাংশ কন্ট্রাক্টর সাহেবগন । কেন এটা হবে , আমরা জানতে চাই । ইঞ্জিনিয়ারগন-ও এতে জড়িত থাকেন । আসলে তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া টেন্ডারবাজী করা অসম্ভব । তাঁরা করে থাকেন , ভয়েও হতে পারে , লোভেও হতে পারে । আমরা তাঁদের ভয়ের জায়গাটা দূর করতে চাই , অর্থাৎ তাঁরা যেন ভয়ের কারনে টেন্ডারবাজীতে সহযোগিতা করতে বাধ্য না হন , সে-ব্যাবস্থাটা আমরা করতে চাই । আমরা তাঁদের লোভের জায়গাটা-ও দূর করব , অর্থাৎ তাঁরা যেন ঘুষের বিনিময়ে এই টেন্ডারবাজীতে সহযোগিতা না করেন , সেজন্য তাদেরকে বাধ্য করতে চাই । এভাবে আমরা স্বচ্ছভাবে কাজ করে নিয়ম-নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং  এভাবে প্রত্যেকটা অবকাঠামো অর্থাৎ ব্রীজ , কালভার্ট , রাস্তা-ঘাট সবকিছুর গুনগত মান ভালো করতে চাই , যাতে করে নির্মিত কাজগুলি সুন্দর হয় , শক্ত হয় , মজবুত হয় ।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা , শিরদাঁডা টান করে আবার বলতে শুরু করেন ইয়াসমিন , এই কাজগুলি-ই পরিষদের মূল কাজ এবং এগুলির সাথে কৃষি , মৎস্যসহ আরো যে সেক্টরগুলির কাজ রয়েছে , সেগুলিতেও স্বচ্ছতা , নায্যতা , সততা নিশ্চিত করা হবে বলে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলাম এবং আমাকে আপনারা নির্বাচিত করলে নির্ভিকভাবে এই প্রতিশ্রুতিগুলি পালন করতে আমি বদ্ধপরিকর থাকবো । নিশ্চিত থাকবেন কেউ অথবা কোন শক্তি আমাকে কোনভাবে টলাতে পারবেনা ।

ইয়াসমিন হক-এর এই ভাষনের পর আসলে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের চিত্র পালটে যায় সারা উপজেলায় ।  ইয়াসমিন স্বামীর চাকুরীস্থল ঢাকায় থাকলেও মাঝে মাঝে বাড়ীতে আসেন । এখানে তাঁর মা ও বড় বোন থাকতেন । বর্তমানে তাঁদের পৈতৃক বাড়িটি থাকলেও তাঁর মা মারা গেছেন বছর দুই হয় । বড় বোনও চলে গেছেন ঢাকায় । তবুও ইয়াসমিন নাড়ীর টানে সময় সময় ছুটে আসেন এই শহরে ।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের অফিস , বাসা সবসময় সরগরম থাকে । আলোচনার শীর্ষে থাকেন ইয়াসমিন । মিটিংটি ডাকা হয়েছিলো প্রার্থী ইয়াসমিনের নামে । মিটিং শুরু হল অল্প কিছু মানূষ নিয়ে , ধীরে ধীরে মিটিংয়ে লোকসমাগম হতে হতে বিশালাকার সমাগমে পরিনত হয় মিটিংটি । আর মানূষও অত্যন্ত মনযোগ সহকারে ইয়াসমিনের প্রতিটি কথা শুনেছে এবং ভোট দিক বা না দিক , তার কথাগুলি মানূষ কিন্তু শুনেছে আকৃষ্ট হয়ে । দুটি দলের প্রার্থীদের ভয়ের জায়গা এটাই ।

ইয়াসমিনের এভাবে উত্থানকে অন্য প্রার্থীগন ভীতির চোখে দেখা শুরু করে দিয়েছেন । কারন গ্রামে-গঞ্জে সবখানেই ছুটে যাচ্ছেন তিনি এবং যেখানেই যাচ্ছেন মানূষের যেন সাড়া পড়ে যাচ্ছে ; বিশেষ করে মহিলারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন , তার গায়ে হাত তাঁরা এমনভাবে দিচ্ছেন যেন একান্তই নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি । অথচ ইয়াসমিন কথা বলছেন খুব-ই কম , শুধু শুনে যাচ্ছেন অভিযোগ এবং তার সম্পর্কে মানূষ যা বলছেন তা । গ্রাম অথবা ইউনিয়ন-ভিত্তিক মিটিংগুলিতে তিনি যা বলার বলে দিয়েছেন , যেন তাই আর বেশী কিছু তার বলার নাই ।  এতো বড় উপজেলা প্রশাসন তিনি সামলাতে পারবেন কি-না , সময় সময় যদি কেউ এ-ধরনের কথা বলেন , তখন তিনি তাদেরকে বলেন , দেখেন যত বড় প্রশাসন-ই হোক না কেন , আপনার বিবেক যদি স্বচ্ছ থাকে এবং নায্যতা , ন্যায়পরায়নতা যদি আপনার মনে-প্রানে ধারন করা অবস্থায় থাকে , তবে সাহস আপনার এমনিতেই এসে যাবে এবং তাতেই সব হয়ে যাবে । একথা শুধু এই ছোট্ট প্রশাসনের ক্ষেত্রে নয় , বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও যদি এসব ধারন করেন , তবে তিনিও  সারাদেশব্যপী , এককথায় যাকে বলে সুশাসন , তা নিশ্চিত করতে পারবেন ।

আচ্ছা , এতো টেন্ডারবাজ , গম/চাল মেরে দেওয়া , এসমস্ত বন্দ হয়ে গেলে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে , তারা নিশ্চয় বসে থাকবেনা । তাদের নিয়ে কি ভাবনা আপনার ?

তারা নিয়ম-নীতি মতে কাজ করতে দিবেন বলে আমার আশা । তবে তারা যদি তা করতে না দেন ,  সাধারন  মানূষের  বরাদ্দে  কেউ  জোর  করে  ভাগ  বসাতে  যান , তবে  সাধারন  মানূষই  বাধা  দিবে , প্রয়োজনে  রুখে  দাঁড়াবে  ।  আর  টেন্ডারবাজীর  ক্ষেত্রে  সাধারন  ঠিকাদারবৃন্দ  রুখে  দাঁড়াবেন । তারা  যাতে প্রয়োজনে রুখে দাড়াতে পারেন , সে-ব্যাবস্থাটাই করে দেওয়া হবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে । আর সারা উপজেলাব্যপী  আমাদের  অনেক  স্কুল-কলেজ  আছে  ।  এখানে  অনেক  ছাত্র-ছাত্রী  আছে , যারা  প্রকাশ্যে  না  হলেও  মনে  মনে  এমনই  একটি  প্রশাসন  চায়  ।  আমাদের  কাজ  হল  শুধু  তাদের  এই  চাওয়াটাকে  এগিয়ে নেওয়া । তারা  এগিয়ে  এলে  আপনারা  যাদের  নিয়ে  শংকা  করছেন  ,  তারা  কোথায়  যাবে  , ভেবে  দেখবেন । আর  ভয়  !  অসাধারন এক দ্যুতি খেলে যায় তার চোখে ; বলেন , কয়দিন বাঁচি ভাই আমরা ? শোষন-বঞ্চনার অবসানের এই সংগ্রামে আপনারা থাকলে এই শক্তি এমনই জমাট  বেঁধে যাবে যে , বন্ধুকের গুলি তাতে লাগলেও , তা না বিঁধে উষ্টে ফিরে যাবে বিপরীতে । জনতার শক্তি অসীম এবং এই অসীম শক্তির কাছে অপশক্তি অবশ্যই ব্যর্থ হবে ।

এভাবেই প্রচারনা এগিয়ে চলে ইয়াসমিনের । অন্য প্রার্থীরাও প্রচারের তুংগে । তাদের প্রচার-প্রপাগন্ডার মূল বিষয় – নির্বাচনী ওয়াদা এবং অন্য প্রার্থীদের , বিশেষ করে ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বলা । কারন ইতিমধ্যে এই মহিলার বিরাট একটা ভাব-মূর্তি তৈরী হয়ে গেছে , যা তাদের অবশ্যই দুশ্চিন্তার বিষয় । কোন প্রার্থীর বিপক্ষে বলেননা শুধু ইয়াসমিন । দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে শুধু বলে যান নির্বাচিত হলে তার করনীয় ।

অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে নির্বাচনের দিন আসে ।মানূষ ভোট দেন , প্রার্থীগনও নিজ নিজ ভোট দেন , ইয়াসমিনও দেন তার দু’একজন আত্মীয়-সহকারে । বেশীরভাগ সময়ই তাকে পরিবেষ্টিত করে রাখেন  ইতিমধ্যে পরিগণিত হয়ে যাওয়া তাঁর অসংখ্য ভক্তকূল , মহিলারা তাঁকে দেখলেই গায়ে-মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দেন যেন তিনি তাঁদের অনেক আপনজন ।

আজ তাঁর অভিষেক । বাড়ীর সামনে মানূষের ঢল । সামনে , তার কাছাকাছি থাকার প্রতিযোগিতা চলছে সকাল থেকেই । ছোটখাটো টিনের বাড়ীটা থেকে সাধারন একটা শাড়ী পরা তিনি বের হয়ে আসলেন , যাবেন প্রশাসনিক ভবনটিতে , যেখানে মানূষ পরম নির্ভরতায় তাঁকে প্রবেশাধিকার দিয়েছেন । গনমানূষের প্রতি শ্রদ্ধায় এবং কর্তব্যে অবিচলিত থাকার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি , পেছনে হাজারো মানূষ ।

——————————–     -সমাপ্ত———————————

মোঃআজিমুল হক

২৫৬জন ২৫৬জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

  • আজিম

    বাস্তবতা নেই, সঠিক । কিন্তু এই অবাস্তবতাকে বাস্তবে রুপ দান করতে চান আপনারা, আমি জানি । শুধু জানি-ই নয়, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাসও বটে । কারন অধিকাংশ মানুষ কখনও খারাপ চাইতে পারেনা ।
    এইসমস্ত আপাতঃ-অবাস্তব বিষয়গুলো আমরা মনের গহীনে গেঁথে নিতে চাই, যাতে বাস্তবে এসবের প্রতিফলন ঘটানো যায় ।
    প্রিয় পাঠক, পারবেননা প্রতিফলন ঘটানোর মতো পরিবেশ গড়ে তুলতে ?

  • প্রহেলিকা

    সালাম জানবেন শ্রদ্ধেয় আজিম। আশা করি ভাল আছেন। সময় তেমন করতে পারিনি বলে এখানে আসতে দেরী হল।তবে কিছু জানার ছিল আপনার কাছে। সময় থাকলে বলবেন আপনার। আলোচনা হবে।

  • আজিম

    আমাদের দেশে জাতীয় কিংবা স্থানীয়, যে-কোন নির্বাচনে প্রার্থীরা মানুষকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন । নির্বাচনে অর্থ-প্রতিপত্তির যে খেলা হয় এবং নির্বাচনগুলি দেখতে দেখতে আমাদের মনে ধারনা নিয়েছে এবং নেওয়াটাই স্বাভাবিক যে, এভাবেই চলবে দেশ, কোন অন্যথা হবেনা এর ।
    মানুষ আসলে সুশাসনেরই নিশ্চয়তা চায় । কিন্তু দেখা যায়, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিগুলিতে সেরকম কোন নিশ্চয়তা থাকেনা । তাদের সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার, হয় মানসিকতা নাই অথবা প্রয়োজনীয় মনোবল নাই ।
    প্রচলিত এসব ধারনার বিপরীতে, আমি বলতে চেয়েছি, ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তা লালন করলেই কেবলমাত্র এসব জনগনের কাছে বলা যায়, তখনই প্রতিশ্রুতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসে যায় । সুশাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তাটা যতো বেশীভাবে লালন করা হবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে, স্বতঃস্ফুর্তভাবে ততো বেশী সাবলীলভাবে প্রতিশ্রুতিগুলো মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যাবে ।
    এভাবে কেউ চেষ্টা করলে বিজয় পেতে তার সময় লাগবেনা বলে মনে করেই লিখাটা লিখা হয়েছে । আরো এটা মনে করে যে, এ-ধরনের লোকের সংখ্যা আমাদের দেশে যত বেশী হবে, দেশ ততো দ্রুত এগিয়ে যাবে ।
    আমার ই-মেইল নম্বর-azim75107@gmail.com, ধন্যবাদ ।

  • প্রহেলিকা

    সালাম রইল শ্রদ্ধেয় আজিম ভাইয়া। আশা করি ভালো আছেন। আমি কিন্তু একটি অপদার্থ সেটা সবাই মোটামোটি জানে ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ক পোষ্টগুলোকে একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আপনার লিখাটি যেদিন দিয়েছিলেন সেদিনই আমি পড়েছি কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ব্লগে মনোনিবেশ করতে পারছিলাম না। যাইহোক এখন আমার কথা হচ্ছে যে আপনি বললেন
    ***সুশাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তাটা যতো বেশীভাবে লালন করা হবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে, স্বতঃস্ফুর্তভাবে ততো বেশী সাবলীলভাবে প্রতিশ্রুতিগুলো মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যাবে ।***

    আসলে আমি আপনি এগুলো ঠিকই বুঝি কিন্তু সে কি বুঝে এগুলো যার তরে বাক্যটি বলেছেন ???আমার কি মনে হয় জানেন একজন যখন নির্বাচনের সম্মুখীন হয় তখন তার ভক্তদের আকুলতা সত্যি তিনি নিজের করে দেখেন অনেক সময় আর তারই প্রতিফলনে একটি মঞ্চে তার প্রতিশ্রুতিতে সে নির্বাচনে জয়লাভের দরজাটি উন্মোচিত হয়ে থাকে। যখন সে নির্বাচনে জয়লাভ করে তখন কিন্তু তাকেও কারো না কারো অধীনে কাজ করতে হয় কারো না কারো দিক নির্দেশনা মোতাবেক চলতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় সে তার প্রতিশ্রুতি মত কাজ করতে গিয়ে তার চেয়ারের খুটিগুলো নড়তে থাকে আর পিছনে তো শত্রু থাকেই। একটা সময় সে বাধ্য হয়ে পরে তার নৈতিকতা থেকে দূরে সরে আসতে তখন সে নিজেও ভুলে যায় তার ভক্ত দের আকুতিগুলো। যাই হোক আমি একটু কম বুঝি আসলে এই ব্যাপারগুলো তবে আপনার লিখতে আশান্বিত হই ইচ্ছে করে স্বপ্ন দেখতে।

    একটি মন্তব্যের প্রতুত্তরে আপনি বলেছেন:
    ***অবাস্তব বিষয়গুলো আমরা মনের গহীনে গেঁথে নিতে চাই, যাতে বাস্তবে এসবের প্রতিফলন ঘটানো যায় ।***

    আপানর এই কথাটি নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি আসলে কিন্তু কোনো কূল কিনারা পেলাম না। আর তাই আপনাকে একটা ছোট গল্প বলে যাই, খুব সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব আশা করি বুঝে নিবেন :

    স্ত্রী,দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে জনাব রহিমের সংসার। দুই মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে অনেকগুলো টাকা খরচ হয়ে যায় তার। যাই হোক কিছু টাকা ঋণ করে মেয়েগুলোকে বিয়ে দেয় রহিম আর ছেলেটিকে একটি দোকানের ব্যাবস্থা করে দেয়, রহিমের আবার নিজেরও দোকান রয়েছে। বিয়ে দেওয়ার সময় ভেবেছিল ঋণ করে বিয়ে দিয়ে দিলেও ঝামেলা দূর হয়ে যাবে আর ঋণ গুলোও পরিশোধ করে ফেলতে পারবে যেহেতু ছেলেও দোকান করে আর তার নিজেরও দোকান রয়েছে। সবার ছোট মেয়েটিকে বিয়ে দেবার কিছুদিন পর রহিম ব্রেইন স্ট্রোক করে যার কারণে ঋণ-এর টাকা আর পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। সব কিছু চলে আসে ছেলেটির ঘাড়ে। ওই দিকে সুদের উপর নেওয়া ঋণ গুলো বেড়েই চলছে দিন দিন। এখন ছেলেটিকে তার পরিবার চালাতে হয়, বাবার চিকিত্সা করাতে হয় সাথে ঋণ-এর বোঝা তো রয়েই গেল।

    এই ছিল একটি পরিবারের ছোট গল্প।
    এবার আপনার কাছে আমার একটি প্রশ্ন রয়েছে। সেই ছেলেটি এখন এই অবস্থায় থেকে কি পারবে কোনো একটি অবাস্তব জিনিস অন্তরে ধারণ করতে ??? তার এখন কি অবাস্তবতা অন্তরে ধারণ করা উচিত নাকি বাস্তবতার দুর্দশা কাটিয়ে উঠা উচিত??? সে যদি শূন্য হত মানে কোনো ঋণ নেই,পরিবার মোটামোটি চলছে তখন সে সমৃদ্ধির কথা ভাবতে পারত যেটা আমার মনে হয়। কিন্তু সে এখন মাইনাস পয়েন্টে রয়েছে। তাকে আপাতত ভাবতে হবে সে কিভাবে আগে ঋণ পরিশোধ করবে কারণ যতদিন তার ঋণ শেষ না হবে ততদিন সে কোনো অবাস্তব কিছু চিন্তা করতে পারবে না।

    উপরে যাই বললাম সেটা আমার মত শ্রদ্ধেয় আজিম ভাইয়া। আপনার মত জানালে খুশি হব।

  • আজিম

    জনাব প্রহেলিকা
    আপনার প্রতি সালাম রইলো । নির্বাচিত হওয়ার পরে যে বাধা-বিপত্তিগুলো নির্বাচিতর সামনে আসে, সেগুলি উত্তীর্ন হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়না । এটা আপনি বলতে চেয়েছেন এবং এটা ৯০%-এর উপরে সত্য হলেও কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটা সত্য হতে না-ও পারে । কারন সকলের মানসিক দৃঢ়তা একই নয় । হা, চেয়ারের খুটি নড়তে থাকাটা খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু মৃত্যুকে যে ভয় করেনা, সে-ই শুধু এসবকে জয় করতে পারে বলে আমার মনে হয় । এসমস্ত মানুষের দেখা পাওয়া যায়না, কারন দেশে এখনও ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের যুদ্ধ শুরু হয়নাই । দেশে চলছে শুধু অন্যায়ের সাথে অন্যায়ের দ্বন্দ । ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের যুদ্ধ শুরুর পর চলবে দীর্ঘদিন ধরে, তারপর ‘নির্বাচিতা একজন’-র মতো মানুষগুলোর দেখা মিলতে থাকবে , যারা কোন আপোষ করবেননা । কারন বর্তমানের প্রেক্ষিত তখন বদলে যাবে । ক্ষুদ্রজ্ঞানে আমি এটুকুই বুঝি ।
    ছোট গল্পটা বললেন, গল্পে ছেলেটার অবাস্তবতা অন্তরে ধারন করা উচিত কি-না ! আসলে জনাব প্রহেলিকা, এরকম ক্ষেত্রে কেউ, সে যতো বড় মানুষই হোক না কেন, তার পক্ষে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক বাস্তব চিন্তাও লালন করা সম্ভব নয়, অবাস্তব তো দুরের কথা । আর আমার এই গল্পটাকে অনেকে অবাস্তব বলেছেন, আপনি সরাসরি বলেননি । তবে হয়তো আপনিও মনে মনে তা-ই মনে করেন ।
    এদেশে সুশাসনের জন্য লড়াইটা যখন শুরু হয়ে যাবে, মানে ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের সংগ্রামটা যখন শুরু হয়ে যাবে, তখন এ-ধরনের লিখা অবাস্তব বলে আর মনে হবেনা ।
    আমারও জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত নয়, হয়তো জ্ঞানের কমতির জন্য কিছু কথা বলে ফেলেছি । তবে জীবন বাজি রেখে কেউ যদি কিছু করতে চায়, তবে তাতে সফলতা অনিবার্য না হলেও জণসমর্থনের কারনে অনেকদুর এগিয়ে যাওয়া যায় । কমপক্ষে এ-কাজের বিরাট একটা প্রভাব সমাজে-রাষ্ট্রে থেকে যায় ।

  • প্রহেলিকা

    Prothomei khoma ceye nicchi sroddheyo Azim vaiya ami banglate montobbo korte parlam na bole. Na ami apnar golpotake ‘obastob’ ota asole ingit korini. Dukkhito asole ami amar montobbe akta line bad pore gelo dekhei asole apni emonta vabchen. Ami akta line asole likhe jete parini sorasori vabe jodi likhtam tahole hoyto apni vul bojhten na amake. Jaihok ami golpota bolar pichone jei main uddesshota chilo sei line ty ami likhini. Asha kori rate ami bolbo inshallah.
    Tobe ha apnar puro likhati kintu amar onek valo legeche karon protiti line ami ashannito hoyechi jeta bortomane asolei dorkar amader jonno. Ami apnar gurottopurno poshte giye sudhu shuveccha janiye fire aste parbo na tahole seta amari loss hobe. Torko korte cai jate kichu sikhte pari emonki torke here jete cai tarporo torko korte cai vaiya. Asha kori amra parbo. Dik nirdeshona dorkar jeta amra pacchi na r apni to amar ceye valo janen je dik nirdeshona karir ovabe onkei juddhe here jai karon juddho joyer mul jinish holo sahos r sringkhola. Dik nirdeshona chara sringkhola bojay rakha jay na. Tobe apni likhe jan asha kori ekdin tar shufol obossoi amra dekhte pabo vaiya.
    Salam janben.

  • প্রহেলিকা

    সালাম জানবেন শ্রদ্ধেয়। সময় করে আমার আঁধারের প্রহেলিকা কবিতাটি ঘুরে আসবেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য