চিঠি-২য় পৃষ্ঠা

নীরা সাদীয়া ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ১১:৪২:৪৫অপরাহ্ন চিঠি ২১ মন্তব্য

“আামাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে?
কিছুই কি নেই বাকি?”

নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি, আবার নিজেই উত্তর দেই,

“রাতের সকল তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে।”

এভাবে তোমার সাথে রোজ কথা বলি একাকী। জানো আকাশ, আজকাল আমার একা থাকতেই ভালো লাগে। একা থাকলেই কেবল কল্পনাতে তোমাকে পাই, নিজের  করে। কেউ কাছে এলে, কথা বললেই তুমি যেন দূরে সরে সরে যাও, তাই আমি ভীষণ রেগে যাই। এসব কারণে আজকাল আর কেউ আমার ধারে পাশে আসে না, আমাকে সবাই চেনে বদ মেজাজী হিসেবে। আমার তাতে কিছু যায় আসে না, আমিতো তোমাতেই ডুবে রই, বুঁদ হয়ে রই তোমার নীলে। সত্যি বলতে কি, তোমার দেয়া অবহেলার বিষে আমি নীল হয়ে রই সারাবেলা, সারা দুপুর…

মাঝে মাঝে খুব মন চায়, তোমাকে জিজ্ঞেস করি “কেন আমার চোখের সামনে আমার আকাশে অন্য মেঘের ভেলা ভাসাতে? তুমিতো জানতে আমাকে। এতটুকু বোঝার মত বোধ কিংবা বিবেক কি তোমার ছিলো না?” হয়ত কোনদিনও জিজ্ঞেস করা হবে না সে কথা তোমাকে। আবার হলে হতেও পারে৷ এ প্রশ্নের উত্তর না নিয়ে পৃথিবী ত্যাগ করলে এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে একটা বিরাট বড় প্রশ্নবোধক রয়েই যাবে আমার।

মাঝে মাঝে মনে হয়, “ইশ আমার যদি ক্যান্সার হতো!” তবে কি তুমি আমাকে দেখতে আসতে? একান্তে কিছুটা সময় পেতাম তোমাকে, তাহলে ঐ প্রশ্নটা অবশ্যই জিজ্ঞেস করতাম। কিংবা ধরো রবি ঠাকুরের “হঠাৎ দেখা” র মতো আমাদের দেখা হয়ে গেলো কোন এক স্টেশনে, একই কামরায়। তা বোধহয় হয় না… না? কেন যে হয় না…!

এরপর আমার জীবনে কতশত ক্ষনিক ভ্রমর এসেছে! সত্যি বলতে এক মুহূর্তের জন্য তাদেরকে আমার ভালোও লেগেছে। পরমুহূর্তেই আবার তাদের ভুলেও গেছি। তেমাতেই যে আমি আটকে গেছি, তাই আর অন্য কোথাও স্থির হতে পারিনি। সবাইকে বিদেয় দিয়েছি। কতবার সিদ্ধান্ত পাল্টেছি, আবার তোমাতেই ফিরে ফিরে এসেছি।

একদিন প্রকৃতি তার অমোঘ নিয়মে তোমার ওপর প্রতিশোধ নিলো, তোমার মেঘ তোমারই চোখের সামনে, কিন্তু তা নিবন্ধিত অন্য এক আকাশে! সেদিন হয়ত তুমি কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলে কেমন লাগে। আমি কখনও চাইনি তোমার মেঘ তোমার বিশালতা ছেড়ে অন্য আকাশে ভাসুক৷ কিন্তু সব তো আমার হাতে নেই। তাই কি আর করা?

তারপর একদিন শুভ্র নরম কাশফুলের মত তুমি এলে। ততদিনে আমি তোমাকে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছেটা ত্যাগ করেছি। আমার ভেতরের ইচ্ছেগুলো শুকিয়ে কাঠ। অনেকদিন জল না ঢাললে চারাগাছ যেমন মরে যায়, আমার ইচ্ছেরাও তেমনি করে মরে গেলো। “ভালোবাসলেই সর্বদা তাকে পেতে হয় না।” এই মতবাদে বিশ্বাস করে নিয়েছি। তখন তুমি এলে…কিন্তু আমার ভাগ্যটা এবারও বাধ সাঁধলো।কোন এক অখন্ডনীয় ভাগ্যের ইশারায় নিজে থেকেই দূরে সরে যেতে হলো আমাকে…এরচেয়ে কঠিন আর কি হতে পারে?

মানুষের চেয়ে পশু পাখিকে আমি বেশি পছন্দ করি, কেন জানো? কারন তাদের চোখে যে ভালোবাসাটা তা মেকি নয়। একটু সত্যিকারের ভালোবাসা পাবার লোভে আমি তাদেরকে সঙ্গ দেই, যত্ন করি। তোমার থেকে তা নাইবা পেলাম। হারানোর ভয়ও আমার নেই।

আজকাল মানুষ ফেসবুকে কত মেকী জন্মদিন পালন করে। অনেকেরটা তো আসল তারিখই না। তবুও শুভেচ্ছা জানানোর হিড়িক পড়ে যায়। তোমারও একই অবস্থা। তবে আমি কিন্তু ভুলিনি তোমার সত্যিকারের তারিখটা! জীবনে একবারই সুযোগ হয়েছিল তোমাকে শুভেচ্ছা জানানোর। মানুষ শুভেচ্ছা পেলে খুশি হয়, আমি তোমাকে জানাতে পেরেই মহাখুশি। তোমার কাছ থেকে এমনকি কারো কাছ থেকেই পাবার আশা রাখিনা! যা তোমার কাছে পাইনি, তা অন্য কারো কাছে পেতে মন চায় নাহ্।

একবার মনে পড়ে, কী দায়সারা একটা আচরণ করেছিলে আমার সাথে? তোমার মেঘের সেই তারিখে কতশত জাঁকজমক! আর আমার বেলায়? অন্য কাওকে দিয়ে কি একটা কিনিয়ে,তাকে দিয়ে লিখিয়ে তাকে দিয়েই তোমার মেঘের হাতে পাঠালে আমাকে পৌঁছে দেবার জন্য! সেদিন আমার ভাঙা পাঁজরের হারগুলো, যারা সদ্য জোরা নিতে চাইছিলো, তারা আবারও সশব্দে ভেঙে গেলো! নাইবা পেলাম ভালোবাসা, তাই বলে এতটুকু সম্মান কি আমি পেতে পারতাম না? এতটাই অবহেলা? তাই তুমি জেনো,

★জেনে রেখো

যখন দেখবে শিশিরে শিশিরে ঘাসগুলো সব ভিজে
জানবে আমি ছিলাম সেথা
একটু আগে মিশে।

যখন দেখবে আকাশটা খুব
মায়াবী নীলাভ সেজে
জানবে আমি ছুঁয়েছিলাম
আকাশটাকে নিজে।

দেখবে যখন ঢেউগুলো সব
আছড়ে পড়ে ঘাটে
মনে করো একটু আগেই
ছিলাম আমি তটে।

কিন্তু এখন নেই আমি
নেইতো কোন বাটে,
নেইতো আমি, নেইতো ছোঁয়া
ফিরবো না ঐ হাটে।

আমি ফিরিনি বলে তোমার জীবন থেমে নেই, তোমার বুকে আজ নতুন মেঘ, নতুন মেঘের ছোঁয়ায় এসেছে নতুন একটা প্রাণ। তাই অবশেষে তোমাকে এটাই বলতে চাই…

“আমি নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিয়েছি।”
“ভালো আছি, ভালো থেকো”
সোনেলার ঠিকানায় চিঠি লিখো,
যদি কখনো মনে পড়ে।

২২৮জন ১০১জন
3 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য