এক মুঠো ভালোবাসা (১৪তম পর্ব)

ইঞ্জা ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার, ০৪:১৬:৫৩অপরাহ্ন গল্প ৩১ মন্তব্য

 

কি ব্যাপার চোখে পানি কেন, দেখো রওশন আমার বাল্যবন্ধুই ছিলো, ওকে হারিয়ে আমিও দুঃখি, কিন্তু কই আমি তো কাঁদছিনা, বলেই অনিক চোখ লুকালো।
না না আমি কাঁদছিনা, আপনার জন্য আরেক পেগ বানাবো, পারমিশনের অপেক্ষায় না থেকে দুজনের গ্লাসে ড্রাই জিন ঢেলে আইস দিলো ছায়া।
আচ্ছা তুমি আমাকে আপনি আপনি করো কেন, তুমি বলতে তোমার অসুবিধা হয়?
ছায়া তাকালো অনিকের দিকে, মিষ্টি হেসে বললো, না অসুবিধা নাই, আসলে সবসময় আপনি বলি তো।
অনিক হাত তুলে থামিয়ে দিয়ে বললো, তুমি আমাকে এতো সম্মান দিওনা, এতো সম্মান আমি হজম করতে পারিনা।
ছায়া খিলখিল করে হেসে দিলো আর বললো, আচ্ছা দেখা যাবে, আমি এখন ঘুমুতে যাবো, সকালে কথা হবে, বলেই বাকিটুকু গলায় ঢেলে দিয়ে নিজ রুমের দিকে এগুতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে ফিরে বললো, অনিক আপনি ওর সাথে এমন কেন করলেন, বলেই ধীর পায়ে ফিরে গেলো নিজ রুমে?
অনিক এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকলো ছায়ার গমন পথে, কিছুক্ষণ পর বড় একটা নিশ্বাস ফেলে নিজেই মনে মনে আওড়ালো, তুমি কি বুঝোনি, রওশন তো বুঝে ছিলো।
অনিক উঠে গেলো বোতলটা নিয়ে, টলতে টলতে এগিয়ে গেলো নিজ রুমে, চোখে বয়ে যাচ্ছে অশ্রুধারা, এক হাত দিয়ে চোখ মুছতে লাগলো, বেডের উপর বসে পড়ে বিড়বিড় করে বললো, আমি থাকলে কি আর তোমাদের বিয়ে হতো, আমি অনিক অত ভালো ছেলে ছিলাম কি?

ফোনের শব্দে অনিকের ঘুম ভেঙ্গে গেলে হাত বাড়িয়ে ফোন রিসিভ করে হ্যালো বললো।
অপর পাশ থেকে অনিকের বাবা বললেন, কিরে তুই এখনো ঘুম?
বাবা হাঁ ঘুম ছিলাম, বলেই ওয়াল ক্লকের দিকে তাকিয়ে অবাক হলো, সকাল নয়টা বাজে।
বাবা এতো সকালে, কি ব্যাপার?
ব্যাপার কিছুনা, তোকে সারাদিন কল করতে পারিনি তাই ভাবলাম তোকে জানাই, আমাদের ফ্লাইট ডিটেইলস তোকে হোয়াট’স অ্যাপে দিয়েছি, দেখেছিস?
কই কখন দিয়েছো, দেখিনি তো?
এই প্রায় ছয় ঘন্টা আগে, আচ্ছা দেখে নিস, তোর মাও আসবে বলে বাহানা ধরেছে, দেখলাম ওর ভিসাও আছে, তাই দুজনেই আসছি।
খুব ভালো করেছো, কোন ফ্লাইটে আসছো বাবা?
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ওরা এক রাত হংকং স্টে করাবে।
কি বলো, কয় তারিখ?
আগামী মাসের ছয় তারিখ, আমি ডিটেইলস দিয়েছি তুই দেখিস, এখন রাখছি।
ওকে বাবা, আল্লাহ্ হাফেজ।
ফোন ডিসকানেক্ট করে হোয়াট’স অ্যাপে ফ্লাইট ডিটেলস দেখে সেইম মেসেজ আফরিনকে ফরওয়ার্ড করে নিজেও কল দিলো।
অপর পাশে দুই রিং হতেই আফরিন রিসিভ করে বললো, গুড মর্নিং মি. অনিক।
গুড মর্নিং আফরিন, তোমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছি ডিটেইলস দিয়ে, দেখোতো আমার রিটার্ন ফ্লাইট কি একি ফ্লাইটে করা যায় কিনা?
ওকে আমি দেখছি, আরেকটি বিষয় হলো মামা লুসি আপনার সাথে এইবার যেতে পারছেননা, উনার শরীরটা নাকি ভালো যাচ্ছেনা।
তাই, ওকে থাক উনার তাহলে যাওয়ার দরকার নেই, তুমি উনার বদলে চলো?
আমি যাবো?
কেন অসুবিধা আছে?
না না, আমি টিকেটের ব্যবস্থা করছি।
ওকে তাহলে করো, আমি আসতে একটু দেরি হবে।
ওকে অনিক স্যার।

অনিক ফোন রেখে বাথরুমে গেলো ফ্রেস হতে, অর প্রতিদিনের অভ্যাস ও সময় নিয়ে শাওয়ার নিলো, এরপর বাথরুম থেকে বের হয়ে ওর বিজনেস স্যুট পড়ে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো।
অনিককে আসতে দেখে ছায়া বললো, আপনার ঘুম ভেঙ্গেছে, আচ্ছা ড্রয়িংরুমে বসুন বাবার সাথে, ব্রেকফাস্ট কিছুক্ষণের মধ্যে রেডি হয়ে যাবে।
অনিক ছায়া কাছে এসে বললো, আনকেল ড্রয়িংরুমে, ওখানে গ্লাস, বাদাম এইসব পড়ে ছিলো।
হুম আমি সরিয়ে নিয়েছি আগেই, যান বসুন।
অনিক এগিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমে গেলো।
সালাম আনকেল, আজ কেমন লাগছে আপনার?
রওশনের বাবা টিভি দেখছিলেন, ফিরে তাকিয়ে হেসে বললেন, আয় বাপ আয়, আজ বেশ লাগছে।
আনকেল সকালে খালি পেটে মেডিসিন ছিলো।
হাঁ আমার মা খাইয়ে দিয়েছে।
অনিক উনার পাশে বসে পড়লো, এর মধ্যে ছায়া ব্রেকফাস্ট নিয়ে ড্রয়িংরুমের টেবিলে রাখা শুরু করলো, সাথে এও বললো, আজ বাবা যখন আছে তাই ভাবলাম সবাই এইখানেই বসে খায়।
অসুবিধা নেই, ভালো করেছো, অনিক বললো।
ছায়া আজ লুচি, মুগ ডাল দিয়ে কলিজি আর মিক্সড ভেজিটেবল করেছে, ছায়া সবার প্লেটে বেড়ে দিয়ে লুচি এগিয়ে দিলো।
বাহ এতো দেখছি শাহী খানা, লুচি দিয়ে ডাল কলিজি নিয়ে মুখে দিলেন রওশনের বাবা।
অনিক ঝটপট কিছু মুখে দিয়ে বললো, আনকেল আজ অফিসে দেরি হয়ে গেছে আমি উঠবো।
কি বলিস তুই তো নাস্তায় করলিনা?
না আনকেল আজ উঠি দরকার হলে অফিসে কিছু খেয়ে নেবো, আর হাঁ আনকেল, বাবা মা আসবেন আগামী সাত তারিখ, আশা করছি আপনার সময়টা ভালোই কাটবে উনাদের সাথে।
খুব খুশি হলাম বাবা, সত্যিই উনাদের এতোদিন পরে দেখবো শুনে ভালোই লাগছে, তা আজ কত তারিখ?
আজ দুই তারিখ, উনারা ফ্লাইটে উঠবেন ছয় তারিখ।
বেশ বেশ।
তাহলে আনকেল আসি এখন, সন্ধ্যায় দেখা হবে, ছায়া আসছি।
ছায়া অনিকের পিছু পিছু দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এলো।

ছায়া অনিককে বিদায় দিয়ে ড্রয়িংরুমে ফিরে এসে নিজের প্লেট টেনে নিয়ে খেতে লাগলো।
হাঁরে মা, তোর ডাল কলিজিটা বেশ হয়েছে, রওশনের বাবা বললেন।
বাবা তোমার পছন্দের বলে আজ রান্না করলাম।
অনিক ছেলেটা বেশ ভালো আর ইন্টেলিজেন্ট, ওর মনটা বেশ ভালো, যদিও এক সময় বেশ রগচটা ছিলো।
কেমন বাবা?
আরেহ জানিসনা, ও তো ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতি করতো, রওশন বলতো।
তাই বাবা?
হাঁ এই রাজনীতি করতে গিয়ে ওর অনেক শত্রু গড়ে উঠেছিলো, ও সবগুলোকে পিটিয়ে শায়েস্তা করতো।
কি বলো বাবা, আশ্চর্য।
হুম একদিন রাতে আমার বাসায় ছিলো ও, তখন ওকে আমি এইসব করতে না করলাম, তখন ও প্রতিজ্ঞা করলো যে আর কখনো করবেনা।
এরপর কি ছেড়ে দিয়েছিলো?
রওশন বলেছিলো ও আর কখনো ঝামেলাতে ঝরায়নি।
বাহ!
বাবা উনি না থাকলে আজ তোমাকে আমি ফিরে পেতামনা।
ওহ আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, আমার ব্রিফকেসটা নিয়ে আয় তো।
ছায়া উঠে গিয়ে নিজের রুম থেকে ব্রিফকেস নিয়ে এসে দিলে উনি লক খুলে উনার ইন্টারন্যাসনাল ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বললেন, আসে পাশে ভালো কোন ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা গুলো নিয়ে আয়, তা তুই কবে ভর্তি হবি মা?
বাবা, অনিক হয়ত হংকং যাবে তখন ভর্তি হবো, কিন্তু বাবা কোন লাভ তো হবেনা?
রওশনের বাবা কিছুক্ষণ ছায়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন এরপর বললেন, কে বলেছে লাভ হবেনা, লাভ হওয়ার জন্যই তো তোকে এইখানে এনেছি।
ছায়া চোখ মুছলো।

……….. চলবে।
ছবিঃ গুগল।

২৮৫জন ৯৫জন
71 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য