আমাদের একদিন

রোকসানা খন্দকার রুকু ২০ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ০৮:১৮:১৩অপরাহ্ন ছোটগল্প ২০ মন্তব্য

 

– (মেয়ে) এই নাও সাতসকালে তোমার  জন্য কুড়িয়ে নিয়ে এলাম। সাদা ফুল নাম জানিনা । লাল গোলাপ নয় কারন লাল মেয়েদের রঙ।

– সুন্দর কিন্তু আমার যদি লাল গোলাপই চাই তখন কি হবে? আর এই অসাধারণ ফুলের জন্য কি করতে পারি!

– কিছু হবে না। অসাধারণ ফুলের জন্য আজকের দিনের জন্য চা-কফি, রান্না সব তুমি করে ফেল। রাতের খাবার বাইরে, আমার পক্ষ থেকে ট্রিট।

– আমি তো রাঁধতে পারি না। তুমি খেতে পারবে?

– হোক যা হবে তাই চলবে। পৃথিবীর সমস্ত ভালো সেফ কিন্তু পুরুষ।

-ঠিক আছে! যাই সকালের চা বানিয়ে আনি।

বিকট চিৎকার-ও বাবা গো,মা গো পুড়ে গেল। বাঁচাও!

– দেখি দেখি! কি অবস্থা আঙ্গুলটা পুড়ে ফেললে। দাড়াও মুখে দিয়ে দিই ভালো হয়ে যাবে। রান্নায় পুড়ে যাওয়া, তেলের ছিটা এসবের প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট হল মুখের থুথু। তাই মেয়েরা পুড়ে যায় আর ভুলে যায়। আমাকে ওভাবে দেখার কিছু নেই ভালো হবে।

– না দেখছি তোমরা কত যত্নশীল।

– হা হা হা হা। এতদিনে তাহলে বোধদয় হল! ওকে  সরো! পোড়া লাভ,পোড়া ধন্যবাদ শুধু তোমার জন্য!

****

– (ছেলে) তুমি ভীষন বদলে গেছ?

– হুম ঠিকই বলেছ? বদলাতে হয়।

– প্রেমে পড়লে নাকি?

– তার থেকেও বেশি কিছু। তবে কার সেটা বলা যাবেনা।

– কি বলছো তুমি এসব, বুঝতে পারছ কি?

– সম্বিত ফিরে পেয়ে, এই তোমাকে কিছু বললাম। ওই ল্যাপটপ, বই দুটোই নিয়ে বসেছি  তো তাই মনোযোগ একটু সেদিকেই ছিল। সরি কিছু মনে করনা, কি নেবে চা না কফি।

বিকেলের কফি বানাতে বানাতে মুচকি হাসছি। সত্যিই কি বদলে গেছি না ভালো আছি।আমার মনে হয় ভালো আছি। এই মানুষটাকে আমি আমার সব দিয়েই ভালোবাসি, চাই, অপেক্ষা করি। যখন বাইরে থাকে আমি অপেক্ষায় থাকি। বারবার বলি, কখন আসবে ভালো লাগছে না তারাতারি আস। এখন কম বলি কারন আমার আমিতে মগ্ন হয়েছি, আমিকে ভালোবাসতে শিখেছি। এজন্যই কষ্ট একদমই নেই বললেই চলে। কারও প্রতি খুব বেশি নির্ভরশীলতা মানুষকে দূর্বল করে তোলে। এতে ভালোথাকা অনেকটা হারিয়ে যায়।

***

– (মেয়ে) কি হল খাও! এদের রান্না তো ভালো।খুশমুশ করছ কেন? কিছু হয়েছে?

– আমি কোনদিন বলিনি আজ বলতে চাই। হঠাৎ হাঁটু মুরে ফুল হাতে তুমি মহান, মহিয়সী, অফুরান। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্ব সব তোমার কারন তুমি জন্মদাত্রী।

– হুম বুঝলাম! আমার হাসি পাচ্ছে সাথে লজ্জাও কারন মেয়েদের প্রসংশা শুনে অভ্যাস নেই। এভাবে পায়ের কাছে হাঁটু মুরে থেকনা। তোমার স্বগোত্রীয় দেখলে নারীর দাস বলবে। উঠে এসো তোমার কপালে চুমু এঁকে দিই।

– বললে বলুক। আমি এমনই থাকতে চাই দাস হয়ে!

*****

-( ছেলে) ঘুমাবে না।

– হুম তুমি আগে ঘুমাও। নাক ডাকা মেশিনটা চালু না হলে ভালো লাগে না যে!

– আজ ঘুমাব না!

– বিপদজনক লক্ষণ! আমি একটু পড়ব।

– সে রকম কিছু না। আমার নাক ডাকায় তোমার ঘুম হয়না জেগে থাক। তাই আজ তুমি ঘুমুবে  আমি জাগব।

– আজ নির্ঘাত মাথা খারাপ হয়েছে তোমার। এতবছর পরে সব উল্টে যাবে তাই হয়!

– না বদলে যেতেই হবে। নিজেকে বদলালেই তো পৃথিবী বদলে যাবে।

এস তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিই।

– আমি কিন্তু বলিনি। খুব বুঝতে পারছি মুল্যবান হয়ে উঠছি না হয় পরে কথা শোনাবে।

– মূল্যবান তো বটেই! এই তোমার একটা পাকা চুলও নেই। ব্যাপার কি?

– আর পাকবেনা?

– কেন?

– ও তুমি বুঝবে না ঘুমাও!!!

 

১৫৭জন ৯জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য