মূল লেখায় যান

পল্লীবালার মন

নিবিড় রৌদ্রকবিতা৪টি মন্তব্য

হইতায় যদি তরুর ছায়া ভাটির কোনো গায় বাইস্যা মাসে ভাইসা যাইতাম পিরিতের মায়ায়, অথৈ কলো-কলো জলে চরণের আশ্রয়ে পলির ঢেউয়ে নূপুর হইয়া থাকিতাম জড়ায়ে; কোমরেরও বিছা হইতাম, হইতাম গলার হার আর জনমে হিজল হইয়ো— কালনী গাঙের পাড়। ঢোল কলমির বেড়া বন্ধু— পানায় ছাওয়া ছানি জোয়ারে ভাটাতে দুলতো কামনার ঘরখানি, নাও বান্ধিবার শিকড় যেমন হাওড়ে— আন্ধারে… [বিস্তারিত]

হিসাবের খাতা

নিবিড় রৌদ্রকবিতা১টি মন্তব্য

আত্মায় কোন আত্মীয় নেই অনাত্মীয়ে আজ পৃথিবী ঠাসা, পিরিতি যদিও মাছরাঙা নয় তবুও বিরল নীল ভালবাসা। সবুজ টিয়ার ঝাঁকে উড়ে এসে বসে না শৈশব কামরাঙা গাছে, মাটির কলসি তুলসী তলায় বিবর্ণ হয়ে ভেঙ্গে পড়ে আছে। ভেবেছি পাবই একটি বাবুই বুড়ো তালডালে বুনছে বাসা, এপাশে-ওপাশে চক্ষু বুলিয়ে দেখি সভ্যতার নগ্ন তামাশা। বিরান দুপুরে ঘুঘুর বিরহে যে-কালে… [বিস্তারিত]

ভাঙ্গা নদীর নাঙ্গা রূপ

নিবিড় রৌদ্রসাহিত্য২টি মন্তব্য

হুঁকার আগুন প্রায় নিভিয়া আসিতেছে। শুক্রবারের সন্ধ্যায় শুক্র গ্রহটির এই নিম্নগামী দশা দর্শন করিয়া- গভীরতা কিছুই না বুঝিয়া সন্তোষচরের শ্রীমান শুক্কুর চন্দ্র দাস স্থবির হস্তে তাহার ডিঙ্গি নৌকার চোদ্দতালির পালখানি তুলিয়া পুবের হাওয়ার তোড়ে হাওড়ের পশ্চিমের পানে নৌকাখানি ছাড়িয়া দিয়া খানিকটা তামুক টানিয়া লইলো। হুঁকার আগুন টিক্কা-তামাকসমেত সর্ব ও শেষ শক্তি খরচ করিয়া আরেকবার ফরফরাইয়া… [বিস্তারিত]

শৈশবের আখড়া [পর্ব: ঝরা কাঞ্চন]

নিবিড় রৌদ্রস্মৃতিকথা১টি মন্তব্য

ঠাকুর দালানের পেছনের জায়গাটা তেমন সুবিধাজনক ছিল না। চুনা-দেয়াল খসা পাতি পাথর, নাট মন্দিরের ছাদ থেকে নেমে আসা বৃষ্টিতে ক্ষয়ে গোলাকার রূপ নিয়ে ছড়িয়ে থাকা লাল কংক্রিটের ওপর মন্দিরের জানালা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফেলা দেব-দেবীর গায়ের পুরনো কাপড়ের টুকরো, ধূপকাঠির খালি প্যাকেট, প্রদীপের পোড়া সলতে ইত্যাদি পড়ে থাকতো স্যাঁতসেঁতে শেওলাতে মাখামাখি হয়ে। সেখানে একটি কলতলা… [বিস্তারিত]

বসন্তবিলাপ

নিবিড় রৌদ্রকবিতা২টি মন্তব্য

ভাল্লাগে না বিষ-নগরী, আটকে থাকা জ্যামে; আমারে কেউ নিয়া যাইবা কিংশুকদের ঐ গ্রামে? সিঁদুর রাঙ্গা পথের আগুন মেটো ভাষার দামে যে গ্রাম থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভালবাসার নামে। কম করেও একটা শিমুল, কাঁটার বিনিময়ে— আমারে কেউ কিনে নিবা শখের ক্রেতা হয়ে? আমারে কেউ গোষ্ঠলালের কাঞ্চন এনে দিবা? ক' বাসন্তী, পাইলে এসব চাওয়ার থাকে কী-বা? ক' আমারে… [বিস্তারিত]

জন্মটান

নিবিড় রৌদ্রকবিতা৪টি মন্তব্য

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে ভাটির পাড়া গাঁয়ে জলে ভাসা জন্ম যদি দিতো আবার মায়ে, হাঁসের শ্রীতে মাছের হৃতে কাটতো সারাবেলা ঢেউয়ের প্রীতে জমতো কত স্বভাবজাত খেলা; কলমি কলার ভেলায় চড়ে বর্ষা মোদের বাড়ি আসবে বলে ঠিক সময়ে দিতো বছর পাড়ি, নাও ঝিমানো তামুক জ্যেঠুর ডাকতো নাকে মেঘ জলের 'পরে নাওয়া-খাওয়া জলের 'পরে ত্যাগ! রোজ বিহানে… [বিস্তারিত]

স্বাধীনতা

নিবিড় রৌদ্রকবিতা২টি মন্তব্য

স্বাধীনতা, এ কি তবে শ্রীহীন শৃঙ্খলহীনতা, রাজন? স্বাধীনতার মানে কি তবে শ্রেণি-জাত বিভাজন? স্বাধীনতা কি অপারগ ফসল- অরাজক মনে মনে? স্বাধীনতার মরমী- ব্যর্থতা ক'জন বাঙালি জানে? স্বাধীনতা কি রাষ্ট্র-ক্ষমতার বেদখল সংবিধান? না কি স্বাধীনতা মুক্তি-বারতার বিকৃত অভিধান? স্বাধীনতা কি লজ্জাহীনতা, অপদেবতা ভজন? না কি স্বাধীনতা স্বাদহীনতায় নবরুচিতা সৃজন? রক্তক্ষয়ী এ লড়াই ইতিহাসে সস্তা হাসি অভিমান… [বিস্তারিত]

সুবর্ণলতা

নিবিড় রৌদ্রসাহিত্য৩টি মন্তব্য

সুবর্ণলতা, ঘুমের আবেশে অবেশেষে গতরাতে স্বপ্নে পৌঁছে গিয়েছিলাম তোমাদের গ্রামের পাশে যে গ্রামটি- সেই গ্রামে; সোনামুখী, রায়কালি নাম, না কি তুলসীগঙ্গা, নাগরনদীর তীরবর্তী গ্রাম আমার এইমুহূর্তে ঠিক মনে পড়ছে না তার নামটি। সেখানে মাটির ঘর একটা থেকে আরেকটা কিছুটা দূরত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে, মাঝখানে শিম আর মটরশুঁটির ছাউনিতে ঘনসবুজ ছায়া বুনো হাতির মত কান নেড়ে নেড়ে… [বিস্তারিত]

আজকে চারপাশে হায়েনাদের যে আস্ফালন ঠিক এই রক্তবীজটিই বপিত হয়েছিল একাত্তরের ১৪ই ডিসেম্বর। পরিবেশ পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সাথে পদ্ধতিটা শুধু বদলে গেছে। ১৬ ডিসেম্বরে আমরা শুধু একটা আলাদা মানচিত্র পেয়েছিলাম, দেশের অভ্যন্তর কি সেই মূলমন্ত্রে আজও স্বাধীন হতে পেরেছে? একটি স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা মানে কি মানবিক কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নে পদে পদে বাধা? স্বাধীনতা মানে কি… [বিস্তারিত]

সমস্যা

নিবিড় রৌদ্রকবিতা১৪টি মন্তব্য

বলতে পারেন সমস্যা কই, শরম লাগলে আস্তে কন ডিপ্রেশনে বাঁচতাছেন না? হতাশ? বিষাদ? খারাপ মন? বুক ধরফর? হাঁটু কাঁপে? ভাল্লাগে না সারাদিন? ঘুম আসে না? মাথা গরম? ঘাড়ে ব্যথা চিনচিন? ক্ষুধা মন্দা? পেটে ডাক? বারেবারে টয়লেটে যান? কান ফরফর? নাকে মাংশ? চোখে দেখেন দুইটা চান? দাঁতে পোকা? মাড়িতে ঘা? বাতের জ্বালা যন্ত্রণা? জয়েন্টে পেইন? স্পাইনে… [বিস্তারিত]

শরৎ-স্মৃতির কাব্য

নিবিড় রৌদ্রএকান্ত অনুভূতি, কবিতা৩টি মন্তব্য

নীল আকাশে কাল-ধোয়াটে ছায়া কম্পিত কাশফুলেদের শাদাবনে রৌদ্র স্তম্ভিত নগরে সে কাশবন কোথায় সে ছিল ঐ গ্রামে আমি তাকে পেয়েছিলাম জন্মদিনের দামে। জন্মেছিলাম সাতাশ আশ্বিন শরতের এক ভোরে জরায়ূ ছিঁড়ে আঁতুর ঘরে মায়ের আঁচল জুড়ে সে দাবিতে বলতে পারি, শরৎ আমার দৃতা পুত্র দেহে জড়ানো মা'র ধূসর-শাড়ির কাঁথা। ঢাকায় যখন শরৎ খুঁজে তাকাই আকাশ পানে… [বিস্তারিত]

দুষ্প্রাপ্য চিঠি !

নিবিড় রৌদ্রএকান্ত অনুভূতি, কবিতা৫টি মন্তব্য

বেলা শেষে সন্ধ্যা নামে রাত্রি আসে ঘনায়ে পাখির ঘুমে জোনাকআলো কি গান যায় শুনায়ে? সে কথাতো আর ভাবিনা সেই রাত্রিও আসেনা নীরবতার কাব্য কেন... তবুও ভালবাসেনা? আমায় কি তার আগের মত আর লাগেনা ভাল? চোখের নিচে জ্বলাপ্রদীপ তাও মিলিয়ে গেল! কেমন যেন বিষাদ রেখা কেউ দিয়েছে টেনে অদ্ভুতুরে নয়ন তলে কি লেখা সে জানে? জীবন… [বিস্তারিত]

সোনার মেয়ে!

নিবিড় রৌদ্রএকান্ত অনুভূতি, কবিতা৬টি মন্তব্য

আকাশ নিলো পর্দা টেনে চাঁদ উঠিলো জেগে সোনার মেয়ে দেখবে বলে ঢেউ লাগিলো মেঘে, তারার বনে ছুটোছুটি মনের ভিতর ভয় তাই দেখে চাঁদ লুটোপুটি হাসিতে খুন হয়, হাওয়া দিলো দোলা গায়ে শীতল পরশ বুলে সোনার মেয়ে দেখার ছলে নৌকা ভিড়ে কুলে চাঁদ হাসিলো নাও ভাসিলো ফুলে হাওয়ার দোল কখন আসবে সোনার মেয়ে খোঁপায় তারার ফুল?… [বিস্তারিত]

অবাক হাসি!

নিবিড় রৌদ্রএকান্ত অনুভূতি, কবিতা৪টি মন্তব্য

এখন আর অবাক হইনা মানুষ দেখে এখন আর অবাক হইনা হৃদয় থেকে অনুভূতি যাই হোক অবাক হওয়ার কিছু নেই বরং অবাক হতে হয় অবাক হয়েছি শুনলেই! এখন অবাকে আর ভ্রুক্ষেপ করিনা আক্ষেপে শোধ নিতে মৃত্যুকেও ছাড়িনা জন্মের প্রতিশোধ নিতে মৃত্যুকে খুঁজেছি সেই জন্ম নিয়েই তো প্রথম অবাক হয়েছি! ইস্যুর নিচে যেমন করে ইস্যু চাপা পরে… [বিস্তারিত]

শৈশব…।

নিবিড় রৌদ্রএকান্ত অনুভূতি, কবিতা৮টি মন্তব্য

অত্যন্ত মনে পড়ে সেই প্রত্যন্ত দিনগুলোকে জীবন বড্ড সরল রূপকথা- প্রথা- শোলকে উড়ন্ত ঘুড়ি দূরন্ত বক তেঁতুলের ডালে পেঁচার নোলক সকালে শিশির মাড়িয়ে- উত্তরে ধানক্ষেত পেরিয়ে মাঠে- গিয়েছি কুমারের হাঁটে- জেলের ঘাটে বেড়িয়েছি এ মেলা ও মেলা গিয়েছে বেলা কেটে। সন্ধ্যায় ঘরে ফেরা পাখি আঁধারে ডাকাডাকি আমি যতটুকু পারি পা টিপে উঁকি মেরে দেখি- দেখি… [বিস্তারিত]