মূল লেখায় যান

বসন্তবিলাপ

নিবিড় রৌদ্রকবিতা২টি মন্তব্য

ভাল্লাগে না বিষ-নগরী, আটকে থাকা জ্যামে;
আমারে কেউ নিয়া যাইবা কিংশুকদের ঐ গ্রামে?
সিঁদুর রাঙ্গা পথের আগুন মেটো ভাষার দামে
যে গ্রাম থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভালবাসার নামে।
কম করেও একটা শিমুল, কাঁটার বিনিময়ে—
আমারে কেউ কিনে নিবা শখের ক্রেতা হয়ে?
আমারে কেউ গোষ্ঠলালের কাঞ্চন এনে দিবা?
ক’ বাসন্তী, পাইলে এসব চাওয়ার থাকে কী-বা?

ক’ আমারে আতার মাথায় আতপ লাগলে পরে
এতো মুকুল ঝরার পরও সাজনা কেমনে ধরে?
কেমনে উড়ে মগডালে গু-শালিক সাদাকালো?
ফাল্গুনে ক্যান নাইচা উঠে ন্যাড়া গাছের ডালও?

একটা কথা ক’ বাসন্তী, কোকিল কোন বেলাজে
আড়ালে কু-টিটকারি দেয় বিহান-দুপুর-সাঁঝে?
উতল হাওয়ায় এই বিরহ ভাবছে ঢুপি একার—
আমার বুঝি সাধ জাগে না প্রাণবন্ধুরে দেখার?
আমার বুঝি ইচ্ছা হয় না ফুটতে বাঁজা গাছে?
ক’- না, কী নাই আমার- যা ঘেঁটুফুলের আছে!
কী আছে ঐ পানিয়া মান্দার, নাগকেশরের দেহে?
বুলবুলিরা হাসতেছে ক্যান মুচকুন্দের গৃহে?

আমারে কেউ লইয়া যা-না ঝিঁঝিঁ মাঝির পাড়ায়
কুর্চি যেথায় দাওয়ার পাশে আঁচল পেতে দাঁড়ায়,
কাজল মেখে চোখের তীরে উমেদ ঢেকে মিছে
ঘোমটা টেনে নজর কাড়ে বড়াল বাড়ির পিছে;

কু্ত্তা ডাকে, টলায় ডাকে, ডাকে মেছো শেয়াল
ফান্দে পড়ে কান্ধে চড়ে নিশিরাইতের খেয়াল,
কান্দে তখন ঘরকুনো ব্যাঙ- চান্দে বাড়ায় হাত,
তাঁতির বউয়ে রান্ধে যখন জ্যোৎস্না রঙের ভাত!
উঠান জুড়ে চাইয়া থাকে সেগুন পাতার থালা
কী চাই তোগো?- জিগাইলে কয় ‘বেগুন কলির মালা’,
দোলের আবির চুলের খোঁপায় নীলের বসন গায়
ক’- তো মোরে কালের ঘোরে এসব কেহ চায়?

অভাব তাহার ঘর ছাড়ে না, ভাবের তবু জোয়ার
তারে কি মুই ছিঁড়া খামু?— আমি এমন গোঁয়ার?
গৌরবে যার স্মৃতি উজাড় সৌরভে তার ডর;
ক’ বাসন্তী, ভাল্লাগে কার কপট-অনাদর?

কেউ আমারে সঙ-রচিত চিনামাটির ভাঁজে
পিষায়ে লো মারিসনে আর দিলে বড়ো বাজে,
কাঁচের বৌরি সাজিয়ে রাখা ইটের কারু-বাসায়
ভ্রমর মরে পিলে চমকে মাধুর্য তামাশায়;
চিত্তে আমার অদেখা সেই পিতৃপুরুষ-কাল
অকাল তোড়ে ভাইসা যাওয়া গহীন বনের শাল;
নিত্য আমি সর্বানন্দ, বিত্তে পরাঙ্মুখ
আমারে তো পাগল করছে কমলা অশোক!

ও বাসন্তী, নন্দিত এই দন্ডিত বাগানে—
বাঁচতে চাই না শত আয়ুর নিস্পৃহতার ভাণে,
আমারে তুই এনে দে সই— অজর- অসন্ত
অলক্ষ্যে যে— পুড়ছে বেকার— ভরা বসন্ত।

মোট পড়েছেনঃ ১৩১৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২টি মন্তব্য

  1. কবির মনের আকুতি আমার মনের মাঝেই দেয় উকি।

    ইচ্ছে হলেই পারিনা যেতে
    ছোট্টবেলার মাঠে খেলতে
    ইচ্ছে থাকলেই হইনা পুর্ণ
    জীবন জিবিকা পথ বিষণ্ণ।

    থাকে পড়ে ভগ্ন হৃদয়
    প্রতিদিন সুর্য উঠা গায়
    যেথায় থাকে মায়ের স্নেহ
    বাবার আদর উষ্ণ ভালবাসা।

    কষ্টভরা মনটা আমার
    শহুরে থাকে অস্থির
    থাকিনা কাংখিত স্থির
    চলতে হাটতে ব্যস্ত ঠের।

    তবুও থাকি বেশ
    এইতো আবেশ
    থাকি বেশ।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।