মূল লেখায় যান

বন্যা আমার মেয়ে !

সুপায়ন বড়ুয়াকবিতা২৭টি মন্তব্য

আকাশ তুমি কাঁদছো কেনো আচল ঢাকা চোখে
তোমার চোখে কান্না দেখলে দেশটি জলে ভাসে।
বন্যা আমার আদুরে মেয়ে বাপের বাড়ি আসে
মায়ের চোখে খুশির ছলে বুকটা জলে ভাসে।

সাপ নেউলে খেলা করে বন্যা যখন আসে
ভয়ের ছোটে বুকটা আমার ভারী হয়ে আসে
মাঠ জুড়িয়ে পাকা ধানে খেলতো যখন বাতাস
মনটা আমার উজাড় করে নিতাম বড় শ্বাস।

বন্যা আমার মাঠ ডুবিয়ে পাকা ধানে ভাসে
হতাশ চোখে বুক ফেটে যায় ব্যর্থ দীর্ঘশ্বাসে।
আকাশ তুমি হাসো এবার চোখটা খুলে দেখো
সব কিছু আজ জলে ভাষে বাচিঁয়ে কিছু রেখো।

বন্যা আমার দুরন্তপনা নদী ভাঙন হাসে
ঘর বাড়ি শষ্য জমি সব জলে ভাসে।

তোমার বুকে সুয্যি মামা উঁকি দিয়ে দেখে
তাকে তুমি জায়গা দিও মেঘ সড়িয়ে রেখে।
বন্যা আমার অভিমানি যাবার সময় হলে
সবাই তাকে বিদায় দেবে সূর্যের দেখা পেলে।

বন্যা আমার বদমেজাজী রুদ্র রূপে আসে
বাপের বাড়ির আবর্জনা ধুঁয়ে দিয়ে ভাসে।
পঙ্কিলতার ভরা দিঘী ডুবিয়ে দিতে আসে
চাষ আবাদের পলি মাটি উর্বরতায় হাসে।

আকাশ তুমি শান্ত থেকো আর কান্না নয়
বন্যা আমার চলে যাবে সু্য্যি মামার ভয়।
শ্রাবন মাসের বাদলা দিনের হিসেব বুঝে লয়
বন্যা তোমার সানাই বাজে বিদায় দিতে হয়।

ছবি নেট থেকে

মোট পড়েছেনঃ ১০২২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৭টি মন্তব্য

  1. বন্যা আমার দুরন্তপনা নদী ভাঙন হাসে
    ঘর বাড়ি শষ্য জমি সব জলে ভাসে।

    আহা্!! বন্য নিয়ে কবির চোখে দুঃস্বপ্নের হতাশা,
    তাইতো বুঝি বন্যা মেয়ে এবার দেখাচ্ছে তামাশা।

    দারুণ হয়েছে দাদা। শুভকামনা থাকলো।

    1. করোনা কালে বন্যার রূপটা সর্বগ্রাসি।
      বন্যা যদি করোনা টাকে ধুয়ে মুছে নিয়ে যায় আছি।
      আপনার কাব্যিক মন্তব্যটা উপভোগ করলাম দাদা।
      শুভ কামনা।

  2. দেশের অনেক জায়গার মানুষ বন্যায় নাকাল অবস্থার শিকার হয়েছেন। যদিও বন্য তাদের কাছে পরিবারের সদস্যের মতই তবুও কস্টতো আছেই। মেঘ কেটে গিয়ে রৌদ্র আসুক এটাই প্রার্থণা।

    চমৎকার লেখা পড়লাম দাদা।

  3. দেশ আর জনমানুষের দুঃখজনক চিত্র ফুটে উঠেছে —- বন্যা আমার দুরন্তপনা নদী ভাঙন হাসে
    ঘর বাড়ি শষ্য জমি সব জলে ভাসে। খুব ভালো লেগেছে দাদা। ধন্যবাদ।