মূল লেখায় যান

ধর্ষিতা পাহাড়ি কন্যা ও বাংলাদেশ !

সুপায়ন বড়ুয়াকবিতা২৩টি মন্তব্য

 

ও পাহাড়ী কন্যা আমার
তোমাকে মানায় খাঁচা বাঁধা মাথায়
বুকে বেঁধে শিশু চা বাগানের কলির উষ্ণ ছোয়ায়
তোমাকে মানায় উদার গণতন্ত্রের বাংলার টেলিভিশনের পর্দায়।
নৃত্যরত অবস্থায় বাংলার মিশ্র সংস্কৃতির উদার ভূমিতে
জাতীয় অনুষ্ঠান বিদেশীদের বাহবা কুড়াতে।
উদার গনতন্ত্রের মানবিক বাংলাদেশ বলে।
তোমাদের জন্য আসে ডোনেশন, উন্নয়নের চাকা হয় সচল।

তোমার উপর যখন বর্বতার আচঁর পড়ে
বাংলাদেশ হয় ক্ষত বিক্ষত, বিশ্ব বিবেক হয় শঙ্কিত।
যারা পাশবিক উন্মত্ততায় মাতে আমার পাহাড়ী কন্যার গায়
শকুনের লোলূপ দৃষ্টি মেলে উদোম নৃত্য করে।
হিংস্র নেকড়ের থাবায় ক্ষত বিক্ষত হয় আমার পবিত্র মাটি।
ওরা বেজন্মা বেশ্যার দালাল ওদের ক্ষমা নাই আমার দু:খিনী বাংলায়।

ওরা উদ্ভাস্তু , পুনর্বাসিত হয় কোন ক্ষমতান্ধ সেনানায়কের অবিমৃষকারীতায়
সুউচ্ছ টিলায় আগুনের ফুলকিতে কিংবা পাহাড়ের খাদে
কিংবা বন্দুকের নাকের ডগায় মানব ঢাল হিসেবে
মৃত্যুদূত তাড়া করত নিয়ত
নিদ্রাহীন রাত কাটত যাদের সেনা পাহাড়ায়
কিংবা আতঙ্কে কাটে দিন শান্তিবাহিনীর অতর্কীত হামলায়।

তারাই আজ জমিদার সাজে শান্তিচুত্যির বদান্যতায়
তারাই আজ মালিকানা খুঁজে আমার পাহাড়ি কন্যার গাঁয়।
ওরা গ্যাং রেপ করে হিংস্র কায়দায়
মা-বাবার সামনে কাপড় খোলে পাশবিক উন্মাদনায়।
ওরা কি মানুষ নাকি জানোয়ার
ক্ষত বিক্ষত করে আমার পবিত্র উদার জমিন সোনার বাংলায় ?

পাকি জান্তা আর দোসর গনিমতের মাল বলে
আমার মা-বোনের দেহকে যারা কুবলে খেয়েছে
তারা পাকিস্থান রক্ষা করতে পারেনি
পাকিস্থানে যারা সংখ্যালঘু শুন্য করে
শান্তির নিশান উড়াতে চেয়েছিল
সেখানে আজ বোমার চাষ হয় সংখ্যালঘু শুন্য ঘরে।
তরতাজা গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয় মসজিদ মাদ্রাসায়।

আফগানিস্থানে বৌদ্ধ মুর্তি ধ্বংস করে যারা শান্তি আনতে চেয়েছিল
তাদের শিশুরা জন্ম নেয় আজ বারুদের গন্ধে।
প্যালাস্টাইনি শিবিরে হামলা চালিয়ে যারা শান্তি প্রতিষ্টা করতে ছেয়েছিল
তাদের শিশুদের আজ ঘুম ভাঙে মিশাইল হামলার শব্দে।

হে প্রিয়তমা স্বদেশ আমি আজ শঙ্কিত এই ভেবে
রোহিঙ্গারা আজ মানব বোমা বানায় আমার পবিত্র মাটিতে
স্থানীয়রা আজ নির্ঘুম রাত কাটে তাদের শঙ্কায়
তারা যদি মেতে উঠে স্থানীয় নিধন যজ্ঞে
প্রকৃতির অমোঘ নির্মম বিচারে ?

প্রকৃতি তুমি দ্বিধা হও, শান্ত হোক বাংলার বুক
ধর্ষকেরা নিপাত যাক, আমার সোনার বাংলায়।

ছবিটি প্রতীকী। এটি ২০১২ সনের। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

মোট পড়েছেনঃ ১১২২জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৩টি মন্তব্য

    1. আইনের বিকল্প নাই
      কঠিন কঠোর প্রয়োগ চাই।
      কেস সাজায় যারা
      উকিল মোক্তার তারা
      মুখরোচক গল্প ছেড়ে
      শাস্তির নিশ্চয়তা করা।
      একটাই হোক ধর্ম
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  1. মেয়েদের যেমন দোররা মারা হতো ওদের ও সবার সামনে উলঙ্গ করে দোররা মারা উচিত, পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়া উচিত । এ ছাড়া আর কোন শাস্তি তে এদের শিক্ষা হবে বলে মনে হয় না। ফাঁসি হলে ওরা অনুধাবন করতে পারবেনা কতটা কষ্ট পায় ধর্ষিতা। সারাজীবন বেঁচে থেকে সেই যন্ত্রণা ভোগ করার শাস্তি দিতে হবে। ভালো থাকবেন দাদা

    1. সহমত দিদি।
      মধ্যপ্রাচ্য আদলে বিচার করা উচিত।
      তখন আবার ভয় হয়
      গ্রাম্য মোড়ল আদলে সমঝোতার নামে
      আবার সব ধামাচাপা পড়ে যায় কিনা।
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  2. প্রকৃতি তুমি দ্বিধা হও, শান্ত হোক বাংলার বুক
    ধর্ষকেরা নিপাত যাক, আমার সোনার বাংলায়।

    ধর্ষণের মহামারী হতে রেহাই নেই কোন জাতিরই হোক সে নৃ-গোষ্ঠি ।আমরা এর শেষ দেখতে চাই-চাই স্থায়ী সমাধান। কবিতা পড়ে দেহ মনে কাটা দিয়ে উঠল।দারুণ লিখেছেন প্রিয় কবি।

    1. সহমহ। এ বিকৃত রূচির মানুষ রূপী
      দানব দের থেকে দেশ ও জাতির মুক্তি চাই।
      ধর্ষক তোদের রেহাই নাই আমার সোনার বাংলায়।
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  3. ইদানিং দেশে ধর্ষন বেড়েই চলছে। কোন সভ্য জাতি ধর্ষনকে সমর্থন করে না। আমরা ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এরা সমাজের কেউ নয়।
    আপনার কবিতায় সেটা ফুঁটে উঠেছে।

    1. সহমত ভাইজান।
      যতদিন এই বিকৃত রূচীর মানুষ রূপী জানোয়ার গুলোকে চিড়িয়াখানায় পুনর্বাসন করলেই ধর্ষন কমতে পারে।
      ভালো থাকবেন। শুভ কামনা।

  4. এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ৭১ এ মা বোনের সম্ভ্রমহানী করার যে বীজ বপন করেছে তা আজ শেকড় গেড়ে বসেছে। জড় সহ উপড়ে ফেলতে না পারলে আমাদের মা বোন কেউই নিরাপদ নয়।

    পাহাড়ের মানুষের এই খবরটিতে চরম ব্যথিত হয়েছি। এদেশের আইনে ধর্ষকও মানবাধিকার প্রাপ্তির অধিকার রাখেন। প্রকাশ্যে যেদিন সাজা হবে সেদিনই ধর্ষণ কমবে।

    ভালো থাকুন দাদা।

    1. ঠিক তাই ভাইজান।
      যেদিন থেকে ঢাবি ছাত্রী নুর ও সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে আইনের আশ্রয় চাইলেন।
      খ্যাতনামা আইনজীবি আর NGO ব্যাবসায়ী পাশে থাকার অভয় দিলেন। সেদিন থেকে ধর্ষন বেড়ে গেল।
      আর মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হলো ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
      MC কলেজে বার বছর ধরে ছাত্রলীগের কোন কমিটিই নেই।
      কেউ বলছে না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও যুবলীগ নেতা দুলাল ধর্ষকদের আইনের হাতে তুলে দিল।
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  5. শানিত কলমে লিখেছেন নির্যাতিতার যন্ত্রণা। পাহাড়ি হোক বাঙালি হোক প্রতিটি নারীর জন্য এর চেয়ে বর্বর নির্যাতন আর কিছু হতে পারেনা। কঠোর আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হোক এবং ঘরে ঘরে ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা হোক। সবার সুবোধ জাগ্রত হোক।
    আমি আমরা আমাদের মেয়েরা নিরাপদে বাঁচি এটাই প্রত্যাশা।
    বরাবরের মতোই ভালো লিখেছেন দাদা

    1. সহমত আপু। মানুষের বিবেক বোধ জাগ্রত না হলে
      এই অভিশাপ থেকে মুক্তি নাই।
      মা বোনের উপর অত্যাচার মেনে নেয়া যায় না।
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  6. প্রকৃতি তুমি দ্বিধা হও, শান্ত হোক বাংলার বুক
    ধর্ষকেরা নিপাত যাক, আমার সোনার বাংলায়।***
    প্রকৃতি যদি সব কিছুর বিচার করত?তাহলে বিবেক কেন দিয়েছে?
    আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে দাদা।
    শুভ কামনা। শুভ সকাল।

    1. সহমত আপু।
      আইনের কঠোর প্রয়োগ আর বিবেক বোধ যদি ব্যর্থ
      হয়। প্রকৃতি অমোঘ নিয়মে প্রতিশোধ নেয় বা আল্লাহ বা স্রষ্টা বিচার করে।
      ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।