সেদিন ছিল মঙ্গলবার।হররোজ কালবিলম্ব করে ঘুম থেকে উঠে অভ্যস্ত দীপনকে উঠতে হল তার নিয়ম বিরুদ্ধ ভোরেই।তার বাবুর চাপাচাপিতে ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা শেষ করতে হল চটজলদি।এমন সাতসকালে কি আর দীপন সেধে সেধে উঠে! সেদিন থেকেই তার স্পোকেন ইংরেজি ক্লাস প্রারম্ভ হয়েছিল।সিডিউল সকাল ৭-৯ টা।পোষাক পড়ছে আর বকুনি বাবুকে দিতে না পেরে নিজেই নিজেকে দিচ্ছে!বাবুকে বড্ড ভয় তার। তার এই স্পোকেন ইংরেজি ক্লাস করতে অনিচ্ছার কথা বাবুকে মুখ ফুটে বলতে পারছিল না।তাই মায়ের কাছে যত আবদার সব ঢেলে দিচ্ছিল!কিন্ত স্নেয়ময়ী মা সেদিন আর বরফের মত গলতে পারলেন না।তিনিও যেন ক্ষানিকটা কঠোরতার ভান করলেন ছেলেকে মাষ্টার বাড়ি পাঠানোর ছলে!পিঠ চাপড়িয়ে অভয় দিতে লাগলেন দীপনকে।কি এমন হল যে বাবু,মা দুজনেই তার এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই তাকে আবার বইয়ের স্তুপে ঢাকতে চাইলেন!কি এমন হল যে তাকে তার আয়েশী বড় মামার মত মধ্য দুপুর অব্দি তাকে ঘুমুতেও দিবেন না বাবু আর মা!এমন সব  রাজ্যের চিন্তা সম বিরক্তি মুখে ফুটিয়ে তুলে দীপন তার বাবুর সাথে পথচলা শুরু করল মাষ্টার মশাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে।স্যার অনেক বড় মাপের মানুষ,অনেক নাম-ধাম,অনেক পরিচিতি,রিটায়ার্ড প্রফেসর এমন ডজন প্রায় বিশেষন নামের পাশে বসিয়ে বাবু দীপনকে আগ্রহী করতে চেয়েছিলেন সানন্দে।তাকে স্যারের বাসায় পৌঁছে দিয়ে মিষ্টি আদর দিয়ে ফিরতে উদ্যত হলেন।সেখানে বড় সাইনবোর্ডে বড় হরফে লিখা “TENNYSON SPOKEN ENGLISH SCHOOL” দীপনের দৃষ্টিগোচর হল সর্বপ্রথমেই। তার বিরক্তির আগুনে সেই সাইনবোর্ড যেন আরো ঘি ঢেলে দিল!১০ বছরের স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে বড় ভাইদের সাথে মেশার সুযোগ করে না দিয়ে বাবু আবার স্কুলেই কিনা ভর্তি করাতে চাইছেন! মনের ডাকে পশ্চাৎপদ হতে উদ্যত হয়েও বাবুর রাগী বদন চোখে ভেসে উঠায় হতে পারল না দীপন।সিড়ি ভেঙে তিন তালায় উঠতে উঠতে তার ব্যাচের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদেরও দেখতে পেল।মনে খটকা তৈরি হল ক্লাস রুমে ঢুকে! বিভিন্ন বয়সের ছেলে,মেয়ে,যুবক,যুবতী সেখানে একাট্টা হয়ে ইংরেজি ভাষায় আড্ডায় মজেছে!সেটা তাদের হাস্যরস উদ্দীপক অঙ্গভঙ্গি দেখে বুঝতে পারল দীপন।সে বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছিল সেখানে।ফুলের ওই জলসায় সে যে কেবল নতুন কুড়ি সম।হঠাৎ স্যার এসে প্রবেশ করলেন ক্লাসরুমে। আর সবাই দাড়িয়ে সম্মান জানাতে লাগল স্যারকে।ইতস্তত দীপন স্যারের কর্ণ কুহর পর্যন্ত না পৌছায় এমন শব্দে “আদাব” বলে অভিবাদন জানাল।সফেদ পাঞ্জাবি আর সুশ্রী ফ্রেমের চশমা পড়া স্যার ঠিকই বুঝে নিলেন নিউ কামারের নার্ভাসনেস! স্যার ইংরেজিতে দীপনকে বললেন,”Stand up,my dear student.Feel easy & feel as like you are now at home.What’s your name & where are you from?

অপ্রস্তুত দীপনের যেন মাথার উপর দিয়েই গেল এই ছোট ছোট বাক্যে স্যারের ইংরেজি কথন!দীপনের নার্ভাসনেস আরো যে বাড়তে লাগল এত সব ছাত্র ছাত্রীদের উৎসুকভাব জোড়া চোখের চাহনিতে!এই স্কুল আর তার হাই স্কুল যে বিসদৃশ তার বেশ ঠাহর হল মনে মনে।

যখন লজ্জ্বায় লাল হয়ে যাচ্ছিল দীপন,তখন উদার, ছাত্রপ্রাণ স্যার সবাইকে বললেন,You all senior students speak one another basing on your daily dairies.I have got 2 new comers in my class today.

They are Dipon & Dipa.They will speak each other.

ব্যাচের নতুন ছাত্র-ছাত্রী দীপন আর দীপাকে স্যার নিজের কাছে নিয়ে বসালেন নার্ভাসনেস ছাপিয়ে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে।দীপার নার্ভাসনেসের বরফ গলতে লাগল কিন্ত দীপন যে দীপার দীপ্তিতে হারিয়ে যেতে বসল গন্তব্যহীন অজানার চোরাগলিতে!স্যার পরম মমতায় ভাষা শিক্ষার যে বেসিক বিষয়াদি বুঝিয়ে ছিলেন দুজনকে বিশেষভাবে,দীপা হয়তো অনেকটাই ক্যাচ করতে পেরেছিল সেই মঙ্গলবারে।কিন্ত দীপনের কি হয়েছিল সেদিন! অতঃপর ক্লাস শেষ হল,সবাই নীড়ে ফেরা পাখির মত ফিরতে লাগল,দীপাও অজান্তে এক রাশ মুগ্ধতা এনে দিয়ে দীপনকে ছেড়ে বাড়ি ফিরতে উদ্যত হল।দীপনও উদ্যত হল তবে এবারও যে মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে!

৩০৩জন ১৮৪জন
16 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য