প্রচন্ড ব্যাক পেইন নিয়ে শুয়ে বসে ঈদ করতে হচ্ছে। আশেপাশের সবাই মহা বিরক্ত। কাজ না করলে খেতেও দেয় না এমন অবস্থা! তবে আমার তা নিয়ে মোটেও মাথা ব্যথা নেই। একগামলা দই নুডুলস নিয়ে বসে গেলাম মুভি দেখতে। মাথা কুল রাখতে রোমান্টিক কোনকিছু দেখা দরকার।

“সানাম তেরী কাসাম” অসাধারণ প্রেমের একটি মুভি। ‘তু খিচ মেরী ফোটো তু খিচ মেরী ফোটো’ এ গানটিতে নেচে থাকবেন অনেকেই সেই মুভি। ২০১৬ সালের হলেও এখনও নতুনের চেয়েও হাইরেটেড মুভি।

গানের লিঙ্কঃ

পরিচালক; রাধিকা রাও এবং বিনয় সাপ্রু

অভিনয়ে; হর্ষবর্ধন , মাওরা, মুরলি শর্মা প্রমুখ

Imdb rating; 7.4।

রেটিং বলে দিচ্ছে মুভিটি লোকে ধন্দুমার খেয়েছে। মুভির কাহিনী যেন চিরাচরিত বাংলাদেশী সামাজিক ব্যধির চিত্রায়ন। বড় বোন বা ভাইকে বিয়ে না দেয়া পর্যন্ত পরের জনের বিয়ে ভাবাই যাবে না।

মুভির শুরুতেই দেখা যায় হর্ষবর্ধনকে, পেশায় তিনি একজন উকিল। বিরাট বড় মাপের কেস জিতে যাওয়ার পরই তিনি চলে যান তার স্ত্রীর সমাধীতে। ব্রেইন টিউমারে তার স্ত্রীর বিয়ের মেহেদি হাতে নিয়েই মৃত্যু হয়।

হার্সবর্ধন কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান কিন্তু ৮ বছর জেল খেটে ফেরত। থাকেন সাধারন সোসাইটির ধার করা এক বাসায়। সকাল বিকেল নারী আর মদ যার পেশা।

ওই সোসাইটিতে বাস করা মাওয়া হোকানে (স্বরস্বতি সরোজ ওরফ সুরু) আনস্মার্ট, চাশমিস, আন্টি টাইপ। পরিবারে তার বিয়ে এক জটিলতা। নবমতম রিজেকশানে সে কিছুটা হতাশ। এদিকে ছোট বোনের যার সাথে বিয়ে হবার কথা সে আর অপেক্ষা করতে রাজী নয়। এ নিয়ে বোন তাকে নানা কটু কথা শোনায়। কেন সে কাউকে নিজে পছন্দ করতে পারেনি।

সরোজও কাউকে ভালোবাসে, তারও ক্রাশ আছে। তাইতো তার জন্য কমেডি ভালু সাজতেও সে দ্নিধা করেনা। অপমানিত হয়ে ফিরে আসার সময় হর্ষবর্ধন এর সাথে লিফটে আটকে যায়। এভাবে দুজনের জানাশোনা, কিন্তু  সাক্ষী কিছু খারাপ সময়।

ট্যাটুম্যান কখন যে আন্টিটাইপ মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়। সে নিজেও জানেনা এবং প্রেমিকার সাথে ব্রেকআপ করে ফেলে। সরোজ বোনকে কথা দেয় খুব তারাতারী সে নিজের ব্যবস্থা নেবে। স্মার্ট হবার জন্য ব্যকুল হয়ে সাহায্য নিতে যায় হার্সবর্ধনের কাছে। সে যেন তার সোমবারের গার্লফ্রেন্ডকে বলে সরোজকে স্মার্ট বানিয়ে দেয়।

গার্লফ্রেন্ড সরি বলতে এসে দুজনকে একসাথে দেখে খেপে যায় ও বোতল ছুঁড়ে মারে। প্রচন্ড অসুস্থ হওয়ায় সরোজ তাকে ছেড়ে যেতে পারে না। সোসাইটির লোকজন সরোজের বাবাকে নিয়ে এসে দেখিয়ে দেয়, মেয়ে ভোরবেলা থেকে এ বাসায় আছে। তিনি মেয়েকে ত্যাজ্য করেন এবং তার ভোজনে সবাইকে নিমন্ত্রণ দেন।

হার্সবর্ধন টাইপ, ছেলেরা আর কিছু না পারুক কারও পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করে না। সরোজকে সাহায্য করতে থাকে। এভাবে গল্প তৃমূখী প্রেমের দিকে এগিয়ে যায়। বিয়ে হতে হতেও শেষ পর্যন্ত তা হয় না। সে কাউকে না জানিয়ে দুরে চলে যায়, কারন তার ব্রেইন টিউমার, যা কেমো দেওয়াও সম্ভব নয়।

খারাপ ভালো যে কোন দোয়া দিনে একটা কবুল হয়। শেষ পর্যন্ত বাবার দোয়া কবুল হয় হয়তো। বাবা মা প্রেমিক, স্বামী সব হবার পরও জীবন বলে আমি তোমার নই!!! ত্যাগী এক প্রেমিকের বলিদান দেখতে থাকুন,,,

মুভিতে আমার পছন্দের ডায়ালগ, ” দুনিয়া জ্বালানে কে লিয়ে দো শব্দ কাফি হ্যায়, এক সরি, এক আই লাভ ইউ। ভালোবাসলে চটপট বলে ফেলুন আর ভুল করলেও সরি বলুন!!

 

মুভি লিঙ্কঃ

https://m.facebook.com/Avijog.bd/videos/208271520756013/?extid=NS-UNK-UNK-UNK-IOS_GK0T-GK1C-GK2C&ref=sharing

২৪৮জন ৪৩জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ