রাজকন্যার স্বপ্নে রাজপুত্র (পর্ব-৫)

সুরাইয়া নার্গিস ৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৯:৪২:৪০অপরাহ্ন গল্প ৫ মন্তব্য

রাজকন্যার স্বপ্নে রাজপুত্র (পর্ব-৫)

প্রধান শিক্ষক হেসে বললেন। স্যার চলুন পাশেই প্রাথমিক স্কুল ফারিনকে ভর্তি করিয়ে দিবেন বলেই প্রধান শিক্ষক চেয়ার ছেড়ে ওঠে দাঁড়ালেন।জামান সাহেব হেসে বললেন আপনি বসুন, আমি একটু দরকারে মেয়েকে নিয়ে আসছি।ফারিনের স্কুল পাশের সার্টিফিকেট সহ সব কাগজ পত্র এগিয়ে দিলেন। সার্টিফিকেট দেখে প্রধান শিক্ষকের চোখ কপালে ওঠল স্যার ফারিনের বয়স কত? জামান সাহেব হেসে বললেন স্যার ৮ বছর ৫ মাস চলছে ☺️ভেরি গুড স্যার, সরি বুঝতে পারি না। ইট’স ওকে বলেই জামান সাহেব ফারিনের স্কুলে ভর্তির গল্পটা বললেন সবার সাথে পিয়নও হাসল।ফারিনের দ্বিতীয় শিক্ষা জীবন শুরু বাবা অফিসের জন্য স্কুলে নিয়ে যেতে পারেন না। মা স্কুল শিক্ষিকা তারও সময় নেই কাজের লোক আছে ফারিন তার সাথে যাবে না।জামান সাহেব,জান্নাত আলোচনা করে দুজনের একজন চাকরি ছাড়তে হবে।জান্নাতের পরিবার বললো সরকারী চাকরি ছাড়া যাবে না তবু অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো জান্নাত চাকরি ছাড়বে।

তাই হলো সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে জান্নাত স্কুল ছেড়ে দিল। ফারিনকে স্কুলে দিয়ে আসা, স্কুল শেষে বাসায় নিয়ে আসা এটাই হয়ে গেল জান্নাতের নতুন চাকরি।ফারিন মন দিয়ে পড়াশোনা করে ফাস্ট হয়, খেলাধুলা ছবি আঁকা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়।ফারিনের সামনে ফাইনাল পরীক্ষা সাথের বাসায় বাচ্চাদের পড়াশোনার আওয়াজে মাথা রাখা যায় না আর এদিকে ফারিন বাবা মায়ের সাথে টিভি দেখে। ফারিন মেধাবী বই বের করে চেয়ে দেখে তাতেই পড়া শেখা হয়ে যায এসব নিয়ে জামানের টেনশন নেই।ফারিন ক্লাস সেভেন পড়ে এক রাতে স্বপ্ন দেখে “ফারিনের বান্ধবী মিমির সাথে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে, হঠাৎ মিমি চিৎকার করে ডাকলো। ফারিন দেখ এই ছেলেটার সাথে তোর বিয়ে হবে, ফারিন চমকে ওঠল পিচনে ফিরে দেখে একজন সুদর্ষন যুবক দাঁঁড়িয়ে আছে। ফারিন তাকাতেই সে মুচকি হাসল, ফারিন দ্রুত হেঁটে বাড়ি ফিরে আসলো, তারপর ঘুম ভেঙ্গে গেল।রাতেই ফারিন বাবা,মাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে স্বপ্নের কথা বললো।জান্নাত হেসে বললো রাজকন্যা স্বপ্ন মানেই স্বপ্ন আমরা ঘুমের মাঝে দেখি এসব অবাস্তব কল্পনা। যাও ঘুমিয়ে পড়ো, ফারিন এবার বাবার ঘুম ভাঙ্গিয়ে স্বপ্নটা বললো।জামান সাহেব হা হা হা করে হাসলো আর বললো ওই বেটার সাহস কত..!  আমার রাজকন্যাকে বিয়ে করতে চায়.?আমার রাজকন্যার বিয়ে হবে কোন এক রাজপুত্রের সাথে যে পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চড়ে আসবে।ফারিন হাসতে হাসতে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল,জামানও হাসিতে যোগ দিল।বাবা,মেয়ের কান্ড দেখ.?মাঝ রাতে এলাকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গাবে ততক্ষনে নওরিনের ঘুম ভেঙ্গে গেল।কি আর করার যাও এখন দুই মেয়েকে নিয়ে গল্প করো আমি ঘুমালাম বলেই জান্নাত শুয়ে পড়লো।

ফারিনের বয়সের তুলনায় বেশ লম্বা,চাওড়া হয়ে গেল, সুন্দর মায়াবী চোখ সবাইকে আকৃষ্ট করতো। মোটকথা ওই বয়সেই বিয়ের প্রস্তাব আসতো যেটা ছিলো হাস্যকর ছেলে পিএইডি করা প্রফেসর। জান্নাত চাইত ফারিনের এত কম বযসে এত ভালো বিয়ের প্রস্তাব আসছে, তাহলে পাকা কথা দিয়ে রাখি ফারিনের পড়াশোনা শেষ হলে বিয়ে দিব।জামান বললো মেয়ে বড় হোক বিয়ের চিন্তা পরে করবো ফারিন খুশি। বিয়ে বুঝার বয়স তার হয়নি তবে এতটুকু বুঝছিলো বাবা,মাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। দাদুমনি জানতেন অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কুফল তাই তিনি চান না এই বয়সে ফারিনের বিয়ে হওক।ফারিন পড়াশোনায় ভালো লেখাপড়া করে বাবার মতো বড় অফিসার হবে। না হয় মায়ের মতো স্কুল শিক্ষিকা সমাজের অবহেলিত মানুষের সেবা করবে।একদিন বাবার হাতের নখ কাটতে গিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলে ফারিন। তারপর হাসপাতালে নেওয়া হলো সেদিন ছিলো শুক্রবার। ইমারজেন্সি বিভাগে একজন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন তিনিই ফারিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায পাঠালেন।

পরদিন জামান সাহেবকে হাসপাতাল থেকে ওই ডাক্তার ফোন দিলেন তার একমাত্র ছেলের জন্য ফারিনকে চায়। ছেলে ডাক্তার কিন্তু ফারিন সোজা বলে দেয় ওই স্বপ্নের রাজপুত্র ছাড়া সে কাউকে বিয়ে করবে না।ছেলের বাবা জামানের কাছে ফারিনকে ভিক্ষা চায় কিন্তু জান্নাত ফারিনকে রাজী করাতে পারে না।ফারিন বলে আমি বিয়ে করবো না জোর করে বিয়ে দিলে সুইসাইড করবো, জামান বিয়েটা ভেঙ্গে দেয়।ফারিন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে পড়াশোনায় বেশ ভালো, স্কুলের সকলের চোখের মনি,সবাই তাকে ভালোবাসে।নওরীনও লিখতে, পড়তে শিখেছে তাই জামান নওরীনকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিল।ফারিন একই স্বপ্ন আবার দেখে, সেই চোখ,সেই নাক,সেই মুখ সেই ছেলেটা। ছেলেটা ফারিনের কাছে এসে জানায় সে ফারিনকে ভালোবাসে, বিয়ে করবে।ফারিন হেসে বলে আব্বু আমার রাজপুত্রের সাথে বিয়ে দিবে,সে পঙ্খিরাজের ঘোড়ায় চড়ে আমাকে নিয়ে যাবে। ছেলেটা জানায় জামান সাহেবকে বলো সিয়াম পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চড়ে আসবে আমাকে নিতে। ফারিন বুঝতে পারে তার স্বপ্নের রাজপুত্রের নাম সিয়াম, ফারিন অনুভব করে সিয়ামের জন্য তার মায় লাগে।

ফারিন আমি যাই তবে আবার আসবো, তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করবে বলেই সিয়াম অন্ধকারে হারিয়ে যায়। সিয়াম, সিয়াম বলে মাঝ রাতে ঘুমের মাঝে চিৎকার করে ওঠে ফারিন। জামান, জান্নাত তাড়াতাড়ি ফারিনের রুমে আসে, দেখে ফারিন চুপচাপ বসে আসে।জামান প্রশ্ন করে কি হয়েছে রাজকন্যা.?ফারিন কিছুই বলে না চুপ করে থাকে।জান্নাত ফারিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, আচ্ছা তাহলে তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।ফারিন জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলো আম্মু ওই স্বপ্নটা আবার দেখেছি।জামান অবাক হয় সেই স্বপ্ন মানে! ফারিন তুমি কোন স্বপ্নের কথা বলছো প্রশ্ন করে জান্নাত।আম্মু যে ছেলেটা আমাকে স্বপ্নে বলছিলো বিয়ে করবে?সেই রাজপুত্র আজ রাতেও আমার স্বপ্নে আসছিলো, বলছে সে আবার আসবে।মেয়েটা মনে হয় সত্যি, সত্যিই পাগল হয়ে গেল ভেবেই আজাদের মনটা খারাপ হয়ে গেল।জান্নাত আর ভাবতে পারে না,একই স্বপ্ন বার বার দেখা এটাও কি সম্ভব! জামান প্রশ্ন করে ওই স্বপ্নের রাজপুত্রের নাম কি.? আব্বু ওই রাজপুত্রের নাম সিয়াম।ওরে বাবা! সে কি পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চড়ে আসছিলো বলেই হা হা হা হা হাসলেন জামান সাহেব।

আম্মু দেখনা আব্বু আমাকে নিয়ে মজা করছে বলেই ফারিন মায়ের বুকে মাথা রাখল। তুমি যাও আমি ফারিনকে ঘুম পাড়িয়ে আসবো বলেই জান্নাত ফারিনের পাশে….!

….চলবে।

২৮৭জন ২২৪জন
4 Shares

৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য