শুভ জন্মদিন সোনেলা ব্লগ

কৃতজ্ঞতা পোস্ট।
আমি ছোটবেলা থেকেই বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে, খাতার অর্ধেক পেইজে বানিয়ে বানিয়ে গল্প,কবিতা লিখতাম আবার ফুল, পাখির,গাছ,ঘর ছবি আঁকতাম।
এমনও হয়েছে যে পরীক্ষায় খাতায় বানিয়ে প্রশ্নের উওর লিখতাম,পিচনের খালি পেইজ সুন্দর ছবি এঁকে রাখতাম নাম্বার ভালোই পেতাম কারন আমি রিডিং পড়ে উওর লিখতাম নোট ফলো করতাম না।
একদিন স্কুলের স্যার আব্বুকে ডেকে পাঠালেন, সেদিন ভয়ে ছিলাম। পরে জানলাম স্যার আব্বুকে বলছে আমি খুবই মেধাবী ছাত্রী বানিয়ে প্রশ্নের জবাব দেই।ক্লাসে বানিয়ে গল্প বলি, ভালো ছবি আঁকি তারা ভীষণ খুশি আমার প্রতিভা দেখে, আমাকে যেন ঢাকা কোন আর্ট কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন।
আর লেখালেখির দিকে নজর রাখেন হয়ত নিজের পরিচয়ের একটা জায়গা তৈরি হবে।
আব্বু সেদিন খুব খুশি হয়েছিলেন মেয়ের প্রতিভায় গর্বিত বাবা হিসাবে বলছিলেন আর্ট কলেজে ভর্তি করবেন কিন্তু পরবর্তীতে তা হয়ে উঠেনি।তবে এখনো ছবি আঁকি নিজের মনের রং তুলিতে কোন কাগজে নয় হৃদয়ের বিশাল খাতায় আর লেখালেখি সেটা অব্যহত ছিলো সব সময়।তারপর ২০১৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে আমার লেখার প্রতিভা ডালপালা গজালো নিয়মিত লিখতাম, বিভিন্ন গ্রুপে আমার আইডিতে।নিজের পারিবারিক কথা গুলো,প্রতিদিন ঘটে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো সাজিয়ে লিখতাম ফেইসবুকে খুব ভালো লাগতো।কোন একটা গ্রুপে লিখে পরিচয় হয় শ্রদ্ধেয় ব্লগার এস.জেড বাবু ভাইয়ার সাথে।তারপর শ্রদ্ধেয় ব্লগার ইকরাম জিসান মোঃ শামসুল(জিসান শা ইকরাম) ভাইজান এর ফ্রেন্ডলিস্টে এড হই তিনি আমাকে তাঁর সোনেলা ব্লগ ফেইসবুক গ্রুপে এড করে দেন।একদিন বাবু ভাইয়া বললেন সোনেলা ব্লগ গ্রুপে আপনার লেখা পোস্ট দেন আপনি অনেক ভালো লিখেন হয়ত কয়েক মাস লিখলে ব্লগে লেখার সুযোগ পেয়ে যাবে।তারপর ৮মার্চ ২০২০ সালে নারী দিবসে ” আমার মা” নামক আমার মাকে নিয়ে একটা পোস্ট দেই।
লেখাটা এত সুন্দর ছিলো ১ঘন্টায় অনেক লাইক,কমেন্টস আসে (সবাই পুরনো ব্লগার পরে চিনছি) আমি আবেগাপ্লুত, প্রতিটা কমেন্টস উৎসাহিত করেছে আমাকে সেখানে শ্রদ্ধেয় ব্লগার এম ইঞ্জা ভাইজান একটা কমেন্টস করলেন।
ওনাকে এই গ্রুপে কে এনেছেন? ম্যানশন করলেন শ্রদ্ধেয় ব্লগার এস.জেড.বাবু ভাইকে আমি ভয়েছিলাম কি ভুল করছি জানার জন্য।৫মিনিটে রিপ্লে করলেন বাবু ভাই আমি এনেছি,কেন ভাইজান?
এম ইঞ্জা ভাইজান বললেন ইনি এত ভালো লেখেন আমিসহ সব ব্লগার মুগ্ধ। ওনাকে আমাদের সোনেলার মূল ব্লগ সাইডে লেখার আমন্ত্রণ জানান প্লিজ।রিপ্লে দেখে আমার চোখে পানি চলে আসলো একে একে ৭/৮ জন ব্লগার কমেন্টস করলো সুরাইয়া নার্গিসকে আমাদের মূল ব্লগ সাইডে লিখতে হবে।
তারপর বাবু ভাই আমাকে সোনেলা ব্লগে আইডি খুলে দিলেন,বাবু ভাইয়া কিভাবে ব্লগে ঢুকতে হবে,লিখতে হবে,তার স্ত্রিনসট আমাকে দিয়ে শিখালেন আর জিসান ভাইয়া তো পিচ্ছি মেয়েটাকে নিজের সন্তানের মতো নিয়মিত বুঝাতেন, শেখাতেন বলতেন ছোট আপু আপনি পারবেন চেষ্টা করুন।
যখন আমি হতাশ ছিলাম ব্লগে লিখতে পারার এত ধের্য আমার নেই,বার বার ভুল করতাম ভাবতাম লিখবো না তখনও দুজন মানুষ বিশ্বাস রেখেছিলো আমার প্রতি সুরাইয়া নার্গিস আপনি পারবেন।
তারপর ব্লগে আসলাম দেখলাম, লিখলাম আর জয় করে নিলাম প্রতিজন শ্রদ্ধাভাজন ব্লগার পাঠকদের হৃদয়,প্রথম অবস্থায় সবাই আমাকে এত ভালোবাসলো,উৎসাহিত করলো মনে হয়েছিলো কত যুগের চেনাজানা।
“হাসি” গল্প দিয়ে সোনেলা ব্লগে লেখা শুরু “ভালোবাসার গল্প” দিয়ে সবার হৃদয়ে জায়গা পাওয়া যে গল্পটা ৯৭৪বার শেয়ার হয়েছিলো।তারপর আর পিচনে ফিরতে হয়নি উপন্যাসঃ- আমি তোমার জন্য এসেছি”১-৭৪ পর্বে সমাপ্তি আরাফ প্রিয়াকে হয়ত এখনো ব্লগবাসী মিস করে আমিও করি। ব্লগে জনপ্রিয় উপন্যাসটি ২০২১সালে অমর একুশে বইমেলায় “আমি তোমার জন্য এসেছি” শ্রদ্ধেয় ব্লগার এস.জেস. বাবু ভাইয়ার একান্ত প্রচেষ্টায় মলাট বন্ধ হয়ে পাঠকের হাতে চলে যায়। আলহামদুলিল্লাহ তা সফলতার মুখ দেখেছে পাঠকেরা এখনো ফোনকলে, মেসেজে বলে আপু উপন্যাসটা পড়ে কেঁদেছি,কখনো হেসেছি এত সুন্দর উপন্যাস জীবনে প্রথম পড়লাম। অনেকের কাছে গল্পের আরাফ,প্রিয়া জীবন্ত মানুষ, কয়েকমাস আগে একজন ফেসবুকে পোস্ট করলো আমার উপন্যাস পড়ে ভাগিনার নাম রাখছে আরাফ, গতকাল একজন মেসেজ করলো তার ছেলে হয়েছে নাম রেখেছে আরাফ । এর থেকে বুঝা যায় আমার লেখা মানুষের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিয়েছে। জীবনে সবচেয়ে আনন্দিত হই এমন খবরে, প্রথম উপন্যাসের সফলতাম পর আমার দ্বিতীয় একক উপন্যাসঃ- এক জোড়া পায়েল। আশাকরি পাঠকমহলে জায়গা করে নিবে সবাই দোয়ায় রাখবেন।
এতক্ষণ যা বললাম আমার সব সাফল্যার মূলে রয়েছে সোনেলা ব্লগ,সোনেলার সকল ব্লগার আজ যখন কোন অনুষ্টানে কথাসাহিতিক,লেখিকা,কবি নানা পদবীতে সুরাইয়া নার্গিসকে আমন্ত্রণ জানানো হয় আমি উচ্চস্বরে বলি এই পরিচয় সোনেলা ব্লগ আমাকে তৈরি করে দিয়েছে।
আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো সোনেলার প্রতি,সোনেলা আমার প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ দিয়েছে,সোনেলা আমার নতুন পরিচয়ের জায়গা তৈরি করে দিয়েছে।
ভালোবাসি সোনেলা ব্লগ তুমি আমাকে দু হাত ভরিয়ে দিয়েছো কিন্তু আফসোস তোমাকে কিছুই দিতে পারিনি,ইনশাল্লাহ জীবনের বাকি পথটুকু তোমার হাত ধরেই চলতে চাই এতটুকু সুযোগ দিও।
শুভ জন্মদিন সোনেলা ব্লগ,তোমার সাফল্য কামনা করছি।
তোমার মাধ্যমে আমার মতো শত, হাজার কথাসাহিত্য,লেখক,কবির জন্ম হোক সাহিত্য জগৎ বিচরণ করুন তোমায় জয়গান 🤲


৭টি মন্তব্য
আপনার এতো সুহৃদ আমার হিংসে হই। আমি ভালো লিখতে পারিনা বলে তবে গর্ব্বোধ করি আপনার মতো একজন ভালো ব্লগার সোনেলায় আছে। সোনেলাকে কতটুকু ভালো বাসি জানিনা তবে এইটুকু জানি সমসবয় সোনেলায় থাকি।
সোনেলা তুমি জাগ্রত লেখায়, সোনেলা তুমি জাগ্রত সকল ব্লগারের ছানিতে, সোনেলায় তুমিই সবাই প্রিয় ধান সিঁড়ির তীরে প্রিয় জননীরুপে।
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইল ভাইয়া।
সোনেলা ব্লগে যাদের উৎসাহ,সহযোগীতা স্নেহের ছায়া পেয়েছি আপনিও তাদের একজন।
আমার লেখায় আপনাদের সুন্দর, সুন্দর মন্তব্যগুলো আমাকে ভালো লিখতে সাহায্য করতো প্রতিনিয়ত,আপনাদের ভালোবাসা না পেলে কবেই হারিয়ে যেতাম।
আপনাদের মতো গুনীজনেরাই আমার লেখার উৎস, আপনাদের জন্যই আমি লেখিকা পরিচয় পেয়েছি।
দোয়ায় রাখবেন ভাইয়া, এভাবেই যেন সোনেলার সাথে এক পরিবারে থাকতে পারি, আপনাদের থেকে কিছু শিখতে পারি।
আপনি অনেক ভালো লিখেন পড়ে ভাবি, আমি কেন এত সুন্দর উপমায় লিখতে পারিনা তবে চেষ্টা করি লেখার।
সোনেলার জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইল ভাইয়া।
জয়তু সোনেলা ব্লগ
সোনেলার কাছে আমরা সবাই কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আপনাকে অনেকদুর নিয়ে গেছে। আপনার উপন্যাসের সময় আমি নতুন ছিলাম। এবার বইটি অবশ্যই কিনে পড়বো।
আমার বইতো ভাই চলেনি। তাই আর সাহস হয় না বের করার। যাদের গিফট করেছি তারাও খুলে দেখেছে কিনা সন্দেহ।
শুভকামনা। চালিয়ে যান। আর নতুন যেটি বের হচ্ছে সেটি তো ব্লগে দেননি তাইনা?
শুধু শুভেচ্ছা জানাই
নিয়মত সাথে থাকুন
তাহলেই সোনেলার
জন্মদিন প্রতিদিন হবে!
শুভ জন্মদিন প্রিয় সোনেলা /
সোনেলা ভালো থাকুক সবসময় শুভ কামনা //
শুভ হোক সোনেলার আগামীর দিনগুলো।
শুভ জন্মদিন