যদি আমার ভাষায় বলি- কবিতা বলতে কী? কবিতা বলতে কেবলেই অনুভব ও শব্দের সংমিশ্রণে  কবির নিজস্ব একটা খেলা। সেই খেলা কবি যেভাবেই পারে খেলে। তবে পাকা খেলোয়াড় হতে হলে প্রতিনিয়ত ভাবতে হয়, ভাবতে হয় পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, আপনজন নিয়ে এবং ভাবনার যাতাকলে যা যা ঘুরপাক খাচ্ছে তা নিয়েই ভাবতে হয়।
যৌথ কাব্যগ্রন্থ  “নির্ঝর শব্দের ঢেউ” কবি আরজু মুক্তা (আপু)’ র  সম্পাদনায় অনেক কবি তাঁদের কবিতায় অনুভব আর শব্দ নিয়ে খেলেছেন। আমি কবি আরজু মুক্তা আপুর স্ব-রচিত দুটির কবিতার পোস্টমর্টেমে সেই খেলার ধারাপাত বর্ণনা করার চেষ্টা করছি। কবিতা দুটির শিরোনাম-
                                 ক. বিমূর্ততা
                                 খ. নদী ও নারী
প্রথমে “বিমূর্ততা” নামক কবিতায় খেয়াল করলে বুঝা যায় কবি দুটি চরিত্র দাঁড় করিয়েছেন। সেই চরিত্র দুটির কথোপকথনে, উপমার মাধ্যমে জাগতিক ইচ্ছের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন-
                      ষষ্ট ইন্দ্রিয় চৌচির
                      ক্রমশ; তুমি কাছে আসলে
                      হঠাৎ যেনো থেমে গেলো সব।
 বুঝতে পারি……… তোমার স্পর্শ।
আবার একই কবিতায় কবি শেষ দুটি লাইনে চরিত্রের পবিত্রতা বর্ণনা করেছেন এভাবেই–
                         প্রতিফলনে চাঁদটি আজ ফ্যাকাশে
                         স্বপ্ন ভরা রাতটিও, বিমূর্ত ।
দ্বিতীয়ত “নারী ও নদী” নামক কবিতায় কবি এখানে গল্প না বললেও তুলনামূলক ভাবনার খেলা খেলেছেন। নদীর রূপ বর্ণনা করে অবশেষে নারীর রূপ ও মায়ার সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন। কবির ভাষায়–
                             নদী তো নারীর মতন
                             সোহাগের ফেনা ছড়ায়;
                             তাঁর স্তব্ধতা অবাধ, অতল-
                                          রহস্যাবৃত ।
সুতরাং, বলতে হয় আমি কবির কবিতার শত বিশ্লেষণ করলেও এর রহস্য উন্মোচন হয় না, বরং কবিতা পাঠকের অনুভবেই বেশি অনুধাবন যোগ্য।
১১৭জন ২জন
0 Shares

১১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ