বাপির চলে যাওয়া

নীলাঞ্জনা নীলা ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, রবিবার, ০১:৩১:১৫অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৬ মন্তব্য

ভিডিও কলে “বাপি”, ” বাপি” দু’বার ডাকতেই চোখ মেললো বড়ো বড়ো করে। আমি ভাবলাম বাপি ঠিক হয়ে গেছে। দেখি চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো, তারপর চোখের পাতা বুজে গেলো। তখনও ভাবিনি বাপি আর নেই। বাপিকে বলতাম, একটুও ভেবোনা আমার কোলেই তোমার মৃত্যু হবে। আমার কোলে মৃত্যু হয়নি বাপির। কিন্তু চোখের সামনেই বাপির চলে যাওয়া দেখলাম। সবাই ফোন রাখতে বলছিলো, আমি রাখিনি। ডাক্তার এলো, বললো, জানলাম, তারপর… নাহ আমি একটুকুও কাঁদিনি।

একমাস আগেও বাপি বলেছিলো, “তুই আয়। তুই আইলেই আমি সুস্থ হই যাইমু।” আমি আসিনি, আসতে পারিনি। সেই এলাম, বাপি নেই। বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠে, তার চেয়ে বেশি যন্ত্রণা হয় তখন, যখন মামনির শূন্য সিঁথি দেখি। এ জীবনে এমন একটি দৃশ্য চোখের সামনে আসবে, ভাবিনি। বাপি ছাড়া জীবন, সেও কি ভেবেছি? এই শমশেরনগর তো বাপিকে দিয়েই। টানটা যেনো কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা। বাসায় ঢুকে বিছানাটার দিকে চাইনি একবারও সেদিন। শ্মশানে গিয়ে দেখি বাপি শুয়ে আছে। আমায় দেখে হাসেনি, কাঁদেওনি। নীলা বলে ডাকেওনি। আমি এগিয়ে গেলাম, আগের মতোই কপালে, গালে চুমু দিলাম। কতোকাল পর বুকে মাথা রাখলাম। বাপির তবুও ঘুম ভাঙেনি। এতো গভীর ঘুম! মনে মনে ডাকলাম, বাপি, ও বাপি ওঠো। এই দেখো আমি এসেছি। পায়ে ধরে আদরও দিলাম। নাহ বাপি আর উঠলো না।

নিজের হাতে পুড়িয়েছি বাপিকে। জানতাম বাপি বেশিদিন আর থাকবে না। তবুও কেন জানি মানতে পারিনা। একমাস একদিন হয়ে গেলো, তাও মেনে নিতে পারছিনা বাপি আর নেই। মামনিকে কখনো সিঁদুর আর শাঁখা ছাড়া দেখিনি। শূন্য ওই সিঁথিটা দেখে বুক মুচড়ে ওঠে। এ যে কতোটা যন্ত্রণার! ওহ ভগবান এ কী করলে তুমি! জীবনে প্রথম শ্মশানে যাওয়া, এভাবে, উফ! মুখাগ্নি মেয়েরা করেনা, আমি করেছি। মামনিকে রঙিন শাড়ী পরতে বাধ্য করেছি। কপালের লাল টিপটাও খুলতে দেইনি। মামনি-বাপি কোনোদিন ছেলে-মেয়ে ভাগ করেনি। সমাজের নিয়মকে তাই মানিনি। এখন শুধু প্রার্থনা আমার মামনি বেঁচে থাক। বৃক্ষের একটা ডাল থাকুক, আশ্রয়হীন যেনো না হই। আমার মামনির জন্য সবাই প্রার্থনা করবেন যেনো বেঁচে থাকে অনন্তকাল আমার জন্য।

সিংড়াউলি, শমশেরনগর
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং।

★জানিনা কবে নিয়মিত হতে পারবো ব্লগে। অনুভূতিটা শেয়ার করে একটু হাল্কা হবার জন্যই লিখলাম। সবাই ভালো থাকুন।

৮৯৬জন ৮৬৩জন
6 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ