পর্বতকন্যের ইতিকথা

প্রদীপ চক্রবর্তী ২ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ০৯:১১:৪৪অপরাহ্ন উপন্যাস ১৬ মন্তব্য

#পর্ব_৫৬

হোটেলঘর আমার বড্ড অপছন্দের। ফ্লাটবাড়িতেই থেকে অভ্যস্ত। কিন্তু আমি নিরুপায়। তাই আপাতত কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এসব ভেবেচিন্তে কবিতা না লিখে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম আসছে না।জানালা দিয়ে দেখছি গভীর রাতের শহর দিল্লী।
পুরো শহর ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আলোকিত।
আছে শহর জুড়ে প্রেমের মরশুম আছে হাজারও স্মৃতি। তবে এই দুই থেকে আমি ভিন্ন। ভিন্ন হলেও দিল্লী আমার কাছে কলকাতার ন্যায় আরেক তিলোত্তমা নগরী। এ যে ঘুম ভেঙ্গে যায় গভীর রাতে নিদ্রাবিহীন আঁধার ঘরের কোন এক শ্রাবণে।
রাত্রির শেষ প্রহর,কাক ডাকা ভোর শহর জুড়ে বৃষ্টি নামছে। সূর্যরথ মেঘের ফাঁকে তাই বৃষ্টিস্নানে নগর মাতে।
ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। সকালের খাবার টেবিলে হাজির। সুজি,লুচি,ডিম ভাজি আজ ছুটি তাই সাথে গরম গরম খিচুড়ি। খাবারদাবার প্রতিদিনের ন্যায় আজও বেশ ভালো। বৃষ্টির দিনে এসব খাবার আমার কাছে বেশ প্রিয়। কলকাতা থেকে দিল্লী। শীতকালে এতো ঘনঘন বৃষ্টিপাত আমি কখনো আর দেখি নাই।
আজকের অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাতে কোথাও বের হওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। আজ সভাকবি নিত্যানন্দ রায়ের আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে উনার বাড়িতে যাওয়ার কথা। তবে এই বৃষ্টিতে কেমন করে যাই। অবশেষে ঠিক করে নিলাম বৃষ্টি কমে গেলে বেরিয়ে পড়ব নিত্যানন্দ রায়ের বাড়িতে।
বেলকুনি থেকে ফিরে গেলাম রুমে। আজ দিল্লী আসার তিনদিন হলো। পার্বতীর সাথে কথাবার্তা হয়নি। লেখা হয়নি তার জন্য কিছু কবিতা। তাই ভাবলাম হেমন্তের বৃষ্টিভেজা সকালে পার্বতীকে নিয়ে কবিতা লেখি।

স্পর্শতার অনুভবে মরসুমি ভরা খামে লিখে যাচ্ছি কবিতা…
পার্বতী তুমি বৃষ্টি হলে আমি চাতক হব।
মরুভূমির তৃষাতুরে ক্লান্ত হয়ে ঘুরব শুধু তোমার বৃষ্টি নামার অপেক্ষায়।
নিদারুণ পিপাসা আর শহর জুড়ে পুড়ামাটির ধোয়া
শহরের বুকে নামুক একবার ভালোবাসার বৃষ্টি।
আমি ক্লান্ত হয়ে হেমন্তের বারিধারায় ভিজব।
তুমি বৃষ্টি হয়ে আমায় ভেজাবে।
আসুক না সর্দি জ্বর তা কি তুমি যে আমার বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসার উপক্রম।
জানো
কতদিন কত প্রহর কত শীত বসন্ত পেরিয়েছে শুধু তোমার অপেক্ষায়।
হেমন্তের অঝোর বারিধারায় কখনো তোমাকে নিয়ে ভিজিনি।
তুমি একবার না হয় বৃষ্টি হয়ে আমায় ভেজাও।
সকাল থেকে হেমন্তের বারিধারা আর বৃষ্টিভেজা ভরদুপুরে চলো না বৃষ্টিতে ভেজে আসি।
এই হেমন্তে তোমাকে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে চলে যাব কোন এক সমুদ্রপারে। সেখানে তুমি মেঘ হয়ে বৃষ্টি ঝরাবে আর পোড়ামাটির ক্লান্ত শহরের বুকে এনে দিবে শান্তি সুধাবারি।
জানো পার্বতী আমি এতদিন ভোরের শিশিরজলে ভেজেনি শুধু তোমার অপেক্ষায়।
তুমি বৃষ্টি হবে আর আমি তোমার সাথে ভিজব।

তুমি বৃষ্টি হলে এই হেমন্তে আমি তোমার কবিতা হব।
তোমাকে ঘিরে আমার অজস্র কবিতা।
তোমাকে নিয়ে আমার অজস্র স্বপ্ন।
তুমি যে আমার বৃষ্টি ভেজা ষোড়শী।
তুমি যে আমার অন্তর্যামী।
স্পর্শতার অনুভব উৎসর্গ প্রিয়তম পার্বতীর জন্য।।

সকাল গড়িয়ে শুভ মধ্যাহ্ন। বৃষ্টির কমতি নেই। কি করি।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে নিত্যানন্দ রায়কে কথা দিয়েছি। তাই রেনকোট পরে অটোরিকশা করে বেরিয়ে পড়লাম সভাকবি নিত্যানন্দ রায়ের বাড়িতে। সেখানের অতিথিপ্যায়ানে আমি মুগ্ধ।
সন্ধ্যা নামছে শহরের বুকে। রাখালিয়া বাঁশি থামছে। ফিরছে নবীন রাখাল আপন ঘরে। দেরি না করে পুনরায় ফিরে এলাম দিল্লীর পার্কভিউ হোটেলে।

#পর্ব_৫৭

শহরে বৃষ্টি নেই। আকাশে তারার আনাগোনা। চাঁদের গায়ে কুয়াশা ডাকা প্রেম জমেছে। সত্যি বেশ সুন্দরম্।
রাতের চাঁদ দেখতে দেখতে পার্বতীর কথা ভাবতে লাগলাম।
যখন নতুন এলাম পার্বতীর ভাবাঞ্চলে-
গল্প,কবিতা,উপন্যাস ইত্যাদি ইত্যাদি আমার বেশ প্রিয়।
পার্বতীর সাথে প্রথম দেখা এবং কথা বলাতে কিছু কবিসাহিত্যিকের ভাবগাম্ভীর্যতা রয়েছে।
তাই পার্বতীর ট্রাইমলাইন দেওয়ালের এপাশ ওপাশ দেখতে লাগলাম-
বাহ্ ভালোই তো লিখে👌

রীতিমত পড়তে লাগলাম তার ভাবগুলো।
এত সুন্দর হয় মানুষের মনের ভাবগুলো?

ছন্দের মাঝে যেন মোহ ছিলো,
আমায় আবদ্ধ করছিলো যেন কোন এক টানে-
ছন্দ গুলোর মাঝে আমি আমার আপনাকে ভুলে যেতাম।
খুঁজে পেতাম যেন কোন এক স্বর্গীয় নগরীতে।

অপেক্ষায় থাকতাম পরবর্তী
গল্প,উপন্যাস ও কবিতার আগমনের।

একসময় মনে হলো আমি বোধহয় প্রেমে পড়েছি অপরিচিত সাহিত্য প্রেমী পার্বতীর।

যদিও
নতুন শহর সকলকিছু অজানা অদেখা তাই তাকে জানা হয়নি আমার পুরোটা।

এরপর
তার দেওয়ালে পুরোনো পাতার কবিতা গুলো পড়তে লাগলাম-
মাঝে মাঝে দীপ নামের কেউ একজন সামনে আসতো,
খুব রাগ হতো!
ভাবতাম ইশশ! ও যদি আমি হতে পারতাম।

আবার ভাবতাম –
ছেলেটা অনেক ভাগ্যবতী বটে।
যে এমন একজন কবির কবিতা হতে পেরেছে।
হতে পেরেছ উপন্যাসের নায়ক।

আমি কল্পনা করতে লাগলাম-
আমিও কারো দীপ হবো-
কারো কবিতা হবো-
কারো ভালোবাসার পাত্র হবো।

আমি উচ্চাভিলাষী নই –
আমি চাই তার কলমের ছোঁয়ায় ছন্দ হবো,ছন্দ থেকে কবিতায় রূপ নিবো,
তার হাতে হাত রেখে প্রকৃতি দেখবো,
পাশাপাশি বসে উষ্ণ আলোয় চাঁদ দেখবো।
আঁধারে বসে গল্প করবো।
আমি তার উপন্যাসের নায়ক হবো।

বাড়তে থাকলো ভালোবাসার মোহনীয়তা। আর এ মোহনীয়তা কি আমাদের একি বন্ধনে গ্রথিত করবে?
হাজারো স্বপ্ন।
হাজারো ভালোবাসা পার্বতীকে নিয়ে।

তাকে নিয়ে ভাবতাম এ জন্মে শিশিরসিক্ত কুয়াশা আর পরজন্মের অন্তর্যামী আরাধ্য রূপে।
আমি চাই তৃষিত অধিবাস আর নিশিযাপনে প্রেমাবিষ্ট হয়ে রহিব তার পানে দিবস রজনীর শেষে।
পিব প্রেমবারী অর্গলিত চেতনার বিলাসে,
বেসেছি ভালো তারে ঘনশ্যাম রূপে।
পার্বতীর কবিতা,গল্প,উপন্যাসে ব্যবহৃত দীপ নামটা আজও আমাকে অনুসরণ করছে।
তাই পার্বতী ভালোবেসে আমায় নাম দিয়েছে দীপ।

১৪৭জন ৯জন
37 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য