নৌ দুর্ঘটনা আর কত!

হালিমা আক্তার ৪ মে ২০২১, মঙ্গলবার, ১২:০২:৪৯পূর্বাহ্ন সমসাময়িক ১৮ মন্তব্য

সাধারনত রমজান মাসে সকালে টিভি দেখা হয়না। নিউজ দেখার জন্য টিভি অন করতেই ব্রেকিং নিউজ–মাদারীপুরের শিবচরে বালুবোঝাই বাল্কহেড এর সাথে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জনের মৃত দেহ উদ্ধার। ৫ জন জীবিত উদ্ধার। নিখোঁজ আরো কয়েক জন। পরিসংখ্যানের হিসাব মেলাতে পারলাম না। সাধারণত এই রুটে চলাচলকারী স্পিডবোট গুলোতে ১৮ থেকে ২০জন যাত্রীর আসন থাকে। দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে কিভাবে স্পিডবোট গুলো চলাচল করছিল তা বোধগম্য নয়।

করোনা ভাইরাস সংক্রামক রোধে বাংলাদেশে যে লকডাউন চলছে তার অংশ হিসাবে  স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ থাকার কথা। প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এর অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছিল। যা দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হতে পারে।

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় সাবিত আল হাসানকে কার্গো ধাক্কা দিলে প্রায় ৩৫ জন যাত্রীর সলিল সমাধি ঘটে।

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট ২৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায় পিনাক – ৬। ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রায় ৫০  জনের অধিক যাত্রীর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০০৩  সালের ৪ জুলাই ঢাকা থেকে ভোলা লালমোহনগামী এম ভী  নাসরিন-১  চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ডুবে যায়। ধারণা করা হয় অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই এর কারণে লঞ্চের তলা ফেটে গিয়েছিল তা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আযহার রাতে চাঁদপুরের নিকট মেঘনা নদীতে জলকপোত এবং রাজহংসী নামে দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ দুর্ঘটনায় রাজহংসী নামের লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়। সরকারি হিসাব মতে সলিল সমাধি ঘটে ১৬২ জন যাত্রীর। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীর মতে লঞ্চে যাত্রী ছিল প্রায় ছয় থেকে সাতশ ।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে দক্ষিণ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ চলাচল করার মাধ্যম নৌপথ। যখন কোনো দুর্ঘটনা হয় তখন মামলা হয়, তদন্ত কমিটি হয়। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে কিনা জানা হয় না। আমাদের দেশের নৌ-দুর্ঘটনার  অন্যতম কারণ গুলো হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেস বিহীন নৌযান।

প্রতিবারের মতো এবারও মামলা হবে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। হয়তো তা আবার নদীর পলি মাটিতে চাপা পড়ে যাবে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?

 

ছবি- নেট থেকে।

 

১৫২জন ১জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য