গ্রামের নাম সুংসাংপাড়া

কামাল উদ্দিন ৮ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৯:৩০:৩৮অপরাহ্ন ভ্রমণ ১৬ মন্তব্য

রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরপুর পাহাড়ি মানুষগুলোর জীবন । ওদেরকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাওয়া বা ওদের গ্রামে একটি রাত্রি যাপন করার মাঝে অনেক রোমাঞ্চ আছে । সুংসাং পাড়া তেমনি একটি গ্রাম । এটি কেওকারাডাং এর একেবারে পায়ের কাছের একটা গ্রাম । রুমা থেকে রওয়ানা হয়ে বগালেক ও কেওকারাডাং পর্বত পার হয়ে ২০/২৫ মিনিট হাটা পথে পাসিং পাড়া, যা বাংলাদেশের সব চেয়ে উঁচু গ্রাম । পাসিংপাড়া থেকে খুবই বিপদজনক খাড়া পথে ঘন্টা খানেক নামার পর পথ প্রায় সমান্তরাল, সব মিলিয়ে ঘন্টা দু’য়েকের পথ হাটলে পৌছে যাবেন সুংসাং পাড়ায় । আকাশ-কুয়াশা-মেঘ- পাহাড়-ঝরনা-বন-নীল-সবুজ পানি, পাহাড়িদের জীবন আর রহস্য-রোমাঞ্চ-ভয় সব যদি একবারে পেতে চান, তাহলে চলে আসুন সুংসাং পাড়ার মতো নির্জন পাহাড়ি কোন গ্রামে । আসুন দেখি আমার ক্যামেরায় সুংসাং পাড়াকে………


(২) এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চুড়া কেওকারাডাং এর উপর দাঁড়িয়ে তোলা এই ছবির মাঝখানে মেঘের নিচের গ্রামটাই সুংসাং পাড়া। মানে দুই পাশে দুইটি খাড়া পাহাড়ের মাঝখানের নিচু ভুমিতে অবস্থিত একটি গ্রাম।


(৩/৪) কেওকারাডাং চুড়ার আগের ও বর্তমানের দুটি ছবি। একবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওখানে গিয়েছিলো বলে এই চূড়ার রূপটা এমন পাল্টে যায়।


(৫) মেঘ সরে গেলে কেওকারাডাং চূড়ায় দাঁড়িয়ে সুংসাং পাড়াকে যেমন দেখায়।


(৬) উপর থেকে তোলা সুংসাংপাড়া আর্মি ক্যাম্প এর ছবি এটা।


(৭) কেওকারাডাং পাড়ি দিয়ে সুংসাং পাড়ার দিকে ১০/১৫ মিনিটের পথ নেমে এলেই বাংলাদেশের সব থেকে উঁচু গ্রাম পাসিংপাড়া পরবে। পাসিংপাড়া থেকে সোজা সামনের দিকে এগিয়ে গেলে প্রশস্ত ঢালু পথটা চলে গেছে জাদিপাই পাড়া আর বাম দিকের বিপদজনক সরু পথটা ধরে নেমে গেছে সুংসাংপাড়ার দিকে। আমাদের গন্তব্য বাম দিকের বিপদ সঙ্কুল সরু পথটা। পাসিংপাড়া নিয়ে আমার একটা পোষ্ট আছে “মেঘের উপর বাড়ি”


(৮) এমনিতেই বিপদ জনক সরু পথ, তার উপর এই প্রাণীগুলো সব সময় আমাদেরকে তটস্থ করে রাখছিলো।


(৯) তবে পথের মাঝে এমন সফেদ ফুলগুলো আমাদেরকে স্বাগত জানাতেও কার্পণ্য করেনি এতটুকু।


(১০) কেওকারাডাং চূড়া থেকে রওয়ানা দেওয়ার প্রায় দুই ঘন্টা পর আমরা পৌছে গেলাম সুংসাং পাড়ার দোড়গোড়ায়।


(১১) পাহাড়ি গ্রামের এমন সুন্দর রূপ দেখে আপনি ফেলে আসা পৃথিবীকে ভুলে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।


(১২) পেটে প্রচন্ড ক্ষুদা, নুডুলসের সাথে স্যুপ, আহ কি অমৃত । আজো সেই খাবারের স্বাদ মুখে লেগে আছে যেনো।


(১৩) পাহাড়ি মাটির মানুষগুলো এতো সহজ সরল, তাদের সাথে না মিশলে তা বুঝাই না।


(১৪) সুংসাং পাড়ার মা ও শিশু।


(১৫) ওদের গৃহ পালিত শুকর গুলো নিয়ে মজার কাহিনী আছে। রাতে ঘুমোবার আগে জানতে পারলাম এই গ্রামে টয়লেট নামে কিছু নেই। শুনে ওদের প্রতি আমার একটা নেতিবাচক ধারণা হলো। বিশেষ করে আমাদের সাথে মেয়েরাও রয়েছে বলে ভাবনাটা একটু বেশীই ছিলো। কিন্তু ওটাই যে বিরাট চমক তা টের পেলাম সকাল বেলা। ভোর বেলা প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়ার জন্যে আমাদের মধ্য থেকে যেই বদনা হাতে নেই অমনি শুকরের পাল পিছু নেয়। ভয়াবহ ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত শুকরের ভয়ে এক হাতে লাঠি অন্য হাতে বদনা নিয়ে কাজটা সারতে হয়েছে। কিন্তু ওখান থেকে ওঠে আসার পর ওদের সেকি প্রতিযোগিতা, তা সত্যিই দেখার মতো।


(১৬) ওখানে ওদের পানির কোন সমস্যা নাই, দুই পাশেই উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা দুরের কোন পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে পাইপ লাগিয়ে ওরা নির্ধারিত স্থানে কল বসিয়ে নিয়েছে, যা থেকে অবিরত পানি পড়তে থাকে।


(১৭) ওদের উপাসনা গৃহ।


(১৮) সুংসাংপাড়া আর্মি ক্যাম্প নিচে থেকে তোলা ছবি।


(১৯) পরের দিন আমাদের অন্য কোথাও যাওয়ার প্রোগ্রাম, তাই এতো সুন্দর গ্রামে একরাতের বেশী আর থাকা হলো না।


(২০) পাহাড় ঘেরা অরণ্য পরম মমতায় আড়াল করে রেখেছে প্রকৃতির এমন সুন্দর একটি গ্রামকে, ফেরার পথে হাটতে হাটতে ঐ যাদুকরী সৌন্দর্য্য এক সময় পাহাড়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল। কিন্তু এই পাহাড় এই সবুজ পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা সরল মানুষদের গ্রাম আমাকে হাত ছানি দিয়ে ডাকবে। হয়তো আবারো আসবো কিংবা আর আসতে পারবো না, তবু ক্ষণে ক্ষণে তাদের স্মৃতি আমার মনকে আনমনা করবে, বারে বার।

১১৪জন ২৮জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য